আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
102 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম,
1.বর্তমানে দেশের এই তীব্র শীতে আমার নবজাতকের ৭ দিন পূর্ণ হবে। কিন্তু শ্বশুর বাড়ি থেকে চুল ফালাতে দিতে চাইছে না। এক্ষেত্রে আমি চাচ্ছিলাম চুল এর পরিমাণ অনুমান করে স্বর্ন বা রূপা সাদাকাহ করে দিতে। এতে কি সুন্নাহ আদায় হবে?
2. তারা আকিকাও দেরিতে দিতে চাইছে। তা আমি চাচ্ছিলাম গোপনে ওর আকিকা করে দিতে যাতে সুন্নাহ টা আদায় হয়। গোপনে আকিকা কি কোনো এতিমখানা বা মাদ্রাসা বা তালিমে দিতে পারবো?। এতে কি আকিকা আদায় হবে। যেহেতু তারা জানবে না সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে তারা আকিকা হিসেব করে পশু জবেহ করলে তো সেটা আকিকায় গন্য হবেনা এক্ষেত্রে তাদেরকে যে আমি জানাবো না এতে কি আমার গুনাহ হবে?
3. ওর নাম তাসনীম নূর মারিয়াম রাখতে চাচ্ছি। আর ডাকনাম দুয়া রাখতে চাচ্ছি। নামটা ইস্লামিক দৃষ্টিকোণ থেকে কেমন হবে? দুয়া নামটা রাখা কি ঠিক হবে

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
আকিকা করা সুন্নত(সুন্নতে যায়েদা)।আকিকা করলে সওয়াব হবে,তবে ছেড়ে দিলে কোনো প্রকার গোনাহ হবে না। যেমন ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়ায় বর্ণিত রয়েছে
العقيقة عن الغلام وعن الجارية وهي ذبح شاة في سابع الولادة وضيافة الناس وحلق شعره مباحة لا سنة ولا واجبة كذا في الوجيز للكردري.
ছেলে সন্তান এবং মেয়ে সন্তান উভয়ের পক্ষ্য থেকে সপ্তম দিনে আকিকা করা হবে এবং যিয়াফত করানো হবে ও চুল মুন্ডানো হবে।এটা মুবাহ তথা সুন্নতে যায়েদা।সুন্নতে মু'আক্বাদা বা ওয়াজিব নয়।(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-৫/৩৬২)  এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-https://www.ifatwa.info/1755

ইসলামি শরিয়তের যেসব মাসআলা দিন-তারিখ, মাস-বছরের সঙ্গে সম্পৃক্ত; সেগুলো চাঁদের হিসাবে গণনা করতে হয়। সুতরাং শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার ৭ম দিনে আকিকা করতে হলে চাঁদের হিসাব অনুযায়ী করতে হবে। আর চাঁদের হিসাবে দিন-তারিখ সূর্যাস্তের পর থেকেই শুরু হয়। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/62751

জন্মের পর সপ্তম দিন বাচ্চাদের চুল ওজন করে সেই পরিমাণ রূপা সদকাহ করা সুন্নত। সপ্তম দিন বা ৪০তম দিন চুল না কাটলে পরবর্তীতে যেইদিনই চুল কর্তন করা হবে, তখন ওজন পরিমাপ করে সদকাহ করলেও হবে।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/16377


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) বর্তমানে দেশের এই তীব্র শীতে দরুণ নবজাতকের চুল না মুন্ডিয়ে চুলের সমপরিমাণ রূপা সদকাহ করতে পারবেন। এতে কোনো সমস্যা হবে না। 

(২) গোপনে আকিকা দেয়ার প্রয়োজন নাই। প্রয়োজনে দেড়ী করা যাবে। দেড়ী করলেও কোনো সমস্যা নেই। আপনি বরং সদকাহ করে দিবেন।পরবর্তীতে আকিকা করা হবে।

(৩ তাসনীম নূর মারিয়াম রাখতে পারবেন। ডাকনাম দুয়া রাখতে পারবেন।তবে দুয়ার চেয়ে অন্য কোনো নাম রাখলে ভালো হবে।যেহেতু দুয়ার অর্থ হল, আল্লাহর কাছে ডাকা। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...