আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
62 views
in যাকাত ও সদকাহ (Zakat and Charity) by (45 points)
recategorized by
আসসালামু আলাইকুম
১.আমার ছোট ৭মাসের বাবু আছে।।সালাতে দাঁড়ালে অনেক সময় দেখা যায় অনেক কান্নাকাটি শুরু করেছে হঠাৎ। বাসায় সামলানোর কেউ নেই, আমি আর বাবু।অনেক সময় ফরজ সালাতে দাঁড়ালেও এমন হয়।।এমতাবস্থায় অবস্থায় কি সালাত ভেঙে তাকে সামলিয়ে আবার সালাত পড়তে পারবো?? ফরজ সালাত ভাঙার কারণে কি গুনাহ হবে??

২.অনেক সময় বাবুকে নিয়ে কুরআন পড়ার সময় হঠাৎ ওর পা লেগে যায়।।সাবধানে থাকার চেষ্টা করি তবুও অনেক সময় হয়ে যায়।।এতে কি গুনাহ হবে,লাগলে আসতাগফিরুল্লহ পড়ি।

৩. আমার মামা অনেক ঋণগ্রস্থ।লাখ লাখ টাকা ঋণ।কিন্তুবাসা ও কিছু জায়গা জমি এখনো আছে। সারের ব্যাবসা আছে অন্যের কাছে বন্ধক দেয়া, ওখান থেকে টাকা পায় কিনা তাও জানি না।উনার স্ত্রীর কিছু গহনাও আছে সোনা রুপা দুটোই আছে।।সোনা কতটুকু আছে জানা নাই,রুপা মনে হয় ১ ভরির উপরে আছে।এমতাবস্থায় আমার ভাই কি উনাদের বা আমার মামাতো ভাইকে যাকাত দিতে পারবে??

৪. এক মহিলার স্বামী মারা গেছেন।৪টা ছোট বাচ্চা।১পাখি জমি আছে শুনেছি,টুকটাক গয়না যেমন নাকফুল কানের দুল থাকতে পারে, রুপার গলার চেইন।১লাখ টাকা জমা আছে। কিন্তু বর্তমানে তাদের অবস্থা খুব খারাপ। উপার্জনের কেউ নেই।।তাদের কি যাকাত দেয়া যাবে?

৫.কারো যদি যাকাতের টাকা বেশি পরিমাণ হয়,টাকা দেয়া শুরু করেছে কিন্তু পুরোটা একটু দেরিতে আদায় করলে গুনাহ হবে??মানে আস্তে আস্তে দিলে থাকলে যতদিনে সক্ষম হয়।

৬.পোশাকের যাকাত কীভাবে আদায় করতে হবে?
৭.একজনের প্রায় ১০ ভরি গয়না আছে কিন্তু যাকাত আদায় করতে প্রতি বছর হিমশিম খায় অর্থাৎ হাসবেন্ডের আয় থেকে পুরো দেয়া পসিবল হয় না,ধার করতে হবে,দুইবার মার কাছ থেকে টাকা নিয়ে আদায় করেছে।এছাড়া কোন ইনকাম নেই।গহনাও বেচতে দিবে না কেউ তাকে।এমতাবস্থায় স্ত্রী যদি কিছু পরিমাণ স্বর্ণের মালিক তার হাসবেন্ডকে বানিয়ে দেয় আর যতটুকু সামর্থ্য বা সহজ হয় ততটুকু আদায় করে তাহলে কি গুনাহ হবে?

1 Answer

0 votes
by (766,140 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
এক্ষেত্রে নামাজ ভেঙ্গে দেয়া জায়েজ নেই। আপনি যদি এক্ষেত্রে নামাজ ভেঙ্গে দেন, তাহলে আপনার গুনাহ হবে। এমতাবস্থায় নামাজে দাঁড়ানোর আগে তাকে নিজের কাছে বসিয়ে কোন খেলনা বা তার মনে আকর্ষণ জন্মে এমন কোন খাবার দিয়ে রাখতে পারেন। যাতে করে নামাজের টাইমে সে কান্না না করে।

(০২)
কুরআনের অসম্মানী হয়,এমন কোনো কাজ করা যাবেনা।
সেটি আদবের খেলাফ।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: إِنَّ اللهَ يَرْفَعُ بِهٰذَا الْكِتَابِ أَقْوَامًا وَيَضَعُ بِه اٰخَرِينَ

উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা এ কিতাব কুরআনের মাধ্যমে কোন কোন জাতিকে উন্নতি দান করেন। আবার অন্যদেরকে করেন অবনত।

(মুসলিম ৮১৭, ইবনু মাজাহ ২১৮, আহমাদ ২৩২, দারিমী ৩৪০৮, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫১২৫, শু‘আবূল ঈমান ২৪২৮, সহীহাহ্ ২২৩৯।)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি থেকে বর্ণিত রয়েছে।
ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻋﻦ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ( ﺃﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﻳﻨﻬﻰ ﺃﻥ ﻳﺴﺎﻓﺮ ﺑﺎﻟﻘﺮﺁﻥ ﺇﻟﻰ ﺃﺭﺽ ﺍﻟﻌﺪﻭ؛ ﻣﺨﺎﻓﺔ ﺃﻥ ﻳﻨﺎﻟﻪ ﺍﻟﻌﺪﻭ )

রাসূলুল্লাহ সাঃ কুরআন সাথে নিয়ে শত্রু দেশে সফর করতে নিষেধ করেছেন।যাতেকরে শত্রুরা কুরআনকে নিয়ে গিয়ে কোনোপ্রকার অসম্মান না করতে পারে।(মুয়াত্তা মালিক-৫/২,মুসনাদু আহমাদ-২/৬,৬৩, সুনানু নাসাঈ-৮৫,সুনানু ইবনি মা'জাহ২৮৮০)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে বাচ্চার মায়ের উপর তওবা করা আবশ্যক। আল্লাহর কাছে খালেস দিলে অনুতপ্ত হৃদয়ে তওবা করবে, যাতে করে আল্লাহ তায়ালা তাকে মাফ করে দেন এবং ভবিষ্যতে তিনি সতর্ক থাকবেন কোরআন তেলাওয়াতের সময় এভাবে তার বাচ্চা যেন কোনক্রমেই কুরআনের উপরে পা না দেয়, কুরআনের সাথে বাচ্চার পায়ের যেনো কোনো স্পর্শ না হয়।

(০৩)
এক্ষেত্রে আপনার মামিকে তো যাকাত দেওয়া জায়েজ নেই। আপনার মামাকে যদি যাকাত দেন, সেক্ষেত্রে তার থেকে ভালোভাবে জেনে তার সম্পদের যাবতীয় বিবরণ, তিনি কত টাকা ঋণ নিয়েছেন, সেটির যাবতীয় বিবরণ, তিনি কার কাছে কি বন্ধক রেখেছেন সেটির যাবতীয় বিবরণ কমেন্ট বক্সে উল্লেখ করলে ভালো হতো।

(০৪)
প্রশ্ন বিবরণ মতে সেই মহিলা নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক। সুতরাং তাকে যাকাত দিলে যাকাত আদায় হবেনা।

(০৫)
ওযর বশত তো দেরি করলে গুনাহ হবে না। তবে বিনা ওযরে দেরি করলে গুনাহ হবে।

(০৬)
পোশাকের যাকাত আদায় করতে হবে না। তবে যদি সেটি ব্যবসার পণ্য হয়, তাহলে ব্যবসার পণ্য হিসেবে তার যাকাত আদায় করতে হবে।

(০৭)
এক্ষেত্রে সেই স্বর্ণের মালিক যে তার স্বামীকে বানিয়ে দিতে পারবে। এক্ষেত্রে স্বামীর হাতেই স্বর্ণ দিয়ে দিতে হবে এবং সে স্বর্ণে স্বামীর একচ্ছত্র মালিকানা অধিকার দিয়ে দিতে হবে।

স্বামী যখন ইচ্ছা সেই স্বর্ণ যেন বিক্রয় করতে পারে এরকম অধিকার তাকে দিতে হবে।

অন্যথায় মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে কঠিন জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...