জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم
(০১)
হায়েয ও নিফাস ব্যতীত সর্বাবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাস করা জায়েয।
পবিত্র কুরআন ও হাদীসে এ সময়ে সহবাস করতে পরিস্কার নিষেধাজ্ঞা আসছেঃ
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ ۖ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ ۖ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّىٰ يَطْهُرْنَ ۖ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ [٢:٢٢٢]
আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে হায়েয (ঋতু) সম্পর্কে। বলে দাও,এটা অশুচি। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না,যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন উত্তম রূপে পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে,তখন গমন কর তাদের কাছে, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন। [সূরা বাকারা-২২২]
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ أَتَى حَائِضًا، أَوِ امْرَأَةً فِي دُبُرِهَا، أَوْ كَاهِنًا، فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোন ঋতুবতীর সাথে মিলিত হয় কিংবা কোন মহিলার পশ্চাৎদ্বারে সঙ্গম করে অথবা কোন গণকের নিকটে যায়, নিশ্চয়ই সে মুহাম্মাদের উপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা অস্বীকার করে’। [তিরমিযী, হাদীস নং-১৩৫, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৬৩৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৯২৯০]
গর্ভের সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগ পর্যন্ত স্ত্রীর সাথে সহবাস করা যায়; ইসলাম এ ব্যপারে নিষেধ করে নি। আল্লাহ তাআলা বলেন,
نِسَآؤُكُمْ حَرْثٌ لَّكُمْ فَأْتُواْ حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ
তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর। (সূরা বাক্বারাহ ২২৩)
তবে এ নাজুক সময়ে স্ত্রীর শারীরিক-মানসিক সুুস্থতার প্রতি যত্নশীল-দৃষ্টি রাখা স্বামীর কর্তব্য। তাই এই সময়কালে যৌন আসন সম্পর্কে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরী।
যদি এই সময়কালে মিলন নিরাপদ ও সহজ মনে না হয় তাহলে স্বামীর উচিত কিছুদিন ধৈর্য্য ধারণ অথবা এমন হালকাভাবে সংক্ষিপ্ত সময়ে সহবাস করা; যাতে স্ত্রীর কষ্ট না হয় এবং স্বামীরও চাহিদা পূরণ হয়ে যায়।
তবে যে সকল নারীর জরায়ু দুর্বল বলে চিকিৎসকগণ সাক্ষ্য দিবেন তাদের সাথে গর্ভধারণের প্রথম তিন মাস ও শেষ মাসে মিলনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবে। কারণ এতে গর্ভপাত ঘটা বা সন্তানের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
স্ত্রী গর্ভবতী অবস্থায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে সহবাস করলেও যদি বিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক তার/গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হওয়ার আশংকা থাকে,এমতাবস্থায় স্বামী হস্তমৈথুন বা অন্য কোনো ভাবে বীর্যপাত নয়,বরং সহবাসের মাধ্যমে বীর্যপাত করার জন্যই স্ত্রীকে ডাকলে তার ডাকে সারা দেয়া আবশ্যক নয়।
হাদীস শরীফে এসেছেঃ-
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
ألا وَاسْتَوصُوا بالنِّساءِ خَيْراً، فَإِنَّمَا هُنَّ عَوَانٍ عِنْدَكُمْ
শোনো! তোমরা স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার কর। কেননা, তারা তোমাদের নিকট বন্দী। (তিরমিযী ১১৬৩)
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
এক্ষেত্রে বারবার সহবাস করার দরুণ যদি সিজারের সেলাইয়ের কোন ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেক্ষেত্রে স্বামী বারবার সহবাস করবে না।
কিছুদিন বিলম্ব করে সহবাস করবে।
ক্ষতি হওয়ার আশংকা না থাকলে এক্ষেত্রে স্বামীকে বাধা দেওয়া বৈধ হবে না।
তবে যদি বারবার সহবাস স্ত্রীর উপর অনেক কষ্টকর হয়, সেলাইয়ের স্থান ক্ষতি হওয়ার প্রচন্ড আশঙ্কা থাকে, এমতাবস্থায় স্বামীর জন্য পরামর্শ হলোঃ-
যেহেতু এ নাজুক সময়ে স্ত্রীর শারীরিক-মানসিক সুুস্থতার প্রতি যত্নশীল-দৃষ্টি রাখা স্বামীর কর্তব্য। তাই এই সময়কালে যৌন আসন সম্পর্কে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরী।
তিনি কিছুদিন ধৈর্য্য ধারণ অথবা এমন হালকাভাবে সংক্ষিপ্ত সময়ে সহবাস করবে, যাতে স্ত্রীর কষ্ট না হয় এবং স্বামীরও চাহিদা পূরণ হয়ে যায়।
(০২)
এটি স্ত্রীর উপর জুলুমের শামিল।
বিষয়টি সমাধান করার জন্য উভয় পরিবারের মুরব্বিদের নিয়ে স্বামীকে বিষয়টি বুঝালে ভালো হয়।
(০৩)
এই আদেশ মানা জায়েজ হবেনা।
বিষয়টি সম্পর্কে স্বামী খুবই সিরিয়াস হলে
সেক্ষেত্রে পরামর্শ রইলো, স্ত্রী শেষ রাতে তারাবিহ আদায় করবে। পারে যাতে স্বামীর হক আদায় কোন অপূর্ণতা না থাকে।
(০৪)
না,গুনাহ হবেনা।
(০৫)
না,গুনাহ হবেনা।