আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
136 views
in যাকাত ও সদকাহ (Zakat and Charity) by (23 points)
আসসালামু আলাইকুম।

আমরা প্রতি শা'বান মাসে এক বছর হিসাব করে যাকাত আদায় করে থাকি আলহামদুলিল্লাহ। বর্তমানে স্বর্ণ ও রূপার দাম প্রতিদিনই উঠানামা করতেছে। এ অবস্থায় আমরা যাকাতের নিসাব কতো ধরবো? সাড়ে ৫২.৫ তোলা রুপার মূল্য তো বর্তমানে ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকার মতো। তাহলে নিসাব কি এতো বেশিই হবে?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

যাকাত ফরজ হওয়ার পরেও যাকাত আদায় না করলে কঠিন শাস্তি পেতে হবে।
,
হাদীস শরীফে এসেছেঃ
 
عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده أن امرأة أتت رسول الله صلى الله عليه و سلم ومعها ابنة لها وفي يد ابنتها مسكتان غليظتان من ذهب فقال لها ” أتعطين زكاة هذا ؟ ” قالت لا قال ” أيسرك أن يسورك الله بهما يوم القيامة سوارين من نار ؟ ” قال فخلعتهما فألقتهما إلى النبي صلى الله عليه و سلم وقالت هما لله عزوجل ولرسوله

অনুবাদ- আমর বিন শুয়াইব থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিন [দাদা] বলেনঃ এক মহিলা তার কন্যাসহ রাসূল সাঃ এর খিদমতে উপস্থিত হন। তার কন্যার হাতে মোটা দুই গাছি স্বর্ণের চুড়ি [কাঁকন] ছিল। তিনি [রাসূল সাঃ] তাকে বললেনঃ তোমরা কি এটার যাকাত আদায় কর? মহিলা বলেনঃ না। রাসূল সাঃ বলেনঃ তুমি পছন্দ কর যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা এর পরিবর্তে তোমাকে এক জোড়া আগুনের কাঁকন পরিধান করান? রাবী বলেনঃ একথা শুনে মেয়েটি তার হাত থেকে তা খুলে নবী করীম সাঃ এর সামনে রেখে দিয়ে বললঃ এ দু’টি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-১৫৬৩, সুনানুল কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-৭৭৯৯, সুনানুল কুবরা লিননাসায়ী, হাদীস নং-২২৫৮, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-২০০৫}

عن عبد الله بن شداد بن الهاد أنه قال دخلنا على عائشة زوج النبي صلى الله عليه و سلم فقالت ” دخل علي رسول الله صلى الله عليه و سلم فرأى في يدي فتخات ( خواتيم كبار ) من ورق فقال ” ما هذا يا عائشة ” ؟ فقلت صنعتهن أتزين لك يارسول الله قال ” أتؤدين زكاتهن ؟ ” قلت لا أو ماشاء الله قال ” هو حسبك من النار “

হযরত আব্দুল্লাহ বিন শাদ্দাদ ইবনুল হাদ থেকে বর্ণিত। তিন বলেন, আমরা রাসূল সাঃ এর স্ত্রী হযরত আয়শা রাঃ এর খেদমতে উপস্থিত হই। তখন তিনি বলেন, একদা রাসূল সাঃ আমার নিকট উপস্থিত হয়ে আমার তাতে রূপার বড় বড় আংটি দেখতে পান। তিনি বলেন, হে আয়শা! এটা কি? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উদ্দেশ্যে রূপচর্চা করার জন্য তা বানিয়েছি। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি এর যাকাত পরিশোধ করে থাক? আমি বললাম, না অথবা আল্লাহ পাকে যা ইচ্ছে ছিল। রাসূল সাঃ বললেনঃ তোমাকে দোযখে নিয়ে যাওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-১৫৬৫, সুনানে সুগরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-১২৩৩, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৭৩৩৮, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-১৯৭৪, মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নং-১৪৩৭}

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
নতুন দাম অনুযায়ী,আজ (১ ই ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইং) প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের রুপার দাম পড়বে ৭ হাজার ২৯০ টাকা।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৯৪০ টাকা।

১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা।

এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
ওলামায়ে কেরামগণ বলেন রুপার যে দাম ধরলে গরিবের বেশি ফায়দা হয়, সেই দাম  ধরে যাকাত দিতে।

এক্ষেত্রে সর্বনিম্ন রেট ধরারই তারা পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

সুতরাং আজকে নেসাব পরিমান সম্পদের মূল্য দাঁড়াবে 4,432×52.5= 232,680 টাকায়।

আজকের হিসাবে ২ লক্ষ ৩২ হাজার ৬৮০ টাকা হলেই সে বর্তমান নেসাব পরিমান সম্পত্তির মালিক।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (23 points)
উস্তাদ, কেউ যদি সনাতনী হিসেব না ধরে, ১৮ বা ২১ ক্যারেটের রূপার মূল্য অনুযায়ী নিসাব গণনা করে। আর এই নিসাব অনুযায়ী যাকাত ফরয না হওয়ার জন্য যদি যাকাত না আদায় করে তাহলে কি গুনাহগার হবে? আর এই বছর যাকাত ফরয না হলে পরের বছরের হিসাব যখন করবে তখন কি ১ বছরের করবে নাকি ২ বছরের করতে হবে? নিয়ম টা কি?
by (770,460 points)
অনেক ইসলামি স্কলারদের মতে এক্ষেত্রে সে গুনাহগার হবে। পরের বছর যাকাত আদায়ের সময় দুই বছরের যাকাত একত্রে আদায় করবে হবে।

তবে কেউ কেউ বলেন, এক্ষেত্রে সে গুনাহগার হবে না। দুই বছর যাকাত আদায় করতে হবে না শুধু ২য় বছরে যাকাত আদায় করবে। 

মতবিরোধ থেকে বাঁচতে সর্বনিম্ন মানের ক্যারেটের মূল্যকে নেসাব হিসেবে ধরার পরামর্শ থাকবে।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...