আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
87 views
in যাকাত ও সদকাহ (Zakat and Charity) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম, উস্তায আমি সাধারণত যাকাত দেই রমাদানের ২৭ তারিখের দিকে৷ আমার নিসাব কবে পূর্ণ হয়েছে সেটা আমার জানা নেই। তাই রমাদান মাসেই দেওয়া হয়।
এক্ষেত্রে আমার প্রশ্ন হচ্ছে -
১- আমি রমাদানের শুরুর দিকে যাকাত দিতে পারবো কিনা? যেমন- ১৫ রমাদানের দিকে এবং এতে আমার যাকাত পুরোপুরি আদায় হবে কিনা?  (উল্লেখ্য, গত কয়েকবছর ২৭ রমাদানে যাকাত দিয়েছি) ।

২- সৌর বছর আর চান্দ্র বছরের মধ্যে যাকাতের ক্ষেত্রে কোনটি হিসাব করবো? এবং কিভাবে করবো? কমবেশি হলে সমন্বয় করবো কিভাবে?

৩- রমাদানে চাকরি থেকে বেতন এবং ঈদ বোনাস দেওয়া হয়। সেইগুলোর উপরও কি যাকাত ওয়াজিব হবে বা দিতে হবে?
৪- খরচের জন্য হাতে থাকা নগদ টাকার উপর যাকাত আসবে কি?
৫- যাকাতের টাকা নিজের অবিবাহিত ভাই/বোন যারা নিসাব পরিমাণ মালের মালিক নন এবং দরিদ্র, তাদেরকে দেওয়া যাবে কিনা? (বি.দ্র: বাবা তাদেরকে পড়াশোনার খরচ দেন না, সেজন্য পড়াশোনার খরচ বাবদ ভাই হিসেবে আমি যাকাতের টাকা দিতে চাচ্ছি।)
৬- আমার স্ত্রীর নিকট এক ভরির উপর স্বর্ণ গহনা আছে। আর তার মোহর ১,৭০,০০০ টাকা বকেয়া আছে যা আমি পরিশোধ করিনি এখনও। এমতাবস্থায় আমার স্ত্রীর উপর যাকাত ফরয হবে কি এবং সাদকাতুল ফিতর/কুরবানী ওয়াজিব হবে কি?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী স্বর্ণের ক্ষেত্রে যাকাতের নিসাব হল বিশ মিসকাল। -সুনানে আবু দাউদ ১/২২১; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক  হাদীস ৭০৭৭, ৭০৮২
আধুনিক হিসাবে সাড়ে সাত ভরি।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى قَالَا حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُوسَى أَنْبَأَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْمَعِيلَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ وَاقِدٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ وَعَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْخُذُ مِنْ كُلِّ عِشْرِينَ دِينَارًا فَصَاعِدًا نِصْفَ دِينَارٍ وَمِنْ الْأَرْبَعِينَ دِينَارًا دِينَارًا

ইবনু ‘উমার ও ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)  থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি বিশ দিনার বা তার চেয়ে কিছু বেশি হলে অর্ধ দিনার এবং চল্লিশ দিনারে এক দিনার (যাকাত) গ্রহণ করতেন।

ইবনে মাজাহ ১৭৯১ ইরওয়াহ ৮১৩।
দারাকুতনী ১৮৭৯, ১৮৯২।

সাড়ে ৫২ ভরি রুপা হলে তার উপর যাকাত ফরজ। 
হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 
عن أبي سعيد الْخُدْرِي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «ليس فيما دون خمس أَوَاقٍ صدقة، ولا فيما دون خمس ذَوْدٍ صدقة، ولا فيما دُونَ خمسة أَوْسُقٍ صدقة».  
[صحيح] - [متفق عليه]

আবূ সা‘ঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “পাঁচ উকিয়ার কম রৌপ্যমুদ্রায় যাকাত নেই এবং পাঁচটি উটের কমের ওপর যাকাত নেই। পাঁচ ওয়াসাক এর কম শষ্যের ওপর যাকাত নেই।”
(বুখারী,মুসলিম)

শরীয়তের বিধান হলো যদি কাহারো কাছে সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা কিংবা বাণিজ্য-দ্রব্য- এগুলোর কোনোটি পৃথকভাবে পূর্ণ  নিসাব পরিমাণ না থাকে, কিন্তু এসবের একাধিক সামগ্রী এ পরিমাণ রয়েছে, যা একত্র করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয় তাহলে এক্ষেত্রে সকল সম্পদ হিসাব করে যাকাত দিতে হবে।
(মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৬৬,৭০৮১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৩৯৩)

আরো জানুনঃ  

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
(০১)
এক্ষেত্রে আপনার জন্য উচিত প্রবল ধারণার উপর আমল করা।

আপনি আরবি মাস অনুপাতে কোন মাসের কয় তারিখে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছিলেন, প্রবল ধরনের ভিত্তিতে সেটা বের করে সেদিনে যাকাত দেওয়া।

(০২)
আপনাকে চন্দ্র মাস তথা আরবি মাস ধরেই যাকাত আদায় করতে হবে।

এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ভাবে কোন কিছু মনে না থাকলে তাহলে প্রবল ধারণার ভিত্তিতে আমল করবেন।

ফাতাওয়ায়ে শামীতে আছেঃ- 

فتاوی شامی:
"وسببه أي سبب افتراضها ملک نصاب حوليٍّ نسبة للحول...
(قوله: نسبة للحول) أي الحول القمري لا الشمسي كما سيأتي متنا قبيل زكاة المال."
(کتاب الزکاة،ج:2، ص:259 ط: سعید)
সারমর্মঃ-
যাকাত ফরজ হওয়ার কারন হলো নেসাব পরিমান সম্পদের উপর এক বছর পূর্ণ হওয়া অর্থাৎ চন্দ্রমাসের হিসাবে এক বছর। সূর্যের মাসের হিসাবে নয়।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
শরীয়ত যেখানে বছরের হিসাবের কথা উল্লেখ করেছে,সেখানে চান্দ্রমাসের হিসাব অর্থাৎ আরবি মাসের হিসাব উদ্দেশ্য। 
ইংরেজি মাস বা ইংরেজি ক্যালেন্ডারের হিসাব উদ্দেশ্য নয়। 

সুতরাং আপনি যাকাতের হিসাব আরবি মাস অনুযায়ী করবেন।

আরো জানুনঃ- 

(০৩)
আপনার বছর পূর্ণ হওয়ার দিন যে টাকা আপনার মালিকানায় থাকবে, সেটির যাকাত দিতে হবে।

প্রশ্নে উল্লেখিত বোনাসের টাকা যদি আপনার নেসাব পূর্ণ হওয়ার দিন বা তার আগেই পেয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে তারও যাকাত দিতে হবে।

(০৪)
তাহা যদি দৈনন্দিন আবশ্যকীয় জরুরতের অতিরিক্ত হয়, তাহলে তার ও যাকাত দিতে হবে।

অন্যথায় নয়।

(০৫)
হ্যাঁ, তাদেরকে দেয়া যাবে।

(০৬)
এক্ষেত্রে তার মালিকানায় যদি কোন রুপা না থাকে এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন অতিরিক্ত টাকা না থাকে, সেক্ষেত্রে তার ওপর যাকাত ফরজ হবে না, সে ক্ষেত্রে তার উপর সদকায়ে ফিতর  এবং কুরবানীও আবশ্যক হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...