আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
121 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (37 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহ্ উস্তায,

আমি আমার বান্ধবীকে বারবার ক্ষমা করে দিতে চাচ্ছি, পারছিনা। চেষ্টাও করছি তার করা জুলুম, অন্যায় ভুলে থাকতে কিন্তু অন্তরকে বুঝাতে পারছিনা।
মুখে বলতেছি মাফ করে দিয়েছি, আবার কিছুদিন পরে সেই একইরকম হয়ে যাই। আমার ক্বলব সম্পর্কে আমি তো ওয়াকিফহাল!
গত ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে আমি তার করা প্রত্যেকটা অন্যায়, অপমান ভুলে থাকার চেষ্টা করেছি। সে বেচারী নিজেও স্বীকার করেছে, আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছে। আমি তাকে শিখিয়েছিলাম কেউ আল্লাহ'র ওয়াস্তে কিছু চাইলে সেই ব্যক্তিকে ফিরিয়ে দিতে হয়না। সেই কথা মনে রেখে সে বলেছে “আল্লাহ'র ওয়াস্তে আমাকে মাফ করে দিও।” আমি তৎক্ষনাৎ মাফ করে দিয়েছি।

তারপরেও মাঝেমাঝে তার অপমানের কথা মনে করে আমি ভীষণ আবেগী হয়ে যাই। মনে বদদু'আ চলে আসে। যদি সে অন্যায়ভাবে সবার সামনে আমার সম্মান নষ্ট করে থাকে, আল্লাহ তা'য়ালাও যেন তাকে অসম্মানিত করেন।
দুনিয়ার সবাইকে আমি নির্দিধায় ক্ষমা করে দিতে পেরেছি। তাকে কেনো পারছিনা! খারাপ লাগছে। হতাশ লাগছে, আমি মনে হয় ক্বলবুন সালীমের অধিকারী হতে পারলাম না।
১. ভয় হচ্ছে, তার প্রতি এমন ধারনার কারনে লাইলাতুন নিসফ মিন শা'বানের এই রাতে আমি কি আর রহমানের ক্ষমা পাবো?
২. আমিতো তাকে মাফ করে দিতে চাই। মুখে স্বীকার করি। অন্তরকে কিভাবে বুঝাই। অন্তরের এই ধারনার জন্য কি আমি গুনাহগার হবো?

৩. আমিতো তার খারাপ চাইনা আমি কি বিদ্বেষ পোষনকারীদের আওতায় পরবো? আল্লাহ তা‘য়ালা মাফ করেন।

৪. একটা বিশুদ্ধ অন্তর কিভাবে পাওয়া যাবে? যেই অন্তর কোনো ইনসানের প্রতি কষ্ট রাখবেনা, তা কেউ যতো বেশি-ই আঘাত করুক না কেনো।

1 Answer

+1 vote
by (814,710 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
হযরত আবু মুসা আশআরী রাযি থেকে বর্ণিত,
عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ لَيَطَّلِعُ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلَّا لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ»
নবীজী সাঃ বলেন, শা'বান মাসের মধ্যরাতে(তথা ১৫তারিখে) আল্লাহ তা'আলা বান্দাদের প্রতি নিবিষ্ট হন, মুশরিক এবং মুশাহিন ব্যতীত(ক্ষমা প্রার্থী)সমস্ত মাখলুকাত কে ক্ষমা করে দেন।(সুনানে ইবনে মাজা-১৩৯০)এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/4589


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
মুখে মাফ করে দেওয়ার পর অন্তর দিয়ে মাফ করে দেয়ার চেষ্টা যেহেতু করেছেন, তাই অনিচ্ছাসত্ত্বেও মাঝেমধ্যে কিছু মনে পড়ে গেলে এজন্য কোনো সমস্যা হবে না। হিংসা-বিদ্বেষ পোষণকারী হিসেবে গণ্য হবেন না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...