আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
72 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (56 points)
১।আমার ভাই ইউরোপে রেস্টুরেন্টে পিৎজা বানায় তাকে জিজ্ঞেস করি নাই যে হারাম কাজ করে কিনা  আর অন্য সময়ে ঢেলভারি মেনের চাকরি করে। আর তার বউ হোটেলে রোম গোছানোর চাকরি করে। আমার ছোট ভাই আমাকে সৌদি আরবে যাইতে টাকা দিবে এখন আমার যাওয়া জায়েজ হবে কি?

২।জমা দিয়ে দিছি টাকা ব্যাবস্থা করতে না পারলে হারাম টাকায় সৌদি আরবে গেলে কি কবিরা গুনাহ হবে  ইনকাম হারাম হবে এবং ইমানে সমস্যা হবে কি?

৩।ঘুমের জন্য ইশা আর ফজরের নামাজ পড়তে অনেক কষ্ট হয় এটা কি নিফাকের আলামত হবে?

৪।রুখসত কি জায়েজ কাজ?

৫।বেকার হইলে নফল দান না করলে কি কৃপন হবে?

৬।একজনের গাছ থেকে ডাব চুরি করছিলাম তখন তাদের ফ্যামিলির যায়গা জমিন সম্ভবত ভাগ করেনি এমনিতে মনে হয় ভিন্ন খাবার খাইতো  তাদের বড় ভাইয়ের কাছে মাফ চাইছি মাফ হবে কি?   বা এরকম যদি হয় যে চুরি করার পর একসাথে থাকুক বা আলাদা হয়ে যাক বা বড় ভাইয়ের কাছে মাফ চাইলে হবে কি?

৭।দাড়িবান্দা খেলার সময় আমি ইচ্ছাকৃত ভাবে এক মেয়ের বুকে হাত দেই দুইতিন বার সে ঐসময় রাগারাগি করছে তবে বেশি কিছু বলেনাই আরও অনেক খারাপ কথা  জিনার কথা বলছি জিনা  করার প্রস্তাব দিছি শরীরে অনেকবার টাচ করছি  এরপরও তার সাথে সম্পর্ক ভালো ছিলো। এখন তার বিয়ে হয়ে গেছে তার সাথে দেখা হয়নি অনেক বছর তার ছোট ভাইয়ের সাথে মাঝে মধ্যে  দেখাসাক্ষাত হয়। এখন মাফ চাইতে গেলে কে কি ভাবে মাফ না চাইলে হবে কি?

1 Answer

0 votes
by (763,590 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
https://ifatwa.info/25032/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
মদ বিক্রয় করা, অর্থের বিনিময়ে বহন করা অথবা এ ক্ষেত্রে কোন প্রকার সহযোগিতা করা হারাম।
,
হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّه سَمِعَ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ يَقُولُ عَامَ الْفَتْحِ وَهُوَ بِمَكَّةَ : «إِنَّ اللّٰهَ وَرَسُوْلَه حَرَّمَ بَيْعَ الْخَمْرِ وَالْمَيْتَةِ وَالْخِنْزِيرِ وَالْأَصْنَامِ». فَقِيلَ : يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ! أَرَأَيْتَ شُحُومَ الْمَيْتَةِ؟ فَإِنَّه تُطْلٰى بِهَا السُّفُنُ وَيُدْهَنُ بِهَا الْجُلُودُ وَيَسْتَصْبِحُ بِهَا النَّاسُ؟ فَقَالَ : «لَا هُوَ حَرَامٌ». ثُمَّ قَالَ عِنْدَ ذٰلِكَ : «قَاتَلَ اللّٰهُ الْيَهُودَ إِنَّ اللّٰهَ لَمَّا حَرَّمَ شُحُومَهَا أَجْمَلُوهُ ثُمَّ بَاعُوهُ فَأَكَلُوا ثَمَنَه». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন মক্কা বিজয়ের বৎসর, সেখানে অবস্থানকালে আল্লাহ ও তাঁর রসূল মদ বিক্রি, মৃতজীব বিক্রি, শূকর বিক্রি, কোনো প্রকার মূর্তি বিক্রি হারাম করে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! মৃত জীবের চর্বি নৌকায় (বিভিন্ন চামড়াজাত দ্রব্যে) লাগানো হয় এবং লোকেরা তা দিয়ে বাতি জ্বালিয়ে থাকে, তা বিক্রি করা সম্পর্কে আপনার সিদ্ধান্ত কি? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তা-ও বিক্রি করা যাবে না, এটাও হারাম। অতঃপর এর সাথে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ কথাও বললেন, আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহূদী জাতিকে ধ্বংস করুন। নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য যখন (হালাল যাবাহকৃত জীবেরও) চর্বি হারাম করলেন, তখন তারা (অবাধ্য হয়ে কৌশল অবলম্বন করে) তা গলিয়ে বিক্রি করতে লাগলো ও এর মূল্য ভোগ করতে থাকলো। 
সহীহ : বুখারী ২২৩৬, মুসলিম ১৫৮১, আবূ দাঊদ ৩৪৮৬, নাসায়ী ৪২৫৬, তিরমিযী ১২৯৭, ইবনু মাজাহ ২১৬৭, আহমাদ ১৪৪৯৫, ইরওয়া ১২৯০।

যে কোন বিষয়ের ‘হারাম হওয়া’ সাব্যস্ত হলে সে বিষয়ে সহযোগিতা করাও হারাম। যেমন- কোন রেস্টুরেন্টে মদ, মৃতজন্তু, বন্য গাধার গোশত ইত্যাদি পরিবেশন করার কাজ করা।

সৌদি আরবের ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যে সকল হোটেলে শূকরের গোশত, মদ পরিবেশন করা হয় সে হোটেলে চাকুরি করা জায়েয কি না? তারা উত্তরে বলেছেন, এ সকল হোটেলে কাজ করা হারাম। সেখানে কাজ করে যা উপার্জন করা সেটাও হারাম। কেননা এটা অবৈধ বা হারাম কাজে সহযোগিতা। হারাম কাজে সহযোগিতা করা আল্লাহ নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, “মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে পরস্পরের সহযোগিতা করো না।”[সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ২]
তাই আমরা আপনাকে উপদেশ দিচ্ছি- আপনি এ জাতীয় হোটেলে চাকুরি করা পরিহার করুন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যা হারাম ও অবৈধ বলে ঘোষণা করেছেন তা করতে কাউকে সাহায্য সহযোগিতা করবেন না।[ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফতোয়াসমগ্র (১৩/৪৯)]

অমুসলিম দেশের রেস্তোরাঁয় কাজ করা যাবে।যারা যেকোনো রেস্তোরাঁয় সেফ বা ওয়েটার হিসাবে কাজ করে তাদের উপার্জন হালাল হবে।

তবে এখানে লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো মদ বা হারাম কোনো খাবার পরিবেশন এর কাজ করাও হারাম।
তাই হারাম খাবার পরিবেশনের কাজ বেশি হলে তার বেশির ভাগ ইনকাম হারাম হওয়ায় সেই চাকুরী জায়েজ নেই।    

অমুসলিমদের সামনে হারাম খাদ্য পরিবেশন করা যাবেনা। মদও পরিবেশন করা যাবেনা,অন্য হারাম খাদ্যও পরিবেশন করা যাবেনা। 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি আপনার ভাই থেকে ভালোভাবে জেনে নিবেন, যে তিনি যা যা তৈরি করেন, তাতে কোন হারাম গোস্ত থাকে কিনা! হারাম কোন খাদ্যের মিশ্রণ থাকে কিনা! 

যদি তার বানানো খাবার সম্পূর্ণ হালাল হয়, হারামের কোন মিশ্রণ না থাকে এবং সেই রেস্টুরেন্টে তার কোনো হারাম খাবার পরিবেশন করতে না হয়, সেক্ষেত্রে তার তো ইনকাম হালাল। 

এমতাবস্থায় তার দেওয়া টাকা নিয়ে আপনি বিদেশে যেতে পারবেন।

(০২)
হারাম টাকায় সেখানে গেলে আপনার গুনাহ হবে। তবে আপনি যেহেতু নিজের পরিশ্রমেই টাকা উপার্জন করবেন, তো আপনার পরিশ্রমে অর্জিত টাকা আপনার জন্য হালাল হবে।

(০৩)
এক্ষেত্রে মসজিদে জামাতে যেতে কষ্ট হলে নিফাকের আলামত হবে। 

(০৪)
رُخْصَة ج رُخَص
[রুখ্ছাহ,রুখছত] শব্দের অর্থঃ-
অনুমতি,অনুমোদন,বৈধতা,অনুমতিপত্র,
লাইসেন্স,পারমিট,ছাড়।

রুখসত অনুমোদিত কাজ,এটি বৈধ।

(০৫)
না,সে কৃপন বলে গন্য হবেনা।

(০৬)
সেই বড় ভাই মাফ করে দিলে আপনি মাফ পেয়ে যাবেন।

(০৭)
আপনি আল্লাহ তায়ালার কাছে খালেস দিলে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হৃদয়ে মাফ চাইবেন। পাশাপাশি সেই মেয়েটির ভাইয়ের মাধ্যমে মেয়েটি হতে মাফ চাইবেন।

যাতে করে সেই ভাই যেন আপনার পক্ষ থেকে তার বোনের কাছে মাফ চায়।

এক্ষেত্রে আপনার কোন দোষ উল্লেখ করার জরুরত নেই, এমনিতেই স্বাভাবিকভাবে আপনার কৃতকর্মের জন্য মাফ চাইবেন।

বলবেন যে কোনো অপরাধ করে থাকলে যেনো মাফ করে দেয়। আপনার ব্যাপারে যেনো অন্তরে কোনো বিষয়ে কোনো কষ্ট ধরে না রাখে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...