আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
68 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (7 points)
১। আমি স্টুডেন্ট, টিউশন করাই। খরচের জন্য বাবাও টাকা দেন। টিউশনের টাকা বেশিরভাগ মা ভাই বোনের জন্য খরচ হয়। কারন আমি বোনসহ বাইরে থাকি তাই অনেক টাকা দিতে হয় বাবাকে। তাই বাসায় মা কে সেরকম টাকা দিতে পারে না। মায়ের ঋণ হয়ে যায়। আমি চেষ্টা করি সেগুলো পরিশোধ করে দিতে। এমতাবস্থায় আমি বাইরের কোনো মানুষকে সাহায্য করতে পারি না। সদাকাহ করা হয়ে ওঠে না। পরিবারের পিছনে খরচ করলে কি আমি সেই সওয়াব পাবো? নাকি অসহায় মানুষদের দান করে সেই সওয়াব পাবো?

২। আমি যখন টিউশন করিয়েছি তখন বাবা জানতো না। মানে উনি পছন্দ করতো না আমি টিউশন করাই। কিন্তু আমি অবসর সময়ে অনেক বেশি ফোন চালাতাম। সময় টাকে কাজে লাগাতে মায়ের অনুমতি নিয়ে টিউশন করানো শুরু করি। আমার টিউশনের টাকা কি হালাল ছিলো না যেহেতু বাবার আপত্তিতে করিয়েছি?

কিন্তু এখন বিবাহিত তাই বরের সম্মতিতে করাই।

৩।২০ বছর বয়সের বোন, তাকে অনেক বার নিষেধ করেও

ল্যপটপে ভিডিও দেখে চুপি চুপি। আমি পাসওয়ার্ড চেন্জ করে দিলে এগ্রেসিভ হয়ে যায়। আমি রাগ করে বলছি তোমার কবরে তুমি যাবে, আমি এতো ধরে বেধে শাসন করতে পারবো না। বলে পাসওয়ার্ড আর চেন্জ করে দেই নি। ভেবেছি হয়তো নিজেই আর দেখবে না। কিন্তু সে আবারও দেখছে। আমি ওকে কিছু না বলে ল্যপটপ থেকে ওইসব এপস সরিয়ে দিয়েছি।

এখন ও যদি নিজে থেকে ইনস্টল দিয়ে আবারও ভিডিও দেখে তাহলে কি আমার গুনাহ হবে? যেহেতু ল্যপটপ এর পাসওয়ার্ড আমি পরিবর্তন করি নি.

৪।শুধু মাত্র বৃদ্ধ বাবা মা কে দেখাশোনা করার নিয়তে দাওয়াহর উদ্দেশ্যে পর্দা মেইনটেইন করে, পুরুষ সহকর্মীর থেকে দূরত্ব বজায় রেখে, স্বামীর অনুমতিতে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা বা কলেজের শিক্ষিকা হওয়া ঠিক হবে কি?

৫।স্ত্রী যদি নিজের ও স্বামীর ৫ ওয়াক্ত নামাজের চেকলিস্ট বানায়, আর স্বামীর যদি নামাজ কাজা হয়ে যায়, সেটা তো সেই চেকলিস্টে থাকবে। এটা কি ভুল হবে যে স্বামীর পাপ স্ত্রী কেন জানবে?
চেকলিস্ট করার উদ্দেশ্য পাপ জানা না, রিমাইন্ডার।
তারপরেও কি এটি অনুচিত?

1 Answer

0 votes
by (763,590 points)
জবাবঃ- 
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১)
https://ifatwa.info/6603/ ফতোয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যে,  
পরিবারের জন্য খরচ করা,মা বাবার ভরনপোণের জন্য খরচ করা উত্তম কাজ।
মা বাবা নিজেদের ভরনপোষণের ক্ষেত্রে অসমর্থ হলে সন্তানদের জন্য তাদের ভরনপোষণের খরচ দেওয়া শুধু শরীয়তেই নয়  এটা মানবতার দিক লক্ষ্য করেও জরুরি।

হাদিস শরিফে এসেছে, 

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘খরচের ব্যাপারে তুমি আগে নিজের প্রয়োজনীয় খরচের দায়িত্বশীল, তারপর তোমার স্ত্রীর, তারপর সামর্থ্য হলে তোমার নিকটাত্মীয়ের খরচ তোমার ওপর বর্তাবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯৯৭)

মা-বাবা  ভরণ-পোষণের অধিকারী হওয়ার জন্য শর্ত হলো দুটি।
★এক. তাঁরা এমন দরিদ্র হতে হবে যে তাঁরা নিজের মালিকানার সম্পদে চলতে অক্ষম। এখন কথা হলো, যদি তাঁরা উপার্জনের শক্তি রাখে, তাহলেও তাঁদের সন্তানদের ভরণ-পোষণ দিতে হবে কি না? এ ক্ষেত্রে বিধান হলো, তাঁদের উপার্জনের শক্তি থাকলেও যদি তাঁদের কাছে চলার মতো নগদ টাকাকড়ি না থাকে, তাঁদের সন্তানদের ভরণ-পোষণ দিতে হবে। তাদের সন্তানরা এ কথা বলতে পারবে না যে আপনি তো উপার্জনে সক্ষম, আপনি নিজে উপার্জন করে চলুন। তবে যদি তাঁরা ধনী হন, তথা তাঁদের মালিকানায় নগদ এমন সম্পত্তি থাকে, যা দ্বারা তাঁরা শান্তিতে কালাতিপাত করতে পারেন, তাহলে সন্তানদের ওপর তাঁদের ভরণ-পোষণ দেওয়া ওয়াজিব নয়।

★দুই. সন্তান-সন্ততি সামর্থ্যবান ও উপার্জনে সক্ষম হতে হবে। তাদের সামর্থ্যবান হওয়ার পরিমাণ হলো, তাদের মালিকানার সম্পত্তি বা উপার্জনকৃত আয়ের দ্বারা নিজের ও নিজের স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততির স্বাভাবিক ভরণ-পোষণের পর অতিরিক্ত সম্পদ থাকতে হবে। অন্যথায় তাদের উপার্জনকৃত আয়ের মধ্য থেকে যদি তার নিজের ও স্ত্রী বা সন্তান-সন্ততির ভরণ-পোষণের অতিরিক্ত সম্পদ না থাকে, তাহলে মা-বাবা ও ঊর্ধ্বতন আত্মীয়ের ভরণ-পোষণ দেওয়া ওয়াজিব নয়। যদিও এ ক্ষেত্রে উত্তম হলো, কষ্ট হলেও যথাসাধ্য মা-বাবারও ভরণ-পোষণের খরচ চালিয়ে যাবে। (তাবঈনুল হাকায়েক : ৩/৬৪, রদ্দুল মুহতার : ২/৬৭৮)

মা-বাবার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব উপরোক্ত দুই শর্তে সব ছেলে-মেয়ের ওপর ওয়াজিব। এ দায়িত্ব সব সাবালক সামর্থ্যবান ছেলে-মেয়ের ওপর সমভাবে বর্তাবে। এ ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, তাই কোনো মেয়ে যদি সামর্থ্যবান ও বিত্তবান হয়, তাহলে ছেলেদের মতো সমভাবে তার ওপরও মা-বাবার খরচের দায়িত্ব বর্তাবে। কেননা মা-বাবার জীবিত অবস্থায় সন্তানের জন্য খরচ ও উপহারে মেয়েরাও তাদের ভাইদের মতো সমঅধিকারী, তাই মা-বাবার খরচ বহনে তারাও সামর্থ্যের শর্তে তাদের ভাইদের সমদায়িত্বশীল হবে। ছেলে-মেয়ে না থাকলে তারপর সিরিয়াল আসবে নাতি-নাতনিদের। অতএব, তাদের ওপর সমভাবে এ দায়িত্ব বর্তাবে। (ফাতহুল কাদির : ৪/৪১৭)
,
সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন, 
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে এক্ষেত্রে আপনি নফল সদকাহ এর সওয়াব পাবেন।

আরো জানুনঃ- 

(০২)
আপনার টিউশনির টাকা হালাল।

(০৩)
ওই ল্যাপটপ এর মালিক কে?

যদি আপনি মালিক হয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে ওই ল্যাপটপ ব্যবহার করে সে গুনাহ করলে আপনার গুনাহ হবে।

(০৪)
তার মানে চাকরি করা আপনার নিজের জন্য জরুরী নয়, আপনার নিজের ভরণপোষণ আপনার স্বামীর টাকা হতে হয়ে যাচ্ছে, সুতরাং এক্ষেত্রে চাকরি করা আপনার জন্য উচিত নয়।

তদুপরি আপনি চাকরি করতে চাইলে শরীয়তের গন্ডির মধ্যে থেকে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা বা মহিলা কলেজের শিক্ষিকা হতে পারেন।

(০৫)
স্বামীর অনুমতিক্রমে হলে এতে সমস্যা নেই।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...