আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
95 views
in ঈমান ও বিশ্বাস (Faith and Belief) by (31 points)
আসসালামু আ'লাইকুম।
১. আমি আগে জানতাম বর্তমানে অমুসলিম হয়ে কেউ মারা গেলে সে কাফির হয়ে মারা গেছে। অতীতে দুজন নবীর মাঝখানের সময়ের অমুসলিমরা কাফির নাও হতে পারেন যেহেতু বাণী বিকৃত হয়ে গেছে এবং আসল ইসলাম এখনো আসেনি। যেহেতু নবীজি(সা.) অলরেডি তাঁর বাণী পৌঁছে দিয়েছেন, তাই এখন যেকোনো অমুসলিম যদি ইসলাম গ্রহণ না করে মারা যায় তাহলে সে কোনো না কোনোভাবে ইসলামের বাণী এবং সত্যতা ঠিকই জেনেছে, যেহেতু আল্লাহ বলেছেন দুনিয়ার প্রান্তদেশে এবং নিজেদের মাঝে আল্লাহ তাঁর নিদর্শন দেখাবেন যতক্ষণ না তাদের কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে কুরআন সত্য।
কিন্তু কয়েকজন দাঈর কাছে আমি শুনেছি যে-
যারা ইসলাম সত্য জেনে বুঝে সেটাকে অস্বীকার করবে তারাই একমাত্র কাফির। আর যারা ইসলামের সত্যতা জানেনি তাদের জন্য কিয়ামতে অন্য টেস্ট থাকবে।
এরকম হলে তো আল্লাহ সবার কাছে ইসলামের সত্য স্পষ্ট করেননা। তাহলে তো অমুসলিমদের দাওয়াত দেয়ার মোটিভেশান কমে যায়। আর এরকম হলে কি সকল অমুসলিম মারা গেলে কাফির বলা যাবে?
নাকী ব্যাপারটি এরকম, যে আল্লাহই জানেন ওই অমুসলিম ব্যক্তি ইসলামকে সত্যি জেনেছে কীনা, কিন্তু আমরা কাফির বলেই বিশ্বাস করব?
অর্থাৎ এটা বিশ্বাস করব যে আমাদের কাছে দেখে একজন অমুসলিমকে যতই বোকা লাগুক, সে আসলে ভিতরে ভিতরে সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন করে এবং ইসলামের সত্যতা বোঝে, কিন্তু স্বীকার করেনা?

২. আর জীবিত অমুসলিমদের যারা সত্যান্বেষী এবং ভবিষ্যতে ইসলাম কবুল করে তাদেরকে ইসলাম কবুল করার আগপর্যন্ত কীভাবে নামকরন করা হবে? তারা তো জেনেশুনে অস্বীকার করেনি।
ইসলাম কবুল করার আগে কি আমরা তাদের কাফির হিসেবেই বিশ্বাস করব?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)

https://www.ifatwa.info/4239  নং ফাতাওয়ায় উল্লেখ রয়েছে যে,

যে ব্যক্তি ইসলাম সম্পর্কে কখনো শুনেনি রাসূল সম্পর্কে জানেনি।এবং তার নিকট বিশুদ্ধ ভাবে হেদায়তের বাণী পৌছায়নি,আল্লাহ তা'আলা তাকে কুফরির উপর মূত্যুর কারণে কি শাস্তি দিবেন?
এমন প্রশ্নের দু-রকম জবাব আমরা পাই।
(১)সে যদি চন্দ্র সূর্য দেখে এক আল্লাহকে মেনে নেয়,স্বীকার করে নেয়, তাহলে তাকে আর আযাব দেয়া হবে না।নতুবা আযাব দেয়া হবে।
(২)তাকে আযাব দেয়া হবে না।তাহলে কি করা হবে?উত্তরে বলা যায়,আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাকে পরীক্ষা করবেন।যদি সে আল্লাহর বশ্যতা স্বীকার করে, তাহলে সে জান্নাতে যাবে।আর যদি সে আল্লাহ নাফরমানি করে,তাহলে সে জাহান্নামে যাবে।নিম্নোক্ত হাদীস এর প্রমাণ-
عن الْأَسْوَدِ بْنِ سَرِيعٍ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَرْبَعَةٌ [يحتجون] يَوْمَ الْقِيَامَةِ رَجُلٌ أَصَمُّ لا يَسْمَعُ شَيْئًا وَرَجُلٌ أَحْمَقُ وَرَجُلٌ هَرَمٌ وَرَجُلٌ مَاتَ فِي فَتْرَةٍ فَأَمَّا الأَصَمُّ فَيَقُولُ رَبِّ لَقَدْ جَاءَ الإِسْلَامُ وَمَا أَسْمَعُ شَيْئًا وَأَمَّا الأَحْمَقُ فَيَقُولُ رَبِّ لَقَدْ جَاءَ الإِسْلَامُ وَالصِّبْيَانُ يَحْذِفُونِي بِالْبَعْرِ وَأَمَّا الْهَرَمُ فَيَقُولُ رَبِّي لَقَدْ جَاءَ الإِسْلامُ وَمَا أَعْقِلُ شَيْئًا وَأَمَّا الَّذِي مَاتَ فِي الْفَتْرَةِ فَيَقُولُ رَبِّ مَا أَتَانِي لَكَ رَسُولٌ فَيَأْخُذُ مَوَاثِيقَهُمْ لَيُطِيعُنَّهُ فَيُرْسِلُ إِلَيْهِمْ أَنْ ادْخُلُوا النَّارَ قَالَ فَوَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوْ دَخَلُوهَا لَكَانَتْ عَلَيْهِمْ بَرْدًا وَسَلامًاوفي رواية : فَمَنْ دَخَلَهَا كَانَتْ عَلَيْهِ بَرْدًا وَسَلامًا وَمَنْ لَمْ يَدْخُلْهَا يُسْحَبُ إِلَيْهَا الحديث رواه الإمام أحمد وابن حبان
ভাবার্থঃ পৃথিবীল আহমক,বধির তথা এমন কিছু লোক কে কিয়ামতের দিন, আল্লাহ আগুনে প্রবেশ করার হুকুম দিবেন। তারা যদি তাতে প্রবেশ করে নেয়,তাহলে সেই আগুন তাদের জন্য জান্নাত হয়ে যাবে। আর হুকুম না মানলে জান্নাতে আগুনেই নিক্ষিপ্ত হবে।(মসনদে আহমদ-১৬৩৪৪,সহীহুল জা'মে-৮৮১)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
দেখেন উক্ত হাদীসে রাসূল সাঃ বলছেন যে, আল্লাহ তা’আলা আহমক বধির এবং বোবা সবাইকে পরীক্ষা করে তার পর পাশ হলে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। পরকালে পরীক্ষা এজন্য কেননা দুনিয়াতে তারা পরীক্ষা দিতে সক্ষম হয়নি। 

সুতরাং উপরোক্ত মূলনীতির আলোকে বলা যায় যে, যার নিকট বিশুদ্ধ ত্বরিকায় দ্বীন-ইসলামের দাওয়াত পৌছবে, তার বিরুদ্ধে কিয়ামতের দিন প্রমাণ পাওয়া যাবে, যার দরুণ তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আর যার নিকট দাওয়াত পৌছবে না, বা বিশুদ্ধ ত্বরিকায় পৌছবে না,তার বিষয় আল্লাহর কাছে। আল্লাহ উনি উনার সৃষ্টি সম্পর্কে ভালই জানেন। তবে আল্লাহ কারো উপর জুলুম করবেন না। আল্লাহ সবকিছু দেখছেন। 

বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন-https://www.ifatwa.info/4239

★সুপ্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,

বিষয়টি আসলে মতবিরোধপূর্ণ। 
ইমাম আবু হানিফা রহঃ বলেন,যেই অমুসলিমের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছেনি, এই ধরণের ব্যক্তির জন্য বিশ্ব সৃষ্টি এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্পর্কে চিন্তা করে সর্বশক্তিমান আল্লাহর স্রষ্টা এবং আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করা বাধ্যতামূলক। 

এই বিষয়ে কিয়ামতের ময়দানে তাকে প্রশ্ন করা হবে। তবে যতক্ষণ না একজন আহ্বায়ক তার কাছে দাওয়াত নিয়ে আসে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইসলামের শাখা-প্রশাখা (ইবাদাত,মুয়ামালাত,মুয়াশারাত ইত্যাদি) সম্পর্কে কিয়ামতে তাকে কোনও প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে না। তাই যদি এমন ব্যক্তি তার জীবন আল্লাহ ছাড়া অন্যের উপাসনা করে কাটিয়ে থাকেন, তাহলে তাকে মুশরিক হিসেবে গণ্য করা হবে।

(০২)
ইসলাম কবুল করার আগে আমরা তাদেরকে কাফির হিসেবেই বিশ্বাস করব।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...