আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
63 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম,,,,
২০২৩ সাল থেকে আমার জন্য একটি বিয়ের প্রস্তাব আসে। ছেলেটি দ্বীনদার, চরিত্রবান এবং মানুষ হিসেবে খুবই ভালো। কিন্তু সে শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ, তার রক্তে এলার্জি আর IBS সমস্যা আছে,,এসবের জন্য শারীরিক ভাবে অসুস্থ,,, তাদের পারিবারিক অবস্থা খুব ভালো না—আয় কম, জমিজমা নেই, বাড়িঘরও তেমন না। এই কারণগুলো দেখিয়ে আমার পরিবার রাজি হয়নি।

আমি কখনোই তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ রাখিনি। কিন্তু তাকে অনেক পছন্দ হয়েছে,,,, শুধু বিয়ের বিষয়ে এক–দুবার সামনাসামনি কথা হয়েছিল। সে আমাকে পছন্দ করে, কিন্তু নিজের শারীরিক সমস্যার কারণে বারবার বলেছে—সে বিয়ে করবে না। আমাকে ভালো লাগলেও সে এই দায়িত্ব নিতে চায় না।

এই প্রস্তাব আসার পর থেকে আমার আর কাউকে ভালো লাগে না। ঘটকরা দ্বীনহীন কাউকে হুটহাট করে বাসায় আনে,,,কিন্তু তাকে দেখার পর থেকে অন্য কোনো প্রস্তাব মন থেকে গ্রহণ করতে পারিনি। বাসায় যেসব প্রস্তাব আসে, তাদের বেশিরভাগই দ্বীনদার না—দ্বীনের অর্থই তারা বোঝে না। আমি একজন practising Muslimah, তাই বিষয়টা আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

আমি তার সব কিছুকে মেনে নেওয়ার জন্য রাজি ছিলাম। তার অসুস্থতা, দারিদ্র্য—সব জেনেও আমি তাকে গ্রহণ করতে চেয়েছি। কিন্তু সে নিজেই বারবার না করেছে। যখন সে বিয়েতে রাজি হওয়ার কথা বলে, তখন আমার মন আশায় ভরে যায়। আমি অনেকবার ইস্তেখারা করেছি সব কিছু পজিটিভ মনে হয় কিন্তু পরিবার থেকে সব কঠিন হয় তারা জেনে শুনে এমন পরিবার ছেলের কাছে দিতে চায়না,,,,পরিবার এতো দ্বীন বোঝেনা পালন ও করেনা, তারা চায় ঘর বর ভালো হোক জব করুক এমন,,,কিন্তু আমি দ্বীনদারিত্ব কে আগে প্রাধান্য দিয়েছি,,,এই পস্তাবে আবার যখন দূরে সরে যায় বা না বলে, তখন ভীষণ কষ্ট পাই, কান্না আসে, মনে হয়—তার মতো আর কাউকে পাব না।

এই বিষয়টা নিয়ে আমি অনেক ইস্তেখারা করেছি, সবসময়ই পজিটিভ এসেছে। তবুও বাস্তবে কিছুই পরিষ্কার হচ্ছে না। আমি অনেক বেশি ভাবি, স্বপ্ন দেখি, কিন্তু শেষে এসে আবার ভেঙে পড়ি। কয়েকদিন আগে তার না বলার কারণে খুব কেঁদেছি। এখন আবার শুনছি, সে নাকি রোজার আগেই বিয়েতে রাজি হচ্ছে—কিন্তু এবার আমার মন সায় দিচ্ছে না। আমি নিজেই বুঝতে পারছি না কেন।

গতকাল ছেলেটার ভাইয়ের কাছ থেকে শেষবারের মতো শুনলাম—সে তার সমস্যার কারণেই আবারও না বলে দিয়েছে।সে কখনো বলে দায়িত্ব নিতে পারবো না কখনো বলে হক আদায় করতে পারবো না আবার কখনো বলে পারবো দোটানা,,,
আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। সে কি আসলেই আমার কপালে আছে?
সে বলে এই বিয়েতে রাজি আমি এটা শুনে অনেক ভালো লাগে,,,তারপর আস্তে আস্তে কেমন জানি অস্তিরতা লাগে,,,তার সমস্যা সব শুনে,, তার ইনকাম কম মাসে ৬-৭ হাজার এমন

তাদের অবস্হাও তেমন না,,,তার শারীরিক অসুস্থতার জন্য তেমন কাজ করতে পারেনা

বাট বিয়েতে মত দেয়,,,

 আমার পরিবার শেষ পর্যন্ত মেনে নেন,,,বলে আমি যা বলবো তাই পরে কোনো সমস্যা হলে কিছু বলতে পারবে না অনেক কিছু বলে আমার জন্য তারাও রাজি হয়,,,হয়তো মন থেকে না,,,


ছেলেটার বাবা আমার একজন কোরআান শিক্ষক ছিলেন তারা আমাদের আত্মীয় ও,,,এজন্য এতো সময় নিয়েছে,,,

তো কদিন পর ছেলের বাবা আমাক ফোন দিয়ে বলে চাকরির জন্য


প্রায় কথা বার্তা চলছে ইদ পর ফাইনাল কথা হবে বিয়ের

কিন্তু সমস্যা হলো ছেলের একটু শারীরিক সমস্যা আছে IBS ও রক্তে এলার্জি যার কারণে কাজ করতে সমস্যা দূর্বলের জন্য,,, তার ইনকাম স্বল্প, চলার মতো , ছেলে দ্বীনদার ছেলের বাবা আমাকে জব করতে বলতেছে,,বাট ছেলে তা চায়না,,

এখন আমি কি সিদ্ধান্ত নিবো? আমিও চাইনা কোনো জব করতে,,,


ছেলের এমন অবস্থা আর জবের কথা শুনে আমার অনেক টেমশন ভয় লাগছে,,,,আমি বুঝে উঠতে পাচ্ছি না কি সিদ্ধান্ত নিবো,, আমাক সঠিক সিদ্ধান্ত বা সার্পোট দেওয়ার মতো কেউ নাই,,, আমি কখনো বাইরে যাইতে চাইনা,,,কিন্তু তাদের অবস্হা আর ছেলের সমস্যার জন্য পরে গিয়ে যদি আবার বাইরে যেতে হয় রিজিকের জন্য তখন আমি কি করবো?


ঐ ছেলের সাথে এসব নিয়ে কথা হয়েছে সে বলেছে জব করতে হবে না কিন্তু তার অসুস্থ দেখে তার কথায় ভরসা পাচ্ছি না,,,


এসব কথা বলার ঠিক পরের রাতে ছেলে আমাকে জানায় যে "বিয়ের বিষয়ে সে ইস্তেখারা করেছে বাট তার মন সায় দিচ্ছে না,,, সে আসলে বুঝতে পারছে না কিছু বলতেছে ভয় থেকে এমন হতে পারে কারণ সে তো বিয়েতে রাজি,,,আবার বলছে আল্লাহ যেনো আমাকে স্বপ্নে দেখায়" লাস্ট আমাকে বলেছে আপনি চিন্তা করেন না আল্লাহ ভরসা,,,


আমি এখম কি সিদ্ধান্ত নিবো? প্লিজ সাহায্য করুন বাসায় অনেক সমস্যায় আছি,,দোটানায় আছি

1 Answer

0 votes
by (763,500 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

কোনো মুসলিমের সামনে কোনো প্রয়োজন দেখা দিলে আল্লাহর কাছে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে নিজ প্রয়োজন চাওয়াকে সলাতুল হাজত বলে।
,
সলাতুল হাজত নামাজের বিশেষ কোনো নিয়ম নেই।

স্বাভাবিক নামাজের মতোই উত্তমভাবে অজু করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়বেন। 

(চার রাকাতও পড়া যাবে) 
নামাজ শেষে আল্লাহ তাআলার হামদ ও ছানা (প্রসংসা) এবং রাসূল ﷺ এর ওপর দরুদ পাঠ করে নিজের মনের কথা ব্যক্ত করে আল্লাহর নিকট দোয়া করবেন।

এ নামাজ সম্পর্কে এক হাদিসে এভাবে এসেছে–

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَنْ كَانَتْ لَهُ إِلَى اللَّهِ حَاجَةٌ أَوْ إِلَى أَحَدٍ مِنْ بَنِي آدَمَ فَلْيَتَوَضَّأْ وَلْيُحْسِنِ الْوُضُوءَ ثُمَّ لْيُصَلِّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ لْيُثْنِ عَلَى اللَّهِ وَلْيُصَلِّ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ ثُمَّ لْيَقُلْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ أَسْأَلُكَ مُوجِبَاتِ رَحْمَتِكَ وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ وَالْغَنِيمَةَ مِنْ كُلِّ بِرٍّ وَالسَّلاَمَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ لاَ تَدَعْ لِي ذَنْبًا إِلاَّ غَفَرْتَهُ وَلاَ هَمًّا إِلاَّ فَرَّجْتَهُ وَلاَ حَاجَةً هِيَ لَكَ رِضًا إِلاَّ قَضَيْتَهَا يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ

অর্থাৎ, আবদুল্লাহ্ ইবনু আবী আওফা থেকে বর্ণিত যে, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন যে, আল্লাহর কাছে বা কোন আদম-সন্তানের কাছে যদি কারো কোন প্রয়োজন হয় তবে সে যেন অজু করে এবং খুব সুন্দরভাবে যেন তা করে। পরে যেন দু’রাকআত নামাজ আদায় করে, এরপর যেন আল্লাহর হামদ করে ও রাসূল ﷺ-এর উপর দরূদ সালামের পর এই দোয়াটি পড়ে:

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ أَسْأَلُكَ مُوجِبَاتِ رَحْمَتِكَ وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ وَالْغَنِيمَةَ مِنْ كُلِّ بِرٍّ وَالسَّلاَمَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ لاَ تَدَعْ لِي ذَنْبًا إِلاَّ غَفَرْتَهُ وَلاَ هَمًّا إِلاَّ فَرَّجْتَهُ وَلاَ حَاجَةً هِيَ لَكَ رِضًا إِلاَّ قَضَيْتَهَا يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ

অর্থ- আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি অতি সহিষ্ণু ও দয়ালু, সকল দোষ-ক্রটি থেকে পবিত্র তিনি, মহান আরশের প্রভু। সকল প্রশংসা আল্লাহর, তিনি সারা জাহানের রব। আপনার কাছেই আমরা যাঞ্ছা করি, আপনার রহমত আকর্ষণকারী সকল পূণ্যকর্মের ওয়াসীলায়, আপনার ক্ষমা ও মাগফিরাত আকর্ষণকারী সকল ক্রিয়াকাণ্ডের বরকত, সকল নেক কাজ সাফল্য লাভের এবং সব ধরনের গুনাহ থেকে নিরাপত্তা লাভের। আমার কোন গুনাহ যেন মাফ ছাড়া না থাকে। কোন সমস্যা যেন সমাধান ছাড়া না যায় আর আমার এমন প্রয়োজন যাতে রয়েছে আপনার সন্তুষ্টি তা যেন অপূরণ না থাকে, হে আর রাহমানুর রাহিমীন; হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। (ইবনু মাজাহ ১৩৮৪, তিরমিজী ৪৭৯)

সুতরাং দোয়ার ক্ষেত্রে হাদিস শরিফে বর্ণিত উপরোক্ত দোয়াটি অন্যান্য দোয়ার সাথে নামাজের শেষে বিশেষভাবে পড়া যেতে পারে। তবে পড়তেই হবে–এমন নয়। আপনি আপনার মত করে দোয়া করলেও কোনো অসুবিধা নেই।

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার পরিবারের মুরব্বিদের মাধ্যমে সেই ছেলের সাথে সরাসরি কথা বলে নিবেন।

তাকে ফাইনাল ডিসিশন নিতে আপনার পরিবারের মাধ্যমে চাপ দিবেন।

এক্ষেত্রে ছেলে যদি আপনাকে বিবাহ করতে রাজি হয়, তার সাথে বিবাহ বসবেন।

আর যদি সে সরাসরি আপনার মুরব্বিদের বলে দেয় আপনাকে সে বিবাহ করবে না, তাহলে আপনার পরিবার অন্য পাত্রের খোঁজ নিবে।

আপনি সালাতুল হাজত নিয়মিত পড়ে মহান আল্লাহতালার কাছে দ্রুত বিবাহের দোয়া করে যাবেন, পাশাপাশি পরামর্শ থাকবে আপনি দ্রুত বিবাহের আমল গুলি করবেন। 

দ্রুত বিবাহের আমল সংক্রান্ত জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...