ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
মুসলমান মালিকাধীন হোটেলের গোশত ভক্ষণ করা যাবে। কেননা মুসলমান যবেহের সময় বিসমিল্লাহ্ বলবে, এটাই স্বাভাবিক। এবং এমন ধারণা পোষণ করাই সকলের উচিৎ। তাছাড়া মুসলমান যদি যবেহের সময় অনিচ্ছাকৃত ভাবে বিসমিল্লাহকে ভূলেও যায়,তদুপরি মুসলমানের অন্তরে আল্লাহর নাম থাকার দরুণ ঐ যবেহকৃত জন্তুকে ভক্ষণ করা জায়েয রয়েছে।
হাফেজ ইবন হাজার আসকালানী রহ. বলেন,
ﻭﻳﺴﺘﻔﺎﺩ ﻣﻨﻪ ﺃﻥ ﻛﻞ ﻣﺎ ﻳﻮﺟﺪ ﻓﻲ ﺃﺳﻮﺍﻕ ﺍﻟﻤﺴﻠﻤﻴﻦ ﻣﺤﻤﻮﻝ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺼﺤﺔ ، ﻭﻛﺬﺍ ﻣﺎ ﺫﺑﺤﻪ ﺃﻋﺮﺍﺏ ﺍﻟﻤﺴﻠﻤﻴﻦ … ﻷﻥ ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ ﻻ ﻳﻈﻦ ﺑﻪ ﻓﻲ ﻛﻞ ﺷﻲﺀ ﺇﻻ ﺍﻟﺨﻴﺮ ، ﺣﺘﻰ ﻳﺘﺒﻴﻦ ﺧﻼﻑ ﺫﻟﻚ
‘এই হাদিস থেকে বুঝা যায়, মুসলমানদের বাজারে যে গোশত পাওয়া যায় তা হালাল হিসেবে গণ্য হবে। কেননা, মুসলমানের সব বিষয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত ভালো ধারণা রাখতে হয় যতক্ষণ পর্যন্ত এর বিপরীত স্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়া যায়।’(ফাতহুল বারী ৯/৭৮৬) এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-
https://www.ifatwa.info/686
সুপ্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন!
(১) মুসলিম দোকানের গোশত খাওয়া জায়েজ। সুধারণা রাখতে হবে কারণ সে মুসলিম। সন্দেহ প্রবনতাকে পরিহার করা উচিত। কেউ যদি সন্দেহ থেকে বেচে থাকতে চায়, তাহলে সেটারও অনুমতি থাকবে। অযথা সন্দেহ না করাই উচিত।
(২) মনোযোগ দিয়ে যিকির করাই উচিত ও কর্তব্য।
(৩) নিজে না খেয়ে অন্যকে সাদাকাহ করার উৎসাহ দেয়া হয়নি বরং নিজের প্রয়োজন অতিরিক্ত জিনিষকেই সাদাকাহ করার কথা বলা হচ্ছে।
(৪) তারা নিজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, জান বাচানোর জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই গ্রহণ করতেন।
(৫) ইলম অর্জনে ব্যয় করাই উত্তম। এবং এটাও সাদদকাহর সমতূল্য।
(৬) সুগন্ধি (আতর) ব্যবহার করা অপচয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে না। তবে নিজের সামর্থ্যর অধিক এক্ষেত্রে ব্যয় করা যাবে না।
(৭) সামর্থ্যের মধ্যে খরচ করা বিলাসিতা হবে না।
(৮) হাদিয়া দিলে অবশ্যই সওয়াব হবে।