আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
36 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (8 points)
আসসালামু আলাইকুম
১.মুসলিম দোকানের গোশত খাওয়া জায়েজ। সুধারণা রাখতে হবে কারণ সে মুসলিম। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ভুলবশত বিসমিল্লাহ বলা হয় না বা অনেকে বলেই না।আবার গরুর গোশতের বদলে কিছু অসাধু লোক অন্য প্রাণীর গোশত বিক্রি করে যা হারাম।আবার রেস্টুরেন্টগুলোয় মরা প্রাণীর গোশতও বিক্রি করার চান্স থাকে।তাহলে গোশত খাওয়ার ক্ষেত্রে উত্তম কোনটা?তাকওয়ার দাবি কোনটা?কেউ যদি শিওর না হয়ে খেতে না চায় এটা কি বাড়াবাড়ি?

২.যিকির করার সময় কি মনোযোগ দিয়ে যিকির করতে হবে?

৩.হাদিসে বেশি বেশি সাদাকাহ করতে বলা হয়েছে।এক্ষেত্রে যারা স্টুডেন্ট তারা কিভাবে বেশি বেশি সাদাকাহ করবে?সাদাকাহ করার উত্তম পদ্ধতি কোনটা?নিজে না খেয়ে অন্যকে সাদাকাহ করতে হবে?যাইনাব রদিআল্লাহু তায়ালা আনহা অনেক দান সাদাকাহ করতেন।উম্মুল মুমিনীনগণ অনেক দান সাদাকাহ করতেন। তারা কিভাবে দান সাদাকাহ করতেন এবং কতটুকু পরিমাণ নিজের জন্য রাখতেন?

৪.তাদের লাইফস্টাইল কেমন ছিলো?তারা দুনিয়া থেকে কতটুকু নিতেন?

৫.ইলম অর্জনে ব্যয় করা উত্তম নাকি সাদাকাহ করা উত্তম?

৬.আমি রুমে সবসময় সুগন্ধি (আতর) ব্যবহার করি।রসুলল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ এবং কেউ রুমে ঢুকে যেন ব্যাড স্মেল না পায়। আর নিজেরও প্রশান্তি লাগে।এটা কি অপচয়?

৭.ইসলামে বিলাসিতার সজ্ঞা কি?সামর্থ্যের মধ্যে খরচ করা কি বিলাসিতা?
৮.হাদিয়া দিলে কি সওয়াব হয়?

1 Answer

0 votes
by (806,910 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
মুসলমান মালিকাধীন হোটেলের গোশত ভক্ষণ করা যাবে। কেননা মুসলমান যবেহের সময় বিসমিল্লাহ্ বলবে, এটাই স্বাভাবিক। এবং এমন ধারণা পোষণ করাই সকলের উচিৎ। তাছাড়া মুসলমান যদি যবেহের সময় অনিচ্ছাকৃত ভাবে বিসমিল্লাহকে ভূলেও যায়,তদুপরি মুসলমানের অন্তরে আল্লাহর নাম থাকার দরুণ ঐ যবেহকৃত জন্তুকে ভক্ষণ করা জায়েয রয়েছে।

হাফেজ ইবন হাজার আসকালানী রহ. বলেন,
ﻭﻳﺴﺘﻔﺎﺩ ﻣﻨﻪ ﺃﻥ ﻛﻞ ﻣﺎ ﻳﻮﺟﺪ ﻓﻲ ﺃﺳﻮﺍﻕ ﺍﻟﻤﺴﻠﻤﻴﻦ ﻣﺤﻤﻮﻝ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺼﺤﺔ ، ﻭﻛﺬﺍ ﻣﺎ ﺫﺑﺤﻪ ﺃﻋﺮﺍﺏ ﺍﻟﻤﺴﻠﻤﻴﻦ … ﻷﻥ ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ ﻻ ﻳﻈﻦ ﺑﻪ ﻓﻲ ﻛﻞ ﺷﻲﺀ ﺇﻻ ﺍﻟﺨﻴﺮ ، ﺣﺘﻰ ﻳﺘﺒﻴﻦ ﺧﻼﻑ ﺫﻟﻚ
‘এই হাদিস থেকে বুঝা যায়, মুসলমানদের বাজারে যে গোশত পাওয়া যায় তা হালাল হিসেবে গণ্য হবে। কেননা, মুসলমানের সব বিষয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত ভালো ধারণা রাখতে হয় যতক্ষণ পর্যন্ত এর বিপরীত স্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়া যায়।’(ফাতহুল বারী ৯/৭৮৬) এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/686



সুপ্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন!
(১) মুসলিম দোকানের গোশত খাওয়া জায়েজ। সুধারণা রাখতে হবে কারণ সে মুসলিম। সন্দেহ প্রবনতাকে পরিহার করা উচিত। কেউ যদি সন্দেহ থেকে বেচে থাকতে চায়, তাহলে সেটারও অনুমতি থাকবে। অযথা সন্দেহ না করাই উচিত।

(২) মনোযোগ দিয়ে যিকির করাই উচিত ও কর্তব্য। 

(৩) নিজে না খেয়ে অন্যকে সাদাকাহ করার উৎসাহ দেয়া হয়নি বরং নিজের প্রয়োজন অতিরিক্ত জিনিষকেই সাদাকাহ করার কথা বলা হচ্ছে। 

(৪) তারা নিজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, জান বাচানোর জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই গ্রহণ করতেন।

(৫) ইলম অর্জনে ব্যয় করাই উত্তম। এবং এটাও সাদদকাহর সমতূল্য। 

(৬) সুগন্ধি (আতর) ব্যবহার করা অপচয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে না। তবে নিজের সামর্থ্যর অধিক এক্ষেত্রে ব্যয় করা যাবে না।

(৭) সামর্থ্যের মধ্যে খরচ করা বিলাসিতা হবে না।

(৮) হাদিয়া দিলে অবশ্যই সওয়াব হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...