আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
92 views
in সালাত(Prayer) by (3 points)
আমি গতকাল রাতে ইশার নামাজ ৪রাকাত ফরজ এবং দু রাকাত সুন্নাত পড়েছিলাম, ভেবেছিলাম বিতরের ৩রাকাত তাহাজ্জুদের সাথে পড়বো কিন্তু ঘুম থেকে উঠতে পারিনি তাই তাজাজ্জুদ পড়া হয়নি, তাহলে আজ কি তাহাজ্জুদের সাথে কালকের বিতরের নামায টা পড়ে ফেলতে হবে? নতুবা আমার করণীয় জানাবেন ইনশাআল্লাহ

1 Answer

0 votes
by (765,990 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/71364/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
বিতর নামাজ ওয়াজিব, ছুটে গেলে সেটির কাজা আদায় করাও ওয়াজিব,তাই প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার সেই বিতির নামাজের কাজা আদায় করতে হবে।

এক্ষেত্রে আপনাকে তিন রাকাত আদায় করতে হবে।
স্বাভাবিক ভাবে শেষ রাকাতে রুকুর আগে তাকবির বলে হাত বেধে দোয়ায়ে কুনুত পড়বেন।
জনসম্মুখে বা মসজিদে বিতর এর কাজা আদায় করলে ৩য় রাকাতে দোয়ায়ে কুনুতের আগে হাত উত্তোলন করবেননা।

পরের দিনও আপনি যেকোনো সময় এই বিতরের কাজা আদায় করতে পারবেন।

তবে আপনার জিম্মায় সারা জীবনে যদি ৫ ওয়াক্তের বেশি নামাজ কাজা আবশ্যক না থাকে,সেক্ষেত্রে আপনি ফজরের ফরজ নামাজের আগেই বিতরের কাজা আদায় করবেন।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- « إِذَا رَقَدَ أَحَدُكُمْ عَنِ الصَّلاَةِ أَوْ غَفَلَ عَنْهَا فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا فَإِنَّ اللَّهَ يَقُولُ أَقِمِ الصَّلاَةَ لِذِكْرِى

অনুবাদ-যখন তোমাদের কেউ নামায ছেড়ে ঘুমিয়ে পড়ে, বা নামায থেকে গাফেল হয়ে যায়, তাহলে তার যখন বোধোদয় হবে তখন সে যেন তা আদায় করে নেয়। কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-আমাকে স্মরণ হলে নামায আদায় কর।
(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৬০১
মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১২৯৩২
সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৪১৮২)

ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়ায় বর্ণিত রয়েছে,

وفي الفتاوى رجل يقضي الفوائت فإنه يقضي الوتر وإن لم يستيقن أنه هل بقي عليه وتر أو لم يبق فإنه يصلي ثلاث ركعات ويقنت ثم يقعد قدر التشهد ثم يصلي ركعة أخرى فإن كان وترا فقد أداه وإن لم يكن فقد صلى التطوع أربعا ولا يضره القنوت في التطوع

ফাতাওয়ার কিতাব সমূহে বর্ণিত রয়েছে,একজন ব্যক্তি সে তার জীবনের ছুটে যাওয়া নামায সমূহের কা'যা করতেছে।তাহলে সে বিতিরেরও কা'যা করবে।যদি নিশ্চিত না থাকে যে,তার উপর কোনো বিতির কা'যা রয়েছে কি না?তাহলে সে তিন রা'কাত কা'যা পড়বে,এবং কুনুত করবে।অতঃপর তাশাহুদ পরিমাণ সময় বৈঠক করবে।অতঃপর আরো এক রাকাত পড়বে।যদি সেটা বিতির হয়ে থাকে, তাহলে সেটা আদায় হয়ে যাবে।আর যদি বিতির না হয়ে থাকে,তাহলে তো সে চার রাকাত পড়েই নিয়েছে যা নফল হিসেবে গণ্য হবে।নফল নামাযে কুনুত করাতে কোনো সমস্যা নেই।(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/১২৫)

বিতির নামাজের কাযা সংক্রান্ত জানুনঃ-

আরো জানুনঃ  

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার জন্য উচিত ছিল ফজরের ওয়াক্তে ফজর নামাজের আগেই বিতর নামাজের কাজা আদায় করে নেয়া।

আপনি যেহেতু বিতর নামাজের কাজা এখন পর্যন্ত আদায় করেননি, সুতরাং আপনি এই মুহূর্তে বিতর নামাজের কাজা আদায় করে নিবেন।

আপনি চাইলে আজকে তাহাজ্জুদ নামাজের ওয়াক্তেও বিতর নামাজের কাজা আদায় করে নিতে পারবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...