আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
58 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (34 points)
reshown by
আসসালামু আলাইকুম উস্তাদ।
আফওয়ান উস্তাদ অফলাইনে ফতোয়া জানার কোনো ব্যবস্থা নেই তাই নিয়ম ভঙ্গ করে এতগুলো প্রশ্ন করেছি।জাঝকাল্লাহু খইর।
১.এক স্বামী স্ত্রীকে তার মা বাবার সাথে যোগাযোগ করতে দেয়না,কিন্তু একেক সময় একেক কথা বলে একবার বলে সে থাকাকালীন রাতে কথা বলতে পারবে, আাবার বলে একমাস পর একদিন কিন্তু সবশেষে বলেছে সে মরার পর যোগাযোগ করতে পারবে এখন স্ত্রীর করনীয় কি? স্ত্রী কি যেকোনো সময় মা বাবার সাথে কথা বলতে পারবে? রাতে স্বামীর ফোন দিয়ে কথা বলছে একদিন তারপর স্ত্রীকে খুব রাগারাগি করছে বেশিকথা শুনিয়েছে।স্ত্রীর মা বাবা অনেক টেনশন করে, বাবা স্ট্রোক করছিল,স্বামীর বাবার কাছে বলা হয়েছে কিন্তু সে তার বাবা মার কথাও শোনেনা।

২.স্ত্রীর মা বাবা যদি জিজ্ঞেস করে নানুভাই কেমন আছে, তাও বলতে বারন করেছে এই আদেশ ও কি পালন করতে হবে?
অথচ স্ত্রী গর্ভবস্থায় তার মাই সেবা করেছে ডেলিভারির পরেও মা সেবা করেছে আবার ডাক্তার দেখানো সিজারের টাকাও স্ত্রীর মা দিয়েছে আর কিছু স্বামীর বাবা দিয়েছে।
৩.স্ত্রী স্বামীর পরিবারের কাছে মাফ চাইতে চায় জেনে বা না জেনে যেসব হক নষ্ট করেছে তার জন্য কিন্তু স্বামী নিষেধ করেছে এ আদেশ কি পালন করতে হবে?
৪. একটি কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস রুপার চেইন যেটির মালিক পাওয়ার ১% চান্সও নেই আর পাওয়া গেছিল ঢাকায় আর যাকে ঐ পাওয়া জিনিস উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছে তারা থাকে বরিশালে।বিজ্ঞাপন দেয়ার কোনো উপায় নেই এই অবস্থায় চেইনটি সাদাকা হিসেবে গ্রহন করা যাবে?
৫.সিজারের সময় বাধ্য হয়ে হারাম টাকা নিতে হয়েছে, একটি কানের দুল ও নাকফুল আছে স্বামী কখোনো বাইরে গিয়ে বিক্রি করতে অনুমতি দিবেনা তাহলে করনীয় কি?
স্বামী শোধ করবে না আর সে সিজারের টাকাও দেয়নি।
৬.নাতিকে নানি ফ্যান কিনে দিয়েছে তার জমানো টাকা দিয়ে এখন এর মধ্যে ৫০০ টাকা আছে আশা অফিসের দেয়া হাদিয়া আর ১০০০ একটি অন্য যায়গা থেকে উপহার দেয়া হয়েছে যেখানে হালাল হারাম দুই কাজই হয়। নাতি নানির কাছে ৫০০ টাকা পেতে এখন যদি ধরে নেই যে আশা অফিসের ৫০০ টাকা দিয়ে ঐ পাওনা টাকা দেয়া হয়েছে তবে কি ফ্যানটি ব্যাবহার করা স্ত্রীর জন্য জায়েজ?
স্বামী তো টাকা দিবেনা সাদাকা করে আর সেই ২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে মেয়েটি স্বামীর সাথে বরিশালে এসেছে কিন্তু স্বামী সিলিং ফ্যান কিনে দেয়নি গরমে কত ছটফট করতে হয়েছে।
৭. মেয়েটির শশুর লেপ,তোষক,বালিশ চেয়ার কিনে দিয়েছে মেয়েটি সেগুলো সাদাকা হিসেবে গ্রহন করেছে এখন সেই জিনিস ঘরে কেউ বেড়াতে এসে ব্যাবহার করলে কি স্ত্রীর গুনাহ হবে?
৮. স্বামীর ইনকাম বেশিরভাগ হালাল সামান্য কিছু হারাম আছে হয়তো এখন এই টাকা থেকে মেহমানদারি করলে ও মেহমানকে হাদিয়া দিলে কি স্ত্রীর গুনাহ হবে?

1 Answer

0 votes
by (805,980 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
স্বামীর আদেশকে মান্য করা মূলত তিনটি মূলনীতির আলোকে হয়ে থাকে।
(১) তার আদেশ কোনো মুবাহ বিষয়ে হতে হবে।কোনো ওয়াজিব তরকের ব্যাপারে হতে পারবে না।এবং কোন হারাম কাজের জড়িত হওয়ার জন্যও হতে পারবে না।
(২)যে কাজের আদেশ সর দিবেন,এতে তার ফায়দা থাকতে হবে,বা শরীয়তের পছন্দসই কাজ হতে হবে।
(৩)যে কাজের আদেশ সে দিবে,তা তার স্ত্রীর জন্য ক্ষতিকারক হতে পারবে না।
চার মাযহাব সম্বলীত সর্ব বৃহৎ ফেক্বাহী গ্রন্থ 'আল-মাওসু'আতুল ফেক্বহিয়্যায়' রয়েছে,
 " ﻃﺎﻋﺔ ﺍﻟﻤﺨﻠﻮﻗﻴﻦ - ﻣﻤّﻦ ﺗﺠﺐ ﻃﺎﻋﺘﻬﻢ – ﻛﺎﻟﻮﺍﻟﺪﻳﻦ ، ﻭﺍﻟﺰّﻭﺝ ، ﻭﻭﻻﺓ ﺍﻷﻣﺮ : ﻓﺈﻥّ ﻭﺟﻮﺏ ﻃﺎﻋﺘﻬﻢ ﻣﻘﻴّﺪ ﺑﺄﻥ ﻻ ﻳﻜﻮﻥ ﻓﻲ ﻣﻌﺼﻴﺔ ، ﺇﺫ ﻻ ﻃﺎﻋﺔ ﻟﻤﺨﻠﻮﻕ ﻓﻲ ﻣﻌﺼﻴﺔ ﺍﻟﺨﺎﻟﻖ " ﺍﻧﺘﻬﻰ  
যাদের আদেশ-নিষেধ এর অনুসরণ শরীয়ত কর্তৃক ওয়াজিব।যেমন-মাতাপিতা,স্বামী,সরকারী বিধিনিষেধ,এর অনুসরণ ওয়াজিব। এ হুকুম ব্যাপক হারে প্রযোজ্য হবে না বরং ঐ সময়-ই প্রযোজ্য হবে যখন তা গুনাহের কাজ হবে না। কেননা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত রয়েছে আল্লাহর অবাধ্যতায় কোনো মাখলুকের অনুসরণ করা যাবে না।(২৮/৩২৭) এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1722

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) স্ত্রীকে তার মা বাবার সাথে যোগাযোগ করতে দেয়া, কথা বলতে না দেয়া, স্বামীর জন্য কখনো জায়েয হবে না।
(২) এরকম অনৈতিক ব্যবহার স্বামীর জন্য কখনো জায়েয হবে না।
(৩) স্বামীর এই প্রকারের আদেশ মান্য করা ওয়াজিব নয়।
(৪) যেই জায়গায় পাওয়া গেছে, সেখানে এলান দিতে হবে। অথবা মালিক যেই এলাকার বলে ধারণা করা হবে, সেই এলাকায় এলান-বিজ্ঞাপন দিতে হবে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/7998
(৫) যেহেতু জরুরতে নিয়েছেন, তাই হয়তো আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন। 
(৬) স্বামী কিনে দিচ্ছে না, তাই আপাতত ফ্যানটি ব্যবহার জায়েয হবে। যখন সামর্থ্য হবে, তখন সদকাহ করে দিলেই হবে।
(৭) অন্য কেউ এ সমস্ত ঘরের জিনিষ ব্যবহার করলে কোনো গোনাহ হবে না। 
(৮) স্ত্রীর গোনাহ হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...