আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
42 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (18 points)
আসসালামু আলাইকুম,

আমার স্কুলে একজন শিক্ষক, রমজানের ছুটির আগে ক্লাসে বলেন, "আমি তোমাদের বন্ধের পড়া দিবো কি দিবো না?" সবাই স্বাভাবিকতই না বলছে। পরে স্যার বললেন যে যদি বন্ধের পরে না চাও তাহলে তোমাদের ঈদের সালামি থেকে কিছু অংশ দিতে হবে দানের জন্য। আমি সহ প্রায় সবাই রাজি ছিলাম কারণ টাকার পরিমাণ স্যার বলেন নি। পরে শিক্ষক বললেন ২০% দিতে হবে সালামির। মানে আমি প্রায়ই ৫,০০০৳ পাই তাহলে স্যার কে আমার ১০০০৳ দিতে হয়, যা স্টুডেন্ট হিসেবে দান করা আমার জন্য একটু বড়। আমি এটার সাথে একমত ছিলাম না মন থেকে, কিন্তু স্যার বলা শুরু করলেন যদি কেউ না দেয় বা ২০% এর কম দেয় আল্লাহ কিন্তু সব দেখে আমাদের দেখে নিবে। তারপর থেকে আমার আর দিতে ইচ্ছে করছে আবার দিবো না যে এইটা নিয়েও ভয় করছে। ওই সময় বাধ্য হয়ে একমত হতে হয়েছে। তার মধ্যে তিনি শিয়া প্রকৃতির, সেই দানকৃত অর্থটি কোথায় যাবে তা নিয়েও সন্দেহ আছে।

এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমি যদি না দেই তাহলে কি আমি আল্লাহর কাঠগড়ায় অপরাধী হবো? আর যদি হই তাহলে করণীয় কি?

1 Answer

0 votes
by (766,140 points)
জবাব
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

শরীয়তের বিধান হলো কাহারো সম্পদ তার সন্তুষ্টি ব্যাতিত ব্যবহার করা জায়েজ হবেনা। 

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ 

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَاۡکُلُوۡۤا اَمۡوَالَکُمۡ بَیۡنَکُمۡ بِالۡبَاطِلِ اِلَّاۤ اَنۡ تَکُوۡنَ تِجَارَۃً عَنۡ تَرَاضٍ مِّنۡکُمۡ ۟ وَ لَا تَقۡتُلُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ بِکُمۡ رَحِیۡمًا ﴿۲۹﴾ 
হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না; কিন্তু তোমরা পরস্পর রাযী হয়ে ব্যবসা করা বৈধ এবং নিজেদেরকে হত্যা করো না; নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।
(সুরা নিসা ২৯)

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 
عَنْ أَبِىْ حُرَّةَ الرَّقَّاشِىِّ عَنْ عَمِّه قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ : «أَلَا لَا تَظْلِمُوا أَلَا لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ». رَوَاهُ الْبَيْهَقِىُّ فِىْ شُعَبِ الْإِيْمَانِ وَالدَّارَقُطْنِىِّ فِى الْمُجْتَبٰى

আবূ হুররাহ্ আর্ রক্কাশী (রহঃ) তাঁর চাচা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! কারো ওপর জুলুম করবে না। সাবধান! কারো মাল তার মনোতুষ্টি ছাড়া কারো জন্য হালাল নয়।
আহমাদ ২০৬৯৫, শু‘আবুল ঈমান ৫১০৫, ইরওয়া ১৪৫৯, সহীহ আল জামি‘ ৭৬৬২।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
এভাবে কাহারো হয়ে জোড় করে বা কাউকে বাধ্য করে তার থেকে দান নেয়া ঠিক নয়।

সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি যদি না দেন, তাহলে আপনি আল্লাহর কাঠগড়ায় অপরাধী হবেননা। 

এক্ষেত্রে দান করা বা না করা বা করলেও কত টাকা দান করবেন সবই আপনার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। এক্ষেত্রে আপনাকে বাধ্য করা সেই শিক্ষকের জন্য জায়েজ নেই।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...