আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
52 views
in যাকাত ও সদকাহ (Zakat and Charity) by (5 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম।

১. গতবছর জুলাই মাসে আমি বাকিতে ৪ টি (মূল্য ৩,০০,০০০৳) এবং নগদ ১টি (৫০,০০০৳) রিকশা কিনি এছাড়াও বাকিতে কিছু ব্যাটারি কিনি (৭০,০০০৳)। রিকশাগুলো ভাড়ায় দেয়া আছে যেখান থেকে নিয়মিত টাকা উপার্জন হয়। এরমধ্যে ১,৫০,০০০৳ পরিশোধ করা হয়েছে এবং এখনো ২,২০,০০০৳ এর মত ঋণ আছে। এছাড়াও আমার পার্সোনাল ল্যাপটপ আছে (২৫,০০০৳) যা ব্যবসায়ীক কাজে ব্যবহৃত হয়। এখন ঋণ থাকা অবস্থায় এসব রিকশা এবং ল্যাপটপের উপর আমার যাকাত আসবে কি?

২. আমার স্ত্রীর মোট প্রায় ৬ ভরি (কিছুটে কমবেশি হতে পারে) স্বর্ণ একবছরের অধিক সময় তার কাছে আছে এবং এছাড়া আর মোটামুটি আর কোনো সম্পদ নেই। এমতাবস্থায় তার উপর যাকাত আসবে কি না (আসলে কত আসবে) এবং তা আমাকে পরিশোধ করতে হবে কি না?
৩. তার কাছে সর্বনিম্ন কত টাকা থাকলে স্বর্ণ ও টাকা মিলিয়ে রূপার অনুপাতে যাকাত আসতো? (ধরুন তার কাছে মাত্র ১০০০৳ আছে ১ বছত ধরে আছে, এমতাবস্থায় কি হবে?)

1 Answer

0 votes
by (766,140 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
https://ifatwa.info/14383/ ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ   
শরীয়তের বিধান হলো কাহারো ঋণ যদি এত হয় যা বাদ দিলে তার কাছে নিসাব পরিমাণ যাকাতযোগ্য সম্পদ থাকে না তাহলে তার ওপর যাকাত ফরয নয়। (মুয়াত্তা মালেক ১০৭; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০০৩, ৭০৮৬, ৭০৮৯, ৭০৯০; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৫৪৭-৫৪৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/৮৩)
,
কিন্তু এখানে মনে রাখতে হবে যে, এই প্রসিদ্ধ মাসআলাটি সকল ঋণের ক্ষেত্রে নয়। 

ঋণ দুই ধরনের হয়ে থাকে।
 ক. প্রয়োজনাদি পূরণের জন্য বাধ্য হয়ে যে ঋণ নেওয়া হয়। 
খ. ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে যে ঋণ নেওয়া হয়।
,
প্রথম প্রকারের ঋণ সম্পদ থেকে বাদ দিয়ে যাকাতের নিসাব বাকি থাকে কিনা তার হিসাব করতে হবে। নিসাব থাকলে যাকাত ফরয হবে, অন্যথায় নয়। 
,
কিন্তু যে সকল ঋণ উন্নয়নের জন্য নেওয়া হয় যেমন কারখানা বানানো, কিংবা ভাড়া দেওয়া বা বিক্রি করার উদ্দেশ্যে বিল্ডিং বানানো অথবা ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ঋণ নিলে যাকাতের হিসাবের সময় সে ঋণ ধর্তব্য হবে না। অর্থাৎ এ ধরনের ঋণের কারণে যাকাত কম দেওয়া যাবে না। 
(মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৮৭)

আরো জানুনঃ 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার মালিকানায় যদি আর কোনো টাকা, রুপা/স্বর্ণ না থাকে,সেক্ষেত্রে তার উপর যাকাত ফরজ হবেনা।

(০২)
তার মালিকানায় যদি কোন রুপা না থাকে এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন অতিরিক্ত সামান্য কিছু টাকা-পয়সাও যদি তার মালিকানায় না থাকে, সেক্ষেত্রে তার ওপর যাকাত ফরজ হবেনা।

(০৩)
হ্যাঁ, সেক্ষেত্রেও তার উপর যাকাত ফরজ হবে।

বছরের শুরুতে ও শেষে দৈনন্দিন প্রয়োজন অতিরিক্ত ৫০ টাকা ও যদি তার মালিকানায় থাকে,সেক্ষেত্রেও তার উপর যাকাত ফরজ হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...