আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
172 views
in সালাত(Prayer) by (71 points)
আসসালামু আলাইকুম
শাইখ, (১)প্রচুর মশা তো গরমকালে। তো মশা কামড়ালেই এক্সিমা/ এলার্জী চুলকায় অনেক বেশি তখন চামড়ার গুঁড়া গুঁড়া নামাজের পাটিতে পড়লে কি নাপাক হবে? বা ওই চুলকানো জনিত  গুঁড়া গুলো কি নাপাক?
(২) শাইখ, নামাজে বসার সময়ে খুব সাবধানে বসি তাতে বাম পাশের পায়ের রান বুকের সাথে মিশতে পারে, ডান পাশের পা দূরে থেকে যায় (মাঝে মাঝে দুই সিজদার মাঝে কাছে আনা যায় আবার কখনো যায়না এনন আরকি), নাহলে সাদা স্রাব বের হয়ে যায় চাপ লেগে। সেজন্য এইভাবে বসলেও তো আমার সালাত হবে তাইনা?

(৩)দুই পা একেবারে না মিশিয়ে ফাঁকা রেখে দাড়াতেও সুবিধা হয়, তাহলে তো আমার সালাত হবে তাইনা? আগে মিশাতাম প্রেগনেন্সির পর থেকে ফাঁকা রেখে দাঁড়াতে এখন এইটাই সুবিধা হয় আল্লাহর ইচ্ছায়।

(৪)পিরিয়ডের আগে এবং পরের সময়গুলোতে লজ্জাস্থান সবসময় পানি পানি এসেই থাকে, আবার শরীর কড়া হলে/ বাথরুমের সমস্যা হলে সেইসময়গুলোতেও সেইম নামাজে অনেক কষ্টে আস্তে আস্তে চেপে চেপে বসে লজ্জাস্থানের ভিতরে পানি বাহিরে আসাকে নিয়ন্ত্রণ করি। তখন বসাটা একটু আগে পিছে হয়। নাহলে সাদাস্রাব বাহিরে বের হয়। আর প্যাড পড়লে সুবিধা কি হয় যে, প্যাড পরে নামাজ পড়লে প্যাডের চাপে সাদাস্রাব বা যেকোন পানি পানিভাব প্রথমে একবার মাত্র বাহিরে বের হওয়ারপর পরে আর বের হতে পারেনা, চাপ লেগে আটকে থাকে। কিন্তু প্যাড ছাড়া নামাজ পড়লে ওইযে উপরে তো বললাম ওইভাবে বসা লাগে যেখানে সিজদাহ দিতে মুখটা হাটুর কাছাকাছি এসে যাবে মাঝে আসে ৩য় বা ৪র্থ রাকাতের সিজদাহ্তে। মানে বোঝাতে চাচ্ছি যে আস্তে আস্তে এভাবে ম্যানেজ করতে হয়।

(৫) তো সালাতে তো ওইভাবে ম্যানেজ করতে হয় আল্লাহর ইচ্ছায়।

কিন্তু এমনি তো সালাত ব্যতীত সময়গুলোতে সবসময় স্রাব এরকম বা অজু নষ্ট হলে কিভাবে কুরআন পড়তে পারব? কাপড় দিয়ে সবসময় কুরআনের পৃষ্ঠা তো উল্টানো যায়না শাইখ, অসুবিধা হয়ে যায়।

(৬) কুরআন পড়ার সময়ে কাপড়ে স্রাবজনিত নাপাকি থাকা অবস্থায় ওজু করে এসে ওই অবস্থায়ই (স্রাব পরিষ্কার না করে)
তো তিলাওয়াত করা যাবে তাইনা? এক্ষেত্রে তো কাপড় ধৌত করা আবশ্যক না শরীয়তে!

(৭) কেউ যদি ওয়াক্তের ১০/১৫ মিনিট থাকতে সালাতে দাঁড়ায় এবং বায়ু/ লজ্জাস্থান থেকে কিছু বের হওয়ার সমস্যার দরুন সে ফরজ নামাজ পড়তে পারল না। তাহলে সে মাজুর ধরবে?

(৮) ইশার নামাজের সাথে সাথেই বিতর নামাজ পড়ে তারপর তারাবিহ আদায় করতে থাকলে, আদায় হবে?

(৯) মাগরিবের নামাজের পরপরই কি তারাবির নামাজ পড়তে শুরু করা যাবে?

(১০) সূরা নাবার তিন আয়াত করে করে তারাবির নামাজ আদায় করা যাবে? ২রাকাত না পড়ে ৪ রাকাআত করে পড়ে তারাবির নামাজ আদায় হবে?

(১১) কুরআনের যেকোন তিন আয়াতই সূরা ফাতিহার পর পড়লে সালাত আদায় হবে তাইনা? যেমন, সূরা নাবা'র ৩/৪ আয়াত করে করে তিলাওয়াত করলে নামাজ শুদ্ধ হবে?

1 Answer

0 votes
by (762,960 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْعَلَاءِ ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شَوْكَرِ بْنِ رَافِعٍ الطُّوسِيُّ ، نَا أَبُو إِسْحَاقَ الضَّرِيرُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ زَكَرِيَّا ، نَا ثَابِتُ بْنُ حَمَّادٍ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ ، قَالَ : أَتَى عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - وَأَنَا عَلَى بِئْرٍ أَدْلُو مَاءً فِي رِكْوَةٍ لِي ، فَقَالَ : يَا عَمَّارُ ، مَا تَصْنَعُ ؟ قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، بِأَبِي وَأُمِّي ، أَغْسِلُ ثَوْبِي مِنْ نُخَامَةٍ أَصَابَتْهُ . فَقَالَ " يَا عَمَّارُ ، إِنَّمَا يُغْسَلُ الثَّوْبُ مِنْ خَمْسٍ : مِنَ الْغَائِطِ ، وَالْبَوْلِ ، وَالْقَيْءِ ، وَالدَّمِ ، وَالْمَنِيِّ ، يَا عَمَّارُ ، مَا نُخَامَتُكَ وَدُمُوعُ عَيْنَيْكَ وَالْمَاءُ الَّذِي فِي رِكْوَتِكَ إِلَّا سَوَاءٌ "

আহমাদ ইবনে আলী ইবনুল 'আলা (রহঃ) ... আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন, তখন আমি একটি কূপ থেকে বালতি দিয়ে পানি তুলে আমার একটি পানির পাত্রে ভর্তি করছিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আম্মার! তুমি কি করছো? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কোরবান হোক। আমি আমার পরিধেয় বস্ত্রে লেগে যাওয়া শ্লেষ্মা পরিষ্কার করছি। তিনি বলেনঃ হে আম্মার! পাঁচটি জিনিস থেকে কাপড় ধৌত করা প্রয়োজনঃ বিষ্ঠা, পেশাব, বমি, রক্ত ও বীর্য। হে আম্মার! তোমার নাকের শ্লেষ্মা, তোমার উভয় চোখের অশ্রু এবং তোমার এই পানির পাত্রের পানি একই সমান (পাক-নাপাকীর হুকুমের ক্ষেত্রে)।
(সুনানে দারা কুতনি ৪৫০)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নের বিবরণ মতে ঐ চুলকানো জনিত গুঁড়া গুলো নাপাক নয়।

(০২)
এইভাবে বসলেও আপনার সালাত হবে।

(৩-৪)
হ্যাঁ, আপনার সালাত হবে।

(০৫)
কোরআন তেলাওয়াত করার সময় এমনটি হলে সেক্ষেত্রে অজু করে আসবেন।

এমতাবস্থায় কাপড় নাপাক থাকলেও কোরআন তেলাওয়াত করতে সমস্যা হবে না।

(০৬)
হ্যাঁ, যাবে।
এক্ষেত্রে কাপড় ধৌত করা আবশ্যক না। 

(০৭)
না,সে মা'যুর নয়।

মা'যুর কাকে বলে, এ সংক্রান্ত জানুনঃ- 

(০৮)
এক্ষেত্রেও তারাবিহ আদায় হবে।

তবে নিয়ম হলো বিতরের আগেই তারাবিহ আদায় করা।

(০৯)
না।
ইশার ফরজ ও সুন্নাতের পর তারাবিহ আদায়ের সময়।

(১০)
হ্যাঁ, যাবে।
তবে ২ রাকাত করে তারাবিহ আদায় করা উত্তম।

(১১)
এভাবেও নামাজ শুদ্ধ হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (71 points)
জাঝাকিল্লাহু খইর ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আখিরাহ শাইখ 
by (71 points)
আসসালামু আলাইকুম, শাইখ

 এই প্রশ্নটাও দেখবেন, আফওয়ান।

বলছি যে, যেকোন নামাজই ফরজ /সুন্নাত/ তারাবীর/উমরি কাজা পড়ার সময়ে সালাতের সূরা আলহামদুলিল্লাহ ঠিকভাবেই পড়ি, কিন্তু সালাত ছুটে যাওয়ার কোন ওজর দেখা দিবে দিবে এমন কোন কারনে অথবা একটু ব্যস্ততা বশত শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়াতু সম্পুর্ণটা পড়ার পড়ে, দূরুদ শরীফের জায়গায় শুধুমাত্র ‘সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ এবং দুয়া মাসূরার জায়গায় ‘আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহি’ পড়ে শেষ বৈঠককে সংক্ষিপ্ত করলে, নামাজ আদায় হয়ে যাবে তো তাইনা?
by (71 points)
শাইখ, কমেন্টের প্রশ্নটা একটু  দেখবেন ইনশা আল্লাহ কষ্ট করে!
by (762,960 points)
হ্যাঁ আপনার নামাজ আদায় হয়ে যাবে।
by (71 points)
জাঝাকাল্লাহু শাইখ, এই প্রশ্নটাও একটু দেখবেন শাইখ ইনশা আল্লাহ। 

‘“নামাজ চলাকালীন সময়ে যে অবস্থায় অজু চলে যাবে। তখন ওই অবস্থায় কারো সাথে কথা না বলে পুনরায় ওজু করে এসে নামাজের ওই খান থেকে পড়লেই নামাজ আদায়  হয়ে যাবে ইনশা আল্লাহ?

কিন্তু এখানে নামাজে শুরু করার মাসায়েল টা কি হবে? হাত উঠিয়ে তাকবীর দিয়ে পড়ে ওই অবস্থা থেকে সালাত শুরু করব যেখানে থেমে ছিলাম? দাড়ানো অবস্থায় অজু চলে যাওয়া হলে দাঁড়িয়ে যাব, বসা অবস্থায় হলে সরাসরি বসে যাব, আর সিজদাহরত অবস্থা থেকে অজু চলে গেলেও সরাসরি ওরকম সিজদাহ্তে চলে যাব, শাইখ? কিন্তু তাকবীর প্রথমে জাত উঠিয়ে কি দেওয়া জরুরি হবে? এটাতো নামাজের ভিতরের কোন অংশে, শুরুর অংশে তো না। 

এইযে মাঝখানে সালাত শুরু করার নিয়মটা একটু কনফিউশান লাগছে শাইখ, এটা একটু বুঝিয়ে বলে দিন শাইখ। আল্লাহ আপনাদের উত্তম বিনিময় দান করুন, আমীন
by (762,960 points)
রুকু অবস্থায় ওযু ভেঙ্গে গেলে অজু করে এসে সরাসরি রুকুর তাকবীর বলে রুকুতে চলে যাবেন। এমনি ভাবে সর্বক্ষেত্রে আমল করতে হবে।

উল্লেখ্য এ সকল অবস্থাতে পুরো নামাজ শুরু থেকে পড়া উত্তম।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

+1 vote
1 answer 778 views
...