আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
112 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (8 points)
এক বোনের পক্ষ থেকে::
আমার নিকটাত্মীয়ের মেয়ে বয়স ১৫। সে অভিভাবকদের না জানিয়ে গোপনে এক ছেলের সাথে কোর্ট ম্যারিজ করে। পরে অভিভাবকরা জানতে পেরে সামাজিকতা রক্ষার জন্য মেয়ের চাচা ওলী হয়ে বয়স বাড়িয়ে ১৯ বছর করে ৭ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে আবার কোর্ট থেকে মেয়েকে ছেলের হাতে তুলে দেয়,যদিও তারা মন থেকে রাজি ছিল না।অতঃপর ২ মাস মেয়ে সংসার করার পর জানতে পারে ছেলে নেশা করে কোন কাজই করে না।মেয়ের ভরণপোষণ ও দিতে পারপ না।তারপর মেয়ে বাবার বাড়ি চলে আসে।এখন সে আর তার সাথে সংসার করতে চাচ্ছে না।ছেলে প্রায় প্রতিদিনই মেয়েকে নিতে আসে।এখন মেয়ে বলে আমি তোমার সাথে সংসার করব না।কিন্তু ছেলে কিছুতেই তাকে তালাক দিবে না।

উল্লেখ্য যে কাবিন নামার ১৮ নং কলামে স্ত্রী কর্তৃক তালাক গ্রহণের অনুমতি দেয়া আছে। কিন্তু ছেলে বুঝেশুনে স্ত্রীকে অধিকার দিছে না কি কাজী নিজ থেকে অনুমতি দিয়ে দিছে এটা আমার জানা নাই।

এখন প্রশ্ন হলো এভাবে স্ত্রী কর্তৃক ডিভোর্স দেয়া কি ইসলামে জায়েজ হবে কি না।একটু বিস্তারিত বললে মুনাসিব হবে।

1 Answer

0 votes
by (814,680 points)
ওয়া আলাইকুম আসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
তালাক প্রদান করা সম্পূর্ণ স্বামীর অধীকার।হ্যা শরীয়ত কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্ত্রীকে নিজের উপর তালাক প্রদানের অনুমোদন দিয়েছে।যেমন,স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাক প্রদানের অনুমতি প্রদান করলে,স্ত্রী নিজেকে তালাক দিতে পারবে।তাছাড়া স্বামী খোরপোষ না দিলে,স্ত্রী কাযী সাহেবের নিকট অভিযোগ দায়ের করতে পারবে।কিংবা স্বামী নিখোঁজ হলে বা ধ্বজভঙ্গ হলে কোর্ট বিবাহ ভঙ্গের রায় দিতে পারবে।

স্বামীর খোঁজখবর না থাকলে স্ত্রী চার বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।চার বছর অপেক্ষার পরও যদি স্বামীর কোনো খোঁজখবর না মিলে,কোর্ট স্বামীর পক্ষ্য থেকে বিবাহ ভঙ্গ করে দিবে।স্ত্রী তালাক দিতে পারবে না।তালাক দেয়ার অধীকার স্ত্রীর নেই।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/4506

كُلُّ كِتَابٍ لَمْ يَكْتُبْهُ بِخَطِّهِ وَلَمْ يُمِلَّهُ بِنَفْسِهِ لَا يَقَعُ بِهِ الطَّلَاقُ إذَا لَمْ يُقِرَّ أَنَّهُ كِتَابُهُ كَذَا فِي الْمُحِيطِ (الفتاوى الهندية،1/379, المحيط البرهانى،-4/486، تاتارخانية، -3/380)
ভাবার্থ- প্রত্যেক ঐ তালাকনামা যা স্বামী লিখেনি,স্বামী অস্বীকার করলে কোনো তালাকই পতিত হবে না।

সারমর্মঃ- স্বামীর স্বতঃস্ফূর্ত অনুমোদন ব্যতিত স্ত্রী কখনো তালাকের অধিকার পাবে না। স্বামীকে সরাসরি জিজ্ঞাসা না করে কাজী নিজ পক্ষ্য থেকে যদি ১৮ নং কলামে স্ত্রীকে অধিকার দিয়ে দেয়, তাহলে স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবে না। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1752

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
সে যদি স্বেচ্ছায় তালাকের অধিকার না দিয়ে থাকে, তাহলে ঐ মেয়েটি স্বামীকে তালাক দিতে পারবে না। পারিবারিক ভাবে বা কোর্টের মাধ্যমে বিষয়টিকে নিষ্পত্তি করতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...