আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
80 views
in ঈমান ও বিশ্বাস (Faith and Belief) by (5 points)
হযরত আনাস (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, যে আমাদের মত নামায পড়ে , আমাদের কেবলামুখী হয় এবং আমাদের যবেহকৃত প্রাণী খায়, সে মুসলমান। তার প্রতি আল্লাহ ও রাসূলের দায়িত্ব বর্তায়, অতএব তোমরা আল্লাহর দায়িত্বে হস্তক্ষেপ করো না। (বোখারী)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আলোচ্য হাদীসের মর্ম অনুধাবন করার জন্য এ বিষয়টি ভালভাবে স্মরণ রাখতে হবে যে, নবী করীম (ﷺ)-এর যুগে যখন ইসলামের দাওয়াত খুব বলিষ্ঠতার সাথে বিস্তৃতি লাভ করছিল তখন এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই সংঘটিত হত যে, কোন কোন লোকের ইসলাম গ্রহণ করার পর বিশেষ অবস্থা এবং প্রেক্ষাপটে তার ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে সন্দেহের সৃষ্টি হত। ধারণা করা হত যে, সম্ভবতঃ সে ইসলাম গ্রহণ করে নি। এধরনের লোকের সম্পর্কেই রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এ হাদীসে ইরশাদ করেছেন। তার উদ্দেশ্য হল যে, সাহাবায়ে কিরামকে এ বিষয়ে অবহিত করা যে, তারা যে ব্যক্তির মধ্যে ইসলামের বাহ্যিক আলামত লক্ষ্য করেন এবং যাকে ইসলামের তরীকা পদ্ধতি অনুযায়ী কিবলামুখী হয়ে নামায আদায় করতে দেখেন এবং মুসলমানের যবেহকৃত পশুর গোশত খেতে দেখেন তাকে যেন তারা মুসলিম জ্ঞান করেন এবং তার প্রাণ এবং সম্পদ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নিরাপত্তার অধীন মনে করেন। সে ইসলাম গ্রহণ করেনি বরং সে মুনাফিকের মত ইসলামের বাহ্যিক তরীকা এখতিয়ার করেছে প্রস্তুতি মন্দ ধারণার বশবর্তী হয়ে তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয়।


কোন কোন লোক হাদীসের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে ওয়াকেফহাল না হওয়ার কারণে এবং মারাত্মক অজ্ঞতার দরুন আলোচ্য হাদীস থেকে এ ধরনের ধারণা পোষণ করেন যে, যে বাক্তির মধ্যে ইসলামের বাহ্যিক আলামত বিদ্যমান রয়েছে, (কিবলামুখী হয়ে নামায পড়ে এবং মুসলমানদের যবেহকৃত পশুর গোশত খায়) সে, যে ধরনের আকীদা বিশ্বাস পোষণ করুক না কেন এবং কাফির ও মুশরিকসূলভ আমল করুক না কেন সে মুসলমান থেকে যায়।


বস্তুতঃ আলোচ্য হাদীসটি এ ধরনের লোকের সাথে সম্পর্কিত নয়। অধিকন্তু এ ধরনের লোককে মুসলমান গণ্য করার অর্থ হবে ইসলাম শুধু মাত্র এধরনের বাহ্যিক আমল ও আলামতেরই নাম এবং তাতে ঈমান এবং ই'তেকাদের কোন গুরুত্ব নেই। বলা বাহুল্য ইসলাম সম্পর্কে এর চেয়ে বেশী অজ্ঞতা এবং গোমরাহী অন্য কিছু হতে পারে না।


রেফারেন্স: ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)


—মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং 13


তাহকীক: বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)


এই হাদিসের আলোকে বর্তমান ইরানের শিয়া ,আয়তুল্লাহ খামেনি এরা কি আসলে মুসলিম কিনা তাদের ভ্রান্ত আকিদা থাকা সত্ত্বেও ? তাদের মাগফেরাতের এবং নাজাতের জন্য দুয়া করা যাবে কিনা?

1 Answer

0 votes
by (814,620 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
শিয়াদের মারাত্বক পর্যায়ের কিছু আকিদা হল, যেমন 
(১)বর্তমানে আমাদের সামনে যে কুরআনে কারীম রয়েছে,সেটা বিকৃত।
(২)হযরত আবু বকর উমর কাফির।
(৩) হযরত আযেশা রাযি এর ইফকের ঘটনা বাস্তব সম্মত।

এমন সব আকিদা গ্রহণ কারীরা অবশ্যই কাফির।
এদের সাথে কোনো রকম সম্পর্ক রক্ষা করা যাবে না।

তবে কিছু লোকের আকিদা আমাদের মতই। তবে তারা হযরত আলী রাযি সম্পর্কে বেশী মহব্বতের ইজহার করে থাকে,এমন আকিদা লোকজন কে কাফির বলা যাবে না।বরং তারা আমাদের মতই।তাদের সাথে সকল প্রকার যোগাযোগ রক্ষা করা যাবে।

বর্তমান সময়ের যে শিয়ারা ইরানে আছেন,তাদের সম্পর্কে বলা যায় যে, ইরানের ধর্মীয় নেতা রুহুল্লাহ খোমেনি "ইসনা আশারিয়া" সম্প্রদায়ের।
এদেরকে এক সময় শিয়াদের একটি সম্প্রদায়  "যায়দিয়া" (ইয়েমেনি হুথি) রা কাফের বলে আখ্যায়িত করেছিল। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/2632

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
সকল শিয়া কাফির নয়। বরং যাদের আকিদাতে কুফরি রয়েছে তারাই কাফের। ইরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থায় যারা রয়েছে, তাদের আকিদাতে কুফরি রয়েছে। আল্লাহ তাদেরকে হেদায়েত দান করুক।আমীন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...