আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
148 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (26 points)
edited by
আসসালামুআলাইকুম,
কয়েকজন বোনের প্রশ্ন-

1.

যাকাত সম্পর্কে দ্বিধার একটি উত্তম ফয়সালা জানতে চাই একেকজন হুজুর একেক রকম কথা বলছে।

আমার আম্মুর আলহামদুলিল্লাহ কিছু স্বর্ণ আছে যা সাড়ে সাত ভরি থেকে কম এবং জমানো কিছু টাকা আছে ব্যাংকে যেটা আম্মু আব্বুর থেকে বিভিন্ন সময় নিয়ে ধীরে ধীরে জমিয়েছে যেটা আব্বু জানেনা ।এখন স্বর্ণ আর এই জমানো টাকার নেসাব রূপার হিসেবে ধরলে যাকাত দিতে হবে একজন হুজুর বলল , কিন্তু আরেকজন হুজুর বলতেছে যাকাত আসবেনা কারণ এই টাকার মালিক নাকি আম্মু নাহ্ , আব্বুর বেতনের টাকা থেকে নেওয়া তাই যাকাত আসবেনা।
খুবই কনফিউশন এর মধ্যে আছি একটা উত্তম সমাধান দিন।

2.

  একজন বয়স্ক মানুষ রোজা রাখেন। চোখের অপারেশন করা হয়েছে এখন রোজা রাখলে সমস্যা হবে চোখে। তাই রোজা থাকছেন না।

আবার রোজা রাখলে শরীর বেশি শুকিয়ে যায় যার কারণে থাকতে দিতে চাচ্ছে না বাড়ি থেকে।

এই চোখ কবে ভালো হবে জানা নেই। আর শারীরিকভাবে কষ্ট করে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন। হাঁটুতে ব্যথা। হাঁটতে চলতে পারেন আলহামদুলিল্লাহ্।শরীরটা আগের থেকে শুকিয়ে গেছে। এজন্য বাড়িতে রোজা রাখতে নিষেধ করে।

এমতাবস্থায় তার রোজার হুকুম কি।

দ্রুত জানালে উপকৃত হবো ইনশাআল্লাহ্

[এ ব্যাপারে সারাংশ জানালে উপকৃত হবো ইনশাআল্লাহ্। মাসয়ালা পড়ে কিছু বুঝি নি]

3.

আমার হায়েজ অনিয়মিত হতো তাই ডাক্তার আমাকে হায়েজ নবয়মিত করার জন্য ঔষধ খেতে দেন তা ২১ দিন খেতে হয়। ২১ দিন পরে বন্ধ করে দিতে হয় ঔষধ খাওয়া আর তখন পিরিয়ড শুরু হয়। আমার ৭ দিন নিয়ম মতো পিরিয়ড থাকে। আমি ৪ রমজান থেকে পবিত্র হয়ে রোজা নামাজ পড়া শুরু করি। কিন্তু আমার ৯ রমজানে ইফতারের পর ঔষধ খেতে ভুলে যাই সেহেরি তে ও মনে ছিলো না। আর সারাদিন যেহেতু রোজা ছিলাম দিনে আর ঔষধ খাওয়া হয়নি। আর মাগরিবের পরে আমার ব্লিডিং শুরু হয়। পরে ঔষধ খেয়ে নেই ইফতারের পরে কিন্তু আমার হালকা হালকা ব্লিডিং হচ্ছে। আজ সুস্থতার ১৬ তম দিন কিন্তু আমার হালকা ব্লাড যাচ্ছে।  এখন কি আমি ঔষধ খাওয়া বন্ধ করে ১৬ তম দিন থেকে হায়েজ ধরে রোজা নামাজ বন্ধ করে দিবো?  নাকি ২১ দিন ঔষধ খেয়ে সময় মতো পিরিয়ড ধরে ১৩/১৪/বা১৫ তারিখে পিরিয়ড বলে ধরবো আর তখন নামাজ রোজা থেকে বিরত থাকবো? রমজান মাস এবাদত নামাজ রোজা খুব গুরুত্বপূর্ণ তাড়াতাড়ি সমাধান প্রয়োজন। ইনশাআল্লাহ

4.

আমার দাদু মারা যাওয়ার আগে বলে গিয়েছিলেন ওনার সোনা কাকে কোনটা দেওয়ার জন্য ওনার ছেলে মেয়েদের,, আমার দাদু মারা যাওয়ার আগে বলেছিলেন যে ওনার একটি সোনার চেইন আমাকে দেওয়ার জন্য।
এখন এইটা কি আমি রাখতে পারব না পারব না ? কারন মায়ের সোনা বা সম্পত্তি তো ছেলে মেয়েদের হক , নাতি নাতনিদের নয়, এইটা কি রাখতে পারব না কি আমার দাদুর ছেলে মেয়েদের মানে আমার আব্বু, চাচা , ফুপুদের কি দিয়ে দেব?


5.

আসসালামুয়ালাইকুম,,সম্পদের যাকাত কি একবারেই দিতে হবে?? যেমন আমাদের ৩ ভরি স্বর্ণ আছে আর ১.৫ লাখ টাকা আছে,১ বছর পর হয় গেছে এর আগে কখনও যাকাত দেওয়া হয় নি,,কিন্তু যাকাত দেওয়ার মতো হাতে আলাদা টাকা নেই,,আপাতত কিছু রূপা বিক্রি করে ১৭ হাজার টাকা ম্যানেজ হয়েছে,,এখন আর এর বাইরে হাতে কোনো টাকা নেই,,রমাদান মাসে এই কয়েকদিনে আর টাকা ম্যানেজ করাও সম্ভব না তাই আমি চাচ্ছি ২ ভরি স্বর্ণ আর দের লাখ টাকার যাকাত রমাদান মাসেই দিয়ে দিতাম আবার কিছুদিন পর বাকি ১ ভরি  স্বর্ণের যাকাত দিতাম,এভাবে যাকাত দিলে কি যাকাত আদায় হবে?নাকি একবারে সব সম্পদের যাকাত একসাথেই দিতে হবে??

জাযাকুমুল্লাহু খইরন

1 Answer

0 votes
by (763,290 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী স্বর্ণের ক্ষেত্রে যাকাতের নিসাব হল বিশ মিসকাল। -সুনানে আবু দাউদ ১/২২১; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক  হাদীস ৭০৭৭, ৭০৮২
আধুনিক হিসাবে সাড়ে সাত ভরি।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى قَالَا حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُوسَى أَنْبَأَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْمَعِيلَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ وَاقِدٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ وَعَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْخُذُ مِنْ كُلِّ عِشْرِينَ دِينَارًا فَصَاعِدًا نِصْفَ دِينَارٍ وَمِنْ الْأَرْبَعِينَ دِينَارًا دِينَارًا

ইবনু ‘উমার ও ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)  থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি বিশ দিনার বা তার চেয়ে কিছু বেশি হলে অর্ধ দিনার এবং চল্লিশ দিনারে এক দিনার (যাকাত) গ্রহণ করতেন।

ইবনে মাজাহ ১৭৯১ ইরওয়াহ ৮১৩।
দারাকুতনী ১৮৭৯, ১৮৯২।

সাড়ে ৫২ ভরি রুপা হলে তার উপর যাকাত ফরজ। 
হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 
عن أبي سعيد الْخُدْرِي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «ليس فيما دون خمس أَوَاقٍ صدقة، ولا فيما دون خمس ذَوْدٍ صدقة، ولا فيما دُونَ خمسة أَوْسُقٍ صدقة».  
[صحيح] - [متفق عليه]

আবূ সা‘ঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “পাঁচ উকিয়ার কম রৌপ্যমুদ্রায় যাকাত নেই এবং পাঁচটি উটের কমের ওপর যাকাত নেই। পাঁচ ওয়াসাক এর কম শষ্যের ওপর যাকাত নেই।”
(বুখারী,মুসলিম)

শরীয়তের বিধান হলো যদি কাহারো কাছে সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা কিংবা বাণিজ্য-দ্রব্য- এগুলোর কোনোটি পৃথকভাবে পূর্ণ  নিসাব পরিমাণ না থাকে, কিন্তু এসবের একাধিক সামগ্রী এ পরিমাণ রয়েছে, যা একত্র করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয় তাহলে এক্ষেত্রে সকল সম্পদ হিসাব করে যাকাত দিতে হবে।
(মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৬৬,৭০৮১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৩৯৩)

আরো জানুনঃ  

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে প্রথমে নির্ণয় করতে হবে উক্ত টাকাগুলির মালিক আসলে কে?

সে টাকাগুলো যে আপনার মা আপনার বাবা হতে না জানিয়ে নিয়েছিলেন, তাতে কি আপনার বাবার মৌন সমর্থন ছিল?

সমর্থন থাকলে তো সেই টাকার মালিক এখন আপনার মা।
সুতরাং এর যাকাত আপনার মাকে আদায় করতে হবে।

আর যদি সে টাকা নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার বাবার কোনরূপ সমর্থন না থাকে, সেক্ষেত্রে আপনার মা আপনার বাবাকে জিজ্ঞাসা করবে এ ধরনের টাকাগুলো তিনি কি ফেরত নিতে চান নাকি আপনার মাকে দিয়ে দিতে চান।

যদি তা আপনার মাকে দিয়ে দিতে চায়, সেক্ষেত্রে তার মালিক আপনার মা হয়ে যাবে।

এমতাবস্থায় আপনার মা টাকা এবং স্বর্ণের দরুন নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে বছর পূর্ণ হলে তার ওপর যাকাত ফরজ হবে।

(০২)
প্রশ্নে উল্লেখিত ব্যাক্তির অবস্থা যদি এমন হয় যে অভিজ্ঞ ডাক্তার তার সম্পর্কে বলে যে এই অবস্থায় রোযা তার শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
রোগ বৃদ্ধি পাবে বা রোগ-ভোগ দীর্ঘ হওয়ার প্রবল আশঙ্কা আছে,তাহল সে ব্যাক্তি রোযা না রাখতে পারবে।

পরবর্তীতে এর কাজা আদায় করবে,যদি সে আর কোনোদিন সুস্থ না হয়,তাহলে সে প্রত্যেক রোযার জন্য ফিদইয়াহ আদায় করবে । 

(০৩)
এক্ষেত্রে ঔষধ খাওয়া বন্ধ করে দিলে যদি ১৬ তম দিন থেকে নুন্যতম ৩ দিন ৩ রাত ব্লিডিং হয়,সেক্ষেত্রে সেটিকে হায়েজ ধরে রোজা নামাজ বন্ধ করে দিবেন।

(০৪)
তিনি যেহেতু উক্ত চেইন আপনাকে দেওয়ার অসিয়ত করে গিয়েছিলেন, আর আপনি যেহেতু আপনার নানার ওয়ারিশ নন, সুতরাং  আপনি এখন সে চেইন-এর হকদার হবেন।

(০৫)
এভাবে যাকাত দিলেও যাকাত আদায় হবে।

(উল্লেখ্য বিনা ওযরে যাকাত আদায়ে বিলম্ব করলে গুনাহ হয়।)


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
আসসালামুআলাইকুম, ১নম্বর প্রশ্নটির ক্ষেত্রে কিছু জানার ছিল যেমন : 
যদি আম্মু ব্যাংকে থাকা টাকার মালিকানা আমাকে(অবিবাহিত) বা আব্বুর নামে দিয়ে দেয় মৌখিক ভাবে যেমন " আজকে থেকে এই টাকার মালিক তুমি হলে " এমনটা বলে মালিকানা দেয়া যাবে ? নাকি লিখিত আকারে দিতে হবে ট্রান্সফার করতে হবে ??
 এটা আসলে যাকাত যেন দিতে না হয় এমনটা ভেবে   করা হলে তাহলে কি সেটা জায়েজ হবে ? নাকি আল্লাহর সাথে ফাকিবাজি করা হবে গুনাহ হবে  ??? 
by (763,290 points)
এ টাকা আপনার মা যদি ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে আপনার বাবার হাতে শর্তহীন পুরোপুরি দিয়ে দেয়, এবং আপনার বাবা যদি এতে যাচ্ছেতাই নিজের ইচ্ছামত ব্যবহারের ক্ষমতা পায়, তাতে যদি আপনার মায়ের কোন দাবি না থাকে, সেক্ষেত্রে আপনার মায়ের উপর যাকাত ফরজ হবে না।

উল্লেখ্য এক্ষেত্রে যাকাত থেকে বাঁচার জন্য আপনার মা যা করছেন, এতে তার গুনাহ হবে কিনা সেটা তার নিয়তের উপর নির্ভরশীল।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...