আসসালামুআলাইকুম,
কয়েকজন বোনের প্রশ্ন-
1.
যাকাত সম্পর্কে দ্বিধার একটি উত্তম ফয়সালা জানতে চাই একেকজন হুজুর একেক রকম কথা বলছে।
আমার আম্মুর আলহামদুলিল্লাহ কিছু স্বর্ণ আছে যা সাড়ে সাত ভরি থেকে কম এবং জমানো কিছু টাকা আছে ব্যাংকে যেটা আম্মু আব্বুর থেকে বিভিন্ন সময় নিয়ে ধীরে ধীরে জমিয়েছে যেটা আব্বু জানেনা ।এখন স্বর্ণ আর এই জমানো টাকার নেসাব রূপার হিসেবে ধরলে যাকাত দিতে হবে একজন হুজুর বলল , কিন্তু আরেকজন হুজুর বলতেছে যাকাত আসবেনা কারণ এই টাকার মালিক নাকি আম্মু নাহ্ , আব্বুর বেতনের টাকা থেকে নেওয়া তাই যাকাত আসবেনা।
খুবই কনফিউশন এর মধ্যে আছি একটা উত্তম সমাধান দিন।
2.
একজন বয়স্ক মানুষ রোজা রাখেন। চোখের অপারেশন করা হয়েছে এখন রোজা রাখলে সমস্যা হবে চোখে। তাই রোজা থাকছেন না।
আবার রোজা রাখলে শরীর বেশি শুকিয়ে যায় যার কারণে থাকতে দিতে চাচ্ছে না বাড়ি থেকে।
এই চোখ কবে ভালো হবে জানা নেই। আর শারীরিকভাবে কষ্ট করে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন। হাঁটুতে ব্যথা। হাঁটতে চলতে পারেন আলহামদুলিল্লাহ্।শরীরটা আগের থেকে শুকিয়ে গেছে। এজন্য বাড়িতে রোজা রাখতে নিষেধ করে।
এমতাবস্থায় তার রোজার হুকুম কি।
দ্রুত জানালে উপকৃত হবো ইনশাআল্লাহ্
[এ ব্যাপারে সারাংশ জানালে উপকৃত হবো ইনশাআল্লাহ্। মাসয়ালা পড়ে কিছু বুঝি নি]
3.
আমার হায়েজ অনিয়মিত হতো তাই ডাক্তার আমাকে হায়েজ নবয়মিত করার জন্য ঔষধ খেতে দেন তা ২১ দিন খেতে হয়। ২১ দিন পরে বন্ধ করে দিতে হয় ঔষধ খাওয়া আর তখন পিরিয়ড শুরু হয়। আমার ৭ দিন নিয়ম মতো পিরিয়ড থাকে। আমি ৪ রমজান থেকে পবিত্র হয়ে রোজা নামাজ পড়া শুরু করি। কিন্তু আমার ৯ রমজানে ইফতারের পর ঔষধ খেতে ভুলে যাই সেহেরি তে ও মনে ছিলো না। আর সারাদিন যেহেতু রোজা ছিলাম দিনে আর ঔষধ খাওয়া হয়নি। আর মাগরিবের পরে আমার ব্লিডিং শুরু হয়। পরে ঔষধ খেয়ে নেই ইফতারের পরে কিন্তু আমার হালকা হালকা ব্লিডিং হচ্ছে। আজ সুস্থতার ১৬ তম দিন কিন্তু আমার হালকা ব্লাড যাচ্ছে। এখন কি আমি ঔষধ খাওয়া বন্ধ করে ১৬ তম দিন থেকে হায়েজ ধরে রোজা নামাজ বন্ধ করে দিবো? নাকি ২১ দিন ঔষধ খেয়ে সময় মতো পিরিয়ড ধরে ১৩/১৪/বা১৫ তারিখে পিরিয়ড বলে ধরবো আর তখন নামাজ রোজা থেকে বিরত থাকবো? রমজান মাস এবাদত নামাজ রোজা খুব গুরুত্বপূর্ণ তাড়াতাড়ি সমাধান প্রয়োজন। ইনশাআল্লাহ
4.
আমার দাদু মারা যাওয়ার আগে বলে গিয়েছিলেন ওনার সোনা কাকে কোনটা দেওয়ার জন্য ওনার ছেলে মেয়েদের,, আমার দাদু মারা যাওয়ার আগে বলেছিলেন যে ওনার একটি সোনার চেইন আমাকে দেওয়ার জন্য।
এখন এইটা কি আমি রাখতে পারব না পারব না ? কারন মায়ের সোনা বা সম্পত্তি তো ছেলে মেয়েদের হক , নাতি নাতনিদের নয়, এইটা কি রাখতে পারব না কি আমার দাদুর ছেলে মেয়েদের মানে আমার আব্বু, চাচা , ফুপুদের কি দিয়ে দেব?
5.
আসসালামুয়ালাইকুম,,সম্পদের যাকাত কি একবারেই দিতে হবে?? যেমন আমাদের ৩ ভরি স্বর্ণ আছে আর ১.৫ লাখ টাকা আছে,১ বছর পর হয় গেছে এর আগে কখনও যাকাত দেওয়া হয় নি,,কিন্তু যাকাত দেওয়ার মতো হাতে আলাদা টাকা নেই,,আপাতত কিছু রূপা বিক্রি করে ১৭ হাজার টাকা ম্যানেজ হয়েছে,,এখন আর এর বাইরে হাতে কোনো টাকা নেই,,রমাদান মাসে এই কয়েকদিনে আর টাকা ম্যানেজ করাও সম্ভব না তাই আমি চাচ্ছি ২ ভরি স্বর্ণ আর দের লাখ টাকার যাকাত রমাদান মাসেই দিয়ে দিতাম আবার কিছুদিন পর বাকি ১ ভরি স্বর্ণের যাকাত দিতাম,এভাবে যাকাত দিলে কি যাকাত আদায় হবে?নাকি একবারে সব সম্পদের যাকাত একসাথেই দিতে হবে??
জাযাকুমুল্লাহু খইরন