আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
66 views
in ঈমান ও বিশ্বাস (Faith and Belief) by (24 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ

১। আগের এক ফতোয়ায় বলেছিলাম আমি দীর্ঘদিন ধরে স্বপ্নে জ্বীন দেখি। গত মাসে রুকাইয়্যা করেছিলাম আইওএম এর সেশনে। সেখানে সিহরের আয়াত তিলাওয়াত এর সময় বেশ কিছু অদ্ভুত লক্ষণ অনুভব করি, যাতে আমার প্রবল বিশ্বাস জন্মে যে, হয়তোবা আমাকে যাদু করা হয়েছে অথবা চেষ্টা চলছে। গতকাল আমি আরেকটি অদ্ভুত স্বপ্ন দেখতে পাই, নিন্মে বিবরণ দিচ্ছি।
আমাদের আগের বাসায় বাথরুমে আমি ওজু করবো, এমন সময় হটাৎ আমার ভয় লাগছিল। আম্মুকে ডাক দিলাম পাশে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য। আম্মু এমন কিছু বলেছিল যে, তুই ওজু কর। আমি টয়লেট সেরে আসছি। বাথরুমের পাশেই সেপারেট টয়লেট ছিল।
সেখানে জানালার বাহিরে কিছু আছে, বারবার এটা অনুভব হচ্ছিলো। ওজু সেরে অন্য রুমে যাই, কিন্তু ওটা আমাদের আগের বাসার কোনো রুম ছিল না। রুমে আমরা অনেকজন ছিলাম, কিন্তু আমি কাউকে চিনি না। সেখানে জানালার বাহিরে সাদা পোশাকে কে যেন বারবার উকি দিচ্ছিলো। চেহারা মনে নেই। সে বললো, তোর জাদুর চেইন অমুক জায়গার মধ্যে আছে। আমার পাশে টেবিল ছিল, ওখানের আশেপাশের জায়গা দেখাচ্ছিলো। আমি নিচে তাকাতেই দেখি চেইন টা নিচে পড়ে আছে। ওটা তুলে হাতে নিই। পাশের রুম থেকে বড় ভাইয়া এসে আমার সাথে দেখা করে সেইম আরেকটা চেইন দিয়ে যায়। বলে, সাবধানে রাখিস। অমুক বলেছিল, চেইন দিয়ে সরাসরি কে যাদু করেছে সেটা দেখা যায়। এগুলো যেন হারিয়ে না যায় অথবা কেউ যেন নিয়ে না যায়। আমি চেইন দুটো এক জায়গায় লুকিয়ে রাখি। ওগুলো লম্বায় ছিল হাতের শাহাদাত আঙুলের সমান।
প্রশ্ন হলো এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা কি? আমার কারো সাথে শত্রুতা নেই, আর এটা কল্পনাপ্রসূত হওয়ার সম্ভাবনা নিতান্তই কম। এসব নিয়ে আমি কখনো চিন্তা ফিকির করি না। রমাদ্বন মাস যেহেতু, শয়তানও বন্দি!!
২। একই সময়ে আল্লাহর পছন্দনীয় দুই কাজের কোনটি উত্তম তা জানতে চাই, নিম্নে বলছি ইনশা আল্লহ।
ধরুন আমি তাহাজ্জুদের সময় উঠেছি, এটা আল্লাহর প্রিয় আমল সমূহের একটি। সেই সময়ে হটাৎ আমার আম্মাকে সাহায্য করার প্রয়োজন দেখা দিল। তাহাজ্জুদের সময় খুবই কম। আমাকে যেকোনো একটি করতে হবে। হয় আম্মাকে সাহায্য করা, নয়তো তাহাজ্জুদ পড়া। কোনটি করা সর্বোত্তম?

একই ভাবে, আওয়াল ওয়াক্তে নামাজের জন্য যাবো, এমন অবস্থায় আব্বা আম্মাকে সাহায্যের প্রয়োজন এলো। তখন আমার কি করণীয়? আল্লাহর ডাকে সাড়া দেয়া নাকি আব্বা আম্মাকে সাহায্য করা?

৩। সহশিক্ষা যেহেতু হারাম, তাই এখানে পড়া সম্পূর্ণ নিষেধ হওয়ার কথা। শাইখগণ দুটি শর্ত বলে থাকেন। সেগুলো হলো, দেশ ও জাতির খিদমাহ এবং চোখের হিফাজত করা। প্রথমত, সহশিক্ষা যুক্ত প্রতিষ্ঠানে চোখের হিফাজত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কেউ চাইলেও পারবে না। দ্বিতীয়ত, দেশ ও জাতির খিদমাহ ও তো সম্ভব নয়। ভার্সিটি থেকে ইসলামের ইতিহাস কিংবা ইসলাম শিক্ষা নিয়ে পড়ে দেশ জাতির খিদমাহ করা যায় না। কারণ এগুলো নামমাত্র সাব্জেক্ট, খিদমাহ করার মতো কেউ কিছু শিখতে পারে না। সেখানে কেউ বাংলা, ইংরেজি, ম্যাথ, সাইন্স এসব সাব্জেক্ট নিয়ে পড়ে কিভাবে দেশ ও জাতির খিদমাহ করবে? এটা তো অসম্ভব! স্টুডেন্ট রা তো সর্বোচ্চ পড়াশোনা ভার্সিটি থেকে শেষ করে।
আমার যুক্তি সাপেক্ষে দুটি শর্ত-ই পালন করা প্রত্যেকের জন্য এক কথায় অসম্ভব! তাহলে ফতোয়ায় সরাসরি সহশিক্ষা থেকে বের হওয়ার জন্য না বলে শর্ত ইনক্লুড করা হয় কেন?
কেউ সহশিক্ষা থেকে বেরিয়ে যাবে, কিন্তু সাহসের জন্য পারছে না। এমতাবস্থায় ফতোয়া দেখে ভাবে, আমি দেশের খিদমাহ করবো। প্রকৃতপক্ষে দেশের খিদমাহ করা সম্ভব নয়। তাহলে সহশিক্ষাকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলা হচ্ছে না কেন?


৪। সালাত শেষে পায়জামাতে হাল্কা সাদাস্রাব দেখতে পাই, যা এক দিরহামের কম পরিমাণ ছিল। ওয়াক্ত থাকলে সেই নামাজ কি আবার পড়া আবশ্যক?
৫। পরিবারের মাহরামের ইনকামে হারাম জড়িত আছে। নিজের সামর্থ্য থাকা (একটা টিউশন করাই) সত্ত্বেও তার টাকা দিয়ে কিছু কিনলে সেই জিনিস কি হারাম হবে?

1 Answer

0 votes
by (766,770 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا اقْتَرَبَ الزَّمَانُ لَمْ تَكَدْ رُؤْيَا الْمُسْلِمِ تَكْذِبُ وَأَصْدَقُكُمْ رُؤْيَا أَصْدَقُكُمْ حَدِيثًا وَرُؤْيَا الْمُسْلِمِ جُزْءٌ مِنْ خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ وَالرُّؤْيَا ثَلاَثَةٌ فَرُؤْيَا الصَّالِحَةِ بُشْرَى مِنَ اللَّهِ وَرُؤْيَا تَحْزِينٌ مِنَ الشَّيْطَانِ وَرُؤْيَا مِمَّا يُحَدِّثُ الْمَرْءُ نَفْسَهُ فَإِنْ رَأَى أَحَدُكُمْ مَا يَكْرَهُ فَلْيَقُمْ فَلْيُصَلِّ وَلاَ يُحَدِّثْ بِهَا النَّاسَ "
মুহাম্মাদ ইবনু আবূ উমার আল-মাক্কী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন যুগ ও সময় (কিয়ামাতের) সন্নিকটে হয়ে আসবে তখন প্রায়শ (খাঁটি) মুসলিমের স্বপ্ন মিথ্যা ও ভ্রান্ত হবে না। তোমাদের (মাঝে) অধিক সত্যভাষী লোক সর্বাধিক সত্য (ও বাস্তব) স্বপ্নদ্রষ্টা হবে। আর মুসলিমের স্বপ্ন নুবুওয়াতের পয়তাল্লিশ ভাগের এক ভাগ। আর স্বপ্ন তিন (প্রকার)- ভাল স্বপ্ন আল্লাহর তরফ হতে সুসংবাদ (বাহক)। আর (এক ধরনের) স্বপ্ন শাইতানের পক্ষ হতে দুর্ভাবনা তৈরি করে। আর (এক ধরনের) স্বপ্ন যা মানুষ তার মনের সাথে কথা বলে (এবং ভাবনা-চিন্তা করে) তা থেকে (উদ্ভূত)।

অতএব তোমাদের কেউ যদি এমন কিছু (স্বপ্ন) দর্শন করে- যা সে পছন্দ করে না, তাহলে সে যেন (ঘুম থেকে) উঠে দাঁড়ায় এবং সলাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করে আর মানুষের নিকট সে (স্বপ্নের) কথা গোপন রাখে।
(মুসলিম ৫৭৯৮, (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৭০৮, ইসলামিক সেন্টার ৫৭৪০)

ইসলামী দৃষ্টিতে স্বপ্ন তিন প্রকার। 
,
১. যা আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাহকে দেখানো হয় যা কল্যানকর হয়।

২. শয়তানের পক্ষ হতে দেখানো হয় যাতে মানুষ খারাপ, মন্দ ভয়ংকর কিছু দেখে থাকে।
তবে শয়তান স্বপ্ন দেখানোর দ্বারা মানুষের কোন ক্ষতি করতে পারেনা।
,
ভয়ংকর স্বপ্ন দেখলে দুশ্চিন্তার কোন কারন নেই। শয়তান মানুষকে দুশ্চিন্তায় ফেলার জন্যই এমন সব আজব আজব জিনিস দেখায়। এমনটা দেখলে ঘুম থেকে জেগে বাম দিকে থুথু ফেলে আস্তাগফিরুল্লাহ বলতে হয়। 

৩. মানুষের কল্পনা। অর্থাৎ মানুষ যা কল্পনা করে স্বপ্নে তা দেখতে পায়। 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত স্বপ্ন ভয়ানক স্বপ্নের অন্তর্ভুক্ত। 
আপনি এ স্বপ্নের কথা কাউকে বলবেননা। 
বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইবেন,রাতে ঘুমানো আগে অযু করে পবিত্র কাপড়,পবিত্র বিছানায় তিন কুল পড়ে শরীরে ফুক দিয়ে আয়াতুল কুরসি পড়ে ঘুমাবেন।
একাকী ও পূর্ণ অন্ধকার রুমে না ঘুমানোর চেষ্টা করবেন।

আপনার জন্য করণীয় হল,
ইসলামের প্রত্যেকটি বিধানকে গুরুত্ব সহকারে মেনে চলুন।

বিশেষকরে সঠিক সময়ে সালাত আদায় করুন এবং চাইলে কিছুটা দান-সদকাহ করতে পারেন।

কেননা হাদীসে এসেছে....
হযরত কা'ব ইবনে উজরাহ রাযি থেকে বর্ণিত,
ﻭﻋﻦ ﻛﻌﺐ ﺑﻦ ﻋﺠﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝ ﻟﻲ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ( ﻭﺍﻟﺼﺪﻗﺔُ ﺗُﻄْﻔِﺊُ ﺍﻟﺨﻄﻴﺌﺔ ﻛﻤﺎ ﻳُﻄْﻔِﺊُ ﺍﻟﻤﺎﺀُ ﺍﻟﻨﺎﺭَ ) ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ( 614 )
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাহিসসালাম আমাকে বলেছেন,সদকাহ ভূলভ্রান্তিকে এমনভাবে মিটিয়ে দেয় যেভাবে পানি আগুনকে মিটিয়ে দেয়। (তিরমিযি-৬১৪)

(০২)
এক্ষেত্রে আপনার মা আপনাকে সাহায্যের জন্য ডাকলে মায়ের ডাকে সাড়া দেওয়ারই পরামর্শ থাকবে।

তদুপরি পরবর্তী হতে তাহাজ্জুদের জন্য এমন সময় ওঠার পরামর্শ থাকবে, যেক্ষেত্রে তাহাজ্জুদও আদায় করা যায়, মায়ের ডাকেও সাড়া দেওয়া যায়।

(০৩)
এটিই মূলত বিজ্ঞ ইসলামী স্কলারদের মত।

এক্ষেত্রে শরীয়তের গণ্ডির মধ্যে থাকা, পূর্ণ পর্দা মেইনটেইন করে ফিতনার আশঙ্কা মুক্ত থেকে পড়াশোনা করা এগুলো কেউ অনেক ওলামায়ে কেরামগন শর্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

আরো জানুনঃ- 

(০৪)
এক্ষেত্রে আপনার ওযু ভেঙ্গে গিয়েছে। তাই পুনরায় সেই সালাত আদায় করতে হবে।

(০৫)
সে ব্যক্তি যদি আপনার বাবা হয়,আর আপনি যদি অবিবাহিত হন, সেক্ষেত্রে তার টাকা দিয়ে প্রয়োজনীয় কোন কিছু ক্রয় করলে তা হারাম হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...