আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
256 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (1 point)
উস্তাদ, আমার দুটি প্রশ্ন ছিল, মেহেরবানি করে দিকনির্দেশনা দিলে উপকৃত হব ইনশাআল্লাহ।

১. মহিলারা কি মহিলাদের রুকইয়াহ করতে পারবেন? যেহেতু রুকইয়াহতে মূলত কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়া পড়া হয়, সে ক্ষেত্রে মহিলারা কি রাকি (রুকইয়াহকারী) হতে পারবেন? আর রুকিয়াহ এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা যাবে কি?

২. অনেক সময় রুকইয়াহর মধ্যে কুরআনের কিতাল ও হারক সম্পর্কিত আয়াতগুলো বারবার তিলাওয়াত করা হয়, যাতে জিন-শয়তান বের হয়ে যায়। এ সময় যদি আল্লাহর সাহায্যে ফেরেশতারা কোনো শয়তানকে হত্যা করে, সে ক্ষেত্রে এর হুকুম কী?

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!

মহিলা সাহাবিয়া রুকিয়া করতেন যেমনটা হাদীসে এসেছে,আশ-শিফা বিনতু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত।

عَنِ الشِّفَاءِ بِنْتِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَتْ: دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا عِنْدَ حَفْصَةَ فَقَالَ لِي: أَلَا تُعَلِّمِينَ هَذِهِ رُقْيَةَ النَّمْلَةِ كَمَا عَلَّمْتِيهَا الْكِتَابَةَ
নবী ﷺ আমাকে বললেন:“তুমি যেভাবে হাফসাকে লেখা শিখিয়েছ, সেভাবে তাকে নামলার রুকিয়া শিখিয়ে দাও।” (সুনানে আবি দাউদ-৩৮৮৭)

এটি খুব পরিষ্কার দলিল যে একজন মহিলা সাহাবিয়া রুকিয়া করতেন এবং নবী ﷺ অনুমতি দিয়েছেন।

স্ত্রী সাহাবিয়া রুকিয়া করেছেন

عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَنْفُثُ عَلَى نَفْسِهِ فِي الْمَرَضِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ بِالْمُعَوِّذَاتِ، فَلَمَّا ثَقُلَ كُنْتُ أَنْفِثُ عَلَيْهِ بِهِنَّ، وَأَمْسَحُ بِيَدِ نَفْسِهِ لِبَرَكَتِهَا. فَسَأَلْتُ الزُّهْرِيَّ كَيْفَ يَنْفِثُ قَالَ كَانَ يَنْفِثُ عَلَى يَدَيْهِ، ثُمَّ يَمْسَحُ بِهِمَا وَجْهَهُ.
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে রোগে ওফাত পান সেই রোগের সময়ে তিনি নিজ দেহে ’মু’আব্বিযাত’ পড়ে ফুঁক দিতেন। অতঃপর যখন রোগের তীব্রতা বেড়ে গেল, তখন আমি সেগুলো পড়ে ফুঁক দিতাম। আর আমি তাঁর নিজের হাত তাঁর দেহের উপর বুলিয়ে দিতাম। কেননা, তাঁর হাতে বারাকাত ছিল। রাবী বলেনঃ আমি যুহরীকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কীভাবে ফুঁক দিতেন? তিনি বললেনঃ তিনি তাঁর দু’ হাতের উপর ফুঁক দিতেন, অতঃপর সেই দু’ হাত দিয়ে আপন মুখমণ্ডল বুলিয়ে নিতেন। (সহীহ বুখারী-৫৭৩৫, সহীহ মুসলিম-২১৯২)

এই হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মহিলারাও রুকয়া করতে পারেন।

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) মহিলারা মহিলাদের রুকইয়াহ করতে পারবে।   রুকিয়াহ এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা যাবে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন https://www.ifatwa.info/997

(২) রুকইয়াহর মধ্যে কুরআনের কিতাল ও হারব সম্পর্কিত আয়াতগুলো বারবার তিলাওয়াত করা হয়, যাতে জিন-শয়তান বের হয়ে যায়। এই সময় যদি আল্লাহর সাহায্যে ফেরেশতারা কোনো শয়তানকে হত্যা করে, তাহলে এটা নাজায়েয হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...