আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
38 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (3 points)
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,
১)রুকইয়াহ বিষয়ক জরুরতে একজন রাক্বীর কাছে যাওয়ার পর তিনি আমাদের বলেছেন আমাদের দুই বোনের নাম হিন্দু নাম এবং এসব নামের প্রভাবেও মানুষ সিহরে আক্রান্ত হয় বা সমস্যা হতে পারে। বিষয়টা কি সত্যি?

২)আমাদের দুই বোনের যে নামে সবাই ডাকে,বার্থ সার্টিফিকেট,স্কুল কলেজের সার্টিফিকেট সকল কিছুতে দেওয়া, কিন্তু দুজনের আকিকা দেওয়া হয়েছিলো ইসলামিক নামে যেটা কেউ ডাকেনা । কেউ একজন বলেছিলো আমাকে যে নাম নিয়ে সমস্যা নেই,নাম হিন্দু মুসলমান হয়না আর তোমার নাম পুষ্প,যার অর্থ ফুল তো এটা নিয়ে সমস্যা দেখছি না। তাহলে করণীয় কি?

৩)নাম পরিবর্তন করলে পুনরায় আকীকা দেওয়া লাগবে? যদি না দিতে হয় এবং নাম পরিবর্তন করতেই হয় সেক্ষেত্রে আকীকা দেওয়া হয়েছিলো যে নামে সেটা কি পরিবর্তন করে অন্যটা রাখতে পারি?

৪) যেই রাক্বীর কাছে গিয়েছিলাম,তিনি আমাদেরকে আইওএমের কথা বলেছেন, এখান থেকে পড়াশোনা করেছেন,উস্তাদগণের অনেকে উনাকে চিনেন, সুপরিচিত নানান কিছু বলেছেন। আইওএম থেকে রুকইয়াহ ট্রেনিং নিয়েছেন এটা বলেছেন কিনা ঠিক মনে নেই, রাক্বী লিস্টে আমি উনার নাম পাইনি। সালাতের সময় উনার চেম্বারের পেছনেই জামাত হওয়া সত্ত্বেও সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও উনি জামায়াতে যাননি বিষয়টা ভালো লাগেনি আরোও কিছু বিষয় ছিলো। আমার বাবা রুকইয়াহ এসবে পুরোপুরি বিশ্বাসী নন,করাতে চান না। আমরা নিজেরাও এই প্রথমবার কোন রুকাইয়া সেন্টারে গিয়েছি, সেখানে অন্য কোনো রোগী ছিলো না। ফি টাও বেশি, আইওএম নির্ধারিত ফি এর দ্বিগুণের চেয়েও বেশি, আবার প্রতি সেশনেই ফি । বাবার অনুমতিহীন আমাদের পক্ষে বারবার রুকইয়াহ করা সম্ভব নয় (আর্থিক বিষয়) আবার অবস্থাও বেগতিক,রুকইয়াহ অতি আবশ্যক হয়ে পড়েছে পরিবারের সবার জন্য । সঠিকতা যাচাই করবো কীভাবে যে আসল রাক্বীর কাছেই গিয়েছি? অথবা কোথায় যেতে পারি কোনো পরামর্শ দিবেন হুজুর? লোকেশন: ময়মনসিংহ সদর ।

1 Answer

0 votes
by (762,960 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
মানসিকতা ও স্বভাবের উপর নামের একটা প্রভাব থাকে।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

أَخْبَرَنِي عَبْدُ الحَمِيدِ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ شَيْبَةَ، قَالَ: جَلَسْتُ إِلَى سَعِيدِ بْنِ المُسَيِّبِ، فَحَدّثَنِي: أَنّ جَدّهُ حَزْنًا قَدِمَ عَلَى النّبِيِّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ فَقَالَ: مَا اسْمُكَ؟ قَالَ: اسْمِي حَزْنٌ، قَالَ: بَلْ أَنْتَ سَهْلٌ. قَالَ: مَا أَنَا بِمُغَيِّرٍ اسْمًا سَمّانِيهِ أَبِي قَالَ ابْنُ المُسَيِّبِ: فَمَا زَالَتْ فِينَا الحُزُونَةُ بَعْدُ.

আবদুল হুমাইদ বিন শায়বা বলেন, আমি হযরত সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের কাছে বসা ছিলাম। তিনি তখন বললেন, আমার দাদা ‘হাযান’ একবার নবীজীর দরবারে উপস্থিত হলেন। নবীজী তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কী? দাদা বললেন, আমার নাম হাযান। (হাযান অর্থ শক্তভূমি) নবীজী বললেন- না, তুমি হচ্ছ ‘সাহল’ (অর্থাৎ তোমার নাম হাযানের পরিবর্তে সাহল রাখো; সাহল অর্থ, নরম জমিন।) দাদা বললেন, আমার বাবা আমার যে নাম রেখেছেন আমি তা পরিবর্তন করব না। সাইদ ইবনুল মুসায়্যিব বলেন, এর ফল এই হল যে, এরপর থেকে আমাদের বংশের লোকদের মেযাজে রুঢ়তা ও কর্কশভাব রয়ে গেল। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৬১৯৩

নামের একটি প্রভাব সন্তানের উপর পড়ে,তাই রাসুলুল্লাহ সাঃ কোনো নামের অর্থ মন্দ দেখলে সেই নাম পরিবর্তন করে দিতেন।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

«وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - أَنَّ بِنْتًا كَانَتْ لِعُمَرَ يُقَالُ لَهَا: عَاصِيَةُ فَسَمَّاهَا رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - جَمِيلَةً» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ)-এর কন্যাকে ‘আসিয়াহ্ বলা হত। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নাম পরিবর্তন করে রাখলেন ‘‘জামীলাহ্’’।সহীহ : মুসলিম ১৫-(২১৩৯), ইবনু মাজাহ ৩১৩৩, 

«وَعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - قَالَ: أُتِيَ بِالْمُنْذِرِ بْنِ أَبِي أُسَيْدٍ إِلَى النَّبِيِّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - حِينَ وُلِدَ، فَوَضَعَهُ عَلَى فَخِذِهِ فَقَالَ: " مَا اسْمُهُ؟ " قَالَ: فُلَانٌ. قَالَ: " لَا، لَكِنِ اسْمُهُ الْمُنْذِرُ» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুনযির ইবনু আবূ উসায়দ যখন ভূমিষ্ঠ হলো, তখন তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আনা হলো। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে নিজের রানের উপর রাখলেন এবং জিজ্ঞেস করলেনঃ তাঁর নাম কী? উত্তরদাতা বলল : ‘‘অমুক’’। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ ‘‘না’’; বরং তাঁর নাম ‘‘মুনযির’’।সহীহ : বুখারী ৬১৯১, মুসলিম ২৯-(২১৪৯), তিরমিযী ২৩৮, ইবনু মাজাহ ২৭৫,

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
নামের প্রভাবেও মানুষ সিহরে আক্রান্ত হয়,এ ধরনের কথা কুরআন হাদীসে পাইনি।

তবে হাদীস দ্বারা জানা যায় যে মানসিকতা ও স্বভাবের উপর নামের একটা প্রভাব থাকে।

(০২)
এক্ষেত্রে ইসলামী যে নাম দিয়ে আপনার আকিকা দেওয়া হয়েছিল, সে নামেই যেন মানুষ আপনাকে ডাকে, এটার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

(০৩)
নাম পরিবর্তন করলে পুনরায় আকীকা দেওয়া লাগবেনা। যদি নাম পরিবর্তন করতে হয়, সেক্ষেত্রে যে নামে আকীকা দেওয়া হয়েছিলো, সেটা পরিবর্তন করে অন্যটা রাখতে পারবেন।

(০৪)
এক্ষেত্রে বিষয়টি আপনাকে যাচাই করতে হবে।

তিনি যে কাজ করেন,তাতে কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম, দুআয়ে মাসুরা বা শিরকমুক্ত অর্থবোধক থাকলে, আরবী ছাড়া অন্য ভাষায় লিখা না হলে সেক্ষেত্রে তাহা জায়েজ হবে।

অন্যথায় জায়েজ হবেনা।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...