আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
44 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (11 points)

সালাতুল ইশরাক সম্পর্কিত (১–৪)

জামাতে নামাজের পর সেই স্থানে বসে যিকির করতে হবে। সূর্য ওঠার প্রায় ১৫ মিনিট পর ২ রাকাত নামাজ আদায় করতে হবে। এতে একটি কবুল হজ ও উমরাহর সমান সওয়াব পাওয়া যাবে।

প্রশ্ন ১ মেয়েদের তো জামাত নেই। তারা কি যেকোনো সময় ফজর পড়ে সেই স্থানে বসে যিকির করলেই হবে? নাকি ছেলেদের জামাত যখন হয় তখনই বাসায় বসে ফজর পড়ে যিকির করতে হবে?

প্রশ্ন ২ আমি খাটে নামাজ পড়ি। নামাজের স্থানে খাটে এতক্ষণ বসে থাকা কষ্টকর। সেই স্থানে শুয়ে যিকির করলে কি হবে, নাকি এতে নামাজের সওয়াব কমে যাবে?

প্রশ্ন ৩ আমি কি ফজর পরে হাঁটতে হাঁটতে যিকির করতে পারব? অনেক দিন বেশি ঘুম ধরে তখন হাঁটলে ভালো হয়। হাঁটলে কি ইশরাক নামাজের সওয়াব কমে যাবে?এছাড়া ফজর পরে সেই স্থানে অজুসহ বসে যতক্ষণ যিকির করা হয়, ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকে। হাঁটতে হাঁটতে যিকির করলে ফেরেশতাদের দোয়া কি পাওয়া যাবে?

প্রশ্ন ৪ যদি মাঝখানে অজু নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে সেই স্থান থেকে উঠে গিয়ে অজু করে আসলে নামাজের সওয়াব কমে যাবে কি? এছাড়া ফজর পরে সেই স্থানে অজুসহ বসে যতক্ষণ যিকির করা হয়, ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকে। অজু নষ্ট হলে আবার অজু করে এসে বসে যিকির করলে কি ফেরেশতারা আর দোয়া করবে না?

প্রশ্ন ৫ আমার মুখে অ্যাকনে সমস্যা আছে। প্রতিদিন ফেসওয়াশ করতে হয়, না হলে অনেক পিম্পল ওঠে। ইতিকাফের কারণে মুখের অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, আমার রুম থেকে একটু দূরে ওয়াশরুম। আমি কি ওয়াশরুমে গিয়ে ফেসওয়াশ করতে পারব? বা কী করণীয়?

প্রশ্ন ৬ নামাজে আগে কিছু ভুল করতাম—উচ্চারণে এক হরফের জায়গায় আরেক হরফ উচ্চারণ করতাম, যেগুলো কাছাকাছি উচ্চারণের হরফ। এখন আমি সঠিক হরফগুলো জানি। কিন্তু অনেক দিনের অভ্যাসের কারণে আমি ভুল উচ্চারণে পড়ছি। পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মনে হয়—না, এখানে ওই হরফ হবে। তখন কি আমার নামাজ ভেঙে যাবে, নাকি আমি তখনই শুদ্ধ করে পড়ে নেব? উল্লেখ্য, আমি নামাজ ভেঙে গেছে ধরে এক নামাজ ৩–৪ বার পড়ছি এবং প্রতি ওয়াক্তে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছি।

প্রশ্ন ৭ কখনো কখনো নামাজে জিহ্বা ফসকে কিছু হরফ ভুল হয়ে যায়। এসব হঠাৎ ভুল হলে কি সঙ্গে সঙ্গে শুদ্ধ উচ্চারণ করে নেব, নাকি নামাজ ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন ৮ শুধু মাহরাম আত্মীয়দের খোঁজ নেওয়া ফরজ, নাকি রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়দেরও? যেমন আমার ছেলে কাজিন। যদি তাদের খোঁজ নেওয়া ফরজ হয়, তাহলে কীভাবে শরিয়াহ মেনে তাদের খোঁজ নেব? এছাড়া তাদের অতিথি হিসেবে বাসায় দাওয়াত করা যাবে কি না?

প্রশ্ন ৯ আমার পিতামাতার মামা, খালা, ফুফু, চাচাদের খোঁজ নেওয়া কি আমার জন্য ফরজ? আমি যতদূর জানি, পিতামাতার মামা ও চাচা আমার মাহরাম।

প্রশ্ন ১০ইতিকাফে কি সবসময় আল্লাহ তায়ালার কথাই মাথায় রাখতে হবে, নাকি অন্য কিছু মনে হতে পারে? আমি কোনোভাবেই পূর্ণ সময় আল্লাহর কথা স্মরণ রাখতে পারছি না। আমার ইতিকাফ কি হবে না? সুন্দর ইতিকাফের জন্য কী করণীয়? আমি নামাজ, যিকির, দোয়া, ইস্তেগফার—এসব নিয়েই আছি। তবুও অন্য কথা মনে পড়ে।

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/36609/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

হযরত আনাস রাযি,থেকে বর্ণিত

(مَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ فِي جَمَاعَةٍ ثُمَّ قَعَدَ يَذْكُرُ اللَّهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ، كَانَتْ لَهُ كَأَجْرِ حَجَّةٍ ، وَعُمْرَةٍ ، تَامَّةٍ ، تَامَّةٍ ، تَامَّةٍ)

রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ফজরের নামায পড়বে,অতঃপর সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহর যিকিরে লিপ্ত থাকবে,তারপর দু'রাকাত নামায পড়বে,তাহলে সে একটি হজ্ব ও একটি উমরার সওয়াব পাবে।এরপর তিনি তাকিদ করে বলেন,হ্যা পূর্ণ হজ্ব ও উমরার সওয়াব সে পাবে।(সুনানু তিরমিযি-৫৮৬)

( أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا صَلَّى الْفَجْرَ جَلَسَ فِي مُصَلَّاهُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ حَسَنًا )
রাসূলুল্লাহ সাঃ ফযরের নামাযের পর পরিপূর্ণ সূর্যোদয়ের পর্যন্ত মুসল্লায় বসে থাকতেন।(সহীহ মুসলিম-৬৭০)


★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন, 
মহিলারা যদি ঘরে নামাজ আদায় করে নামাজ আদায়ের স্থানেই বসে থেকে যিকির আযকার কুরআন তিলাওয়াত করতে থাকে ,কথাবার্তা,খাওয়া দাওয়া /দুনিয়াবি কাজ কর্মে লিপ্ত না হয়,সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহর যিকিরে লিপ্ত থেকে, তারপর দু'রাকাত নামায পড়ে,তাহলে তারাও একটি হজ্ব ও একটি উমরার সওয়াব পাবে।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন, 
(০১)
ফজরের ওয়াক্তের মধ্যে যে কোন টাইমে ফজরের নামাজ আদায় করে ইশরাকের জন্য বসে থেকে জিকির আকার করে পরবর্তীতে ইশরাক নামাজ আদায় করলে সে উক্ত ফজিলত পাবে।

(০২)
না ঘুমিয়ে যিকির আযকার চালিয়ে গেলে উক্ত ফজিলত পাবেন।

(০৩)
এক্ষেত্রে উপরে উল্লেখিত হাদিসের ফজিলত পূর্ণভাবে পাওয়া যাবে না।

(০৪)
এতে নামাজের ছওয়াব কমে যাবেনা,ইনশাআল্লাহ। 

(০৫)
পারবেন না।

এক্ষেত্রে আপনি ইতিকাফের রুমে থেকেই ফেসওয়াশ করে ইস্তিঞ্জার জন্য যাওয়া/আসার ক্ষেত্রে অযুর সময় আপনি মুখ ধুয়ে আসতে পারেন।

(০৬)
ভুল হয়ে গেলে তখনই শুদ্ধ করে পড়ে নিতে হবে।

উল্লেখ্য আপনি সুরা ফাতেহা ও আর বাকি চারটি সূরা এমন ভালোভাবে মুখস্ত করে নিবেন, যাতে সেই সূরা গুলোতে একটিও ভুল না থাকে।

আর নামাজের মধ্যে শুধুমাত্র সেই সূরাগুলোই তেলাওয়াত করবে, যাতে নামাজের মধ্যে আর এ ধরনের কোন ভুল হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে।

(০৭)
সঙ্গে সঙ্গে শুদ্ধ উচ্চারণ করে নিবেন।

(০৮)
গায়রে মাহরাম দের খোঁজখবর নিতে হবেনা।

(০৯)
না,ফরজ নয়। 

(১০)
সর্বদা এটি বাধ্যতামূলক নয়।

জিকির ছাড়াও কোরআন তেলাওয়াত নামাজ ইত্যাদি ইবাদত করতে পারেন। পাশাপাশি বিরক্ত লাগলে সে ক্ষেত্রেও এমনিতেও শুয়ে থাকতে পারেন, চুপচাপ থাকতে পারেন, কোন সমস্যা নেই।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...