আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
79 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম,আমার মামার সাথে আমার আম্মুর জমির এগ্রিমেন্ট নেয়া আছে। সিস্টেমটা হচ্ছে- জমি মামার,মামা ২০২৫ এর জৈষ্ঠ্য মাসে তার জমির ১ বিঘার উপর ১ লাখ টাকা আম্মুর থেকে নিয়েছে। ১ বছর পর মানে ফসলের ২ সিজন(জৈষ্ঠ্য+অগ্রহায়ণ) পর সে ১০ হাজার টাকা দিবে। ২ বছরের চুক্তিতে নিয়েছে।কিন্তু জমি মামার ই থাকবে।জমি আম্মু দেখে নি। টাকা নেয়ার শুরুতেই  ২০২৫ এই মামা ১০ হাজার দিয়ে দিছে মানে ৯০,০০০টাকা নিয়েছে মামা। আবার ২০২৬ এর জৈষ্ঠ্য মাসে ১০,০০০ টাকা দিবে।২০২৭ এ যেয়ে চুক্তি শেষ হবে। তখন ১০,০০০টাকা আর দিবে না। শুধু আসল টাকা ১লাখ দিবে।কিন্তু চুক্তি শেষ হলে আম্মু বছর প্রতি ৫০০ টাকা কম নিবে মানে ২ বছরের জন্য ১,০০০টাকা কম নিয়ে মোট ৯৯হাজার টাকা নিবে। বছর প্রতি ৫০০টাকা আম্মু জমির খরচবাবদ আসল থেকে কেটে কম নেয়। এভাবে কি জায়েজ আছে? আর এই সম্পদের যাকাত কিভাবে দিবে? আম্মুর এরকম করে বেশ কয়েক বিঘা জমি এগ্রিমেন্ট নেয়া আছে। আমি শুধু একটা জমিরটা বললাম,সিস্টেম সব একই।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ- 
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم  

প্রশ্নে উল্লেখিত পদ্ধতিকে বাংলায় কট বা বন্ধক রাখা বলে।
বন্ধক রাখা হয় ঋণ আদায়ের নিশ্চয়তাস্বরূপ। এতে ঋণদাতা নিশ্চিত থাকেন যে ঋণ আদায় না করলেও বন্ধককৃত বস্তু থেকে আদায় করে নেওয়া যাবে। 

পবিত্র কোরআনেও এর নির্দেশ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর যদি তোমরা সফরে থাকো এবং কোনো লেখক না পাও, তাহলে হস্তান্তরিত বন্ধক রাখবে। আর যদি তোমরা একে অপরকে বিশ্বস্ত মনে করো, তবে যাকে বিশ্বস্ত মনে করা হয়, সে যেন স্বীয় আমানত আদায় করে এবং নিজ রব আল্লাহকে ভয় করে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৮৩)
,
বন্ধককৃত বস্তু বন্ধকগ্রহীতার কাছে আমানতস্বরূপ। 

★বন্ধকি জমি থেকে বন্ধকগ্রহীতার কোনো ফায়দা হাসিল করা নাজায়েজ ও হারাম। এমনকি বন্ধকদাতা এর অনুমতি দিলেও পারবে না। কারণ বন্ধকি জমি থেকে বন্ধকগ্রহীতা কোনো ধরনের ফায়দা উপভোগ করা সুদের অন্তর্ভুক্ত, যা হারাম। (বাদায়েউস সানায়ে : ৬/১৪৬)

ইবনে সিরিন (রহ.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক লোক সাহাবি ইবনে মাসউদ (রা.)-এর কাছে জিজ্ঞেস করল, এক ব্যক্তি আমার কাছে একটি ঘোড়া বন্ধক রেখেছে, তা আমি আরোহণের কাজে ব্যবহার করেছি। ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, তুমি আরোহণের মাধ্যমে এর থেকে যে উপকার লাভ করেছ তা সুদ হিসেবে গণ্য হবে। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস : ১৫০৭১)
,
বিখ্যাত তাবেয়ি ইমাম কাজি শুরাইহ (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, সুদ পান করা কিভাবে হয়ে থাকে? তিনি বলেন, বন্ধকগ্রহীতা বন্ধকি গাভির দুধ পান করা সুদ পানের অন্তর্ভুক্ত। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস : ১৫০৬৯)
,
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত পদ্ধতি জায়েজ নয়।
এটি সুদের অন্তর্ভুক্ত। 

এভাবে সেই জমি থেকে নিজে চাষাবাদ করা বা অন্য কাউকে দিয়ে চাষাবাদ করানো কোনোটাই জায়েজ নেই,সেই জমি থেকে কোনো ভাবেই উপকৃত হওয়া জায়েজ যাবেনা।

★এক্ষেত্রে আপনার মা যে টাকা দিয়েছে সে টাকা উসুল হওয়ার পর তার যাকাত দিতে হবে।

এ টাকা উসুল হতে কয়েক বছর সময় লেগে গেলে বিগত প্রত্যেক বছরের হিসাব করে যাকাত প্রদান করতে হবে।
,     
বৈধ পদ্ধতি সম্পর্কে জানুনঃ 

এ সংক্রান্ত বিস্তারিত মাসয়ালা জানুনঃ 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...