আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
69 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহ, উস্তাদ আমার এক ফ্রেন্ডের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করছি!
আমার বয়স ২৮,আমার আম্মুর ৫৫ আর আব্বুর ৫৭।আমার আম্মু,নানুর বাড়ির মানুষ প্রচন্ড মেটেরিয়ালিস্টিক আর লোভী।ওনাদের জন্য যতক্ষণ কেউ টাকা খরচ করতে পারে বা প্রাউড ফিল করাতে পারে ততক্ষণ সে ভালো।আমি নিজের পছন্দে বিয়ে করি।আমার বাবা বিয়ে মেনে নিলেও আমার মা মেনে নেননি।আমার ভর্তি পরীক্ষার পর থেকে আমার মা আমার উপর মানসিক অত্যাচার শুরু করেন।উনি আমাকে সহ্যই করতে পারতেন না।কিছু থেকে কিছু হলে রাগ করে নানুর বাসায় চলে যেতেন।এলাকার প্রত্যেক্টা মানুষের সাথে জায়গা জমি নিয়ে ঝগড়া করতেন।আব্বুর সাথে তো প্রতিদিন ই করতেন।উনি কখনো শান্তিতেই থাকতে চাইতেন না।দুইদিন ভালো থাকলে তিনদিনের দিন পুরান ঘটনা টেনে সেটা নিয়ে সারাদিন বকাবকি করতেন। আমি কেন হলিক্রস থেকে চলে আসছি কেন মেডিক্যাল এ চান্স পাইনাই এইজন্য আমাকে এখন পর্যন্ত কথা শুনায়।আমাকে প্রতিনিয়ত সবার সাথে তুলনা করেন।উনি আমাকে নিয়ে প্রচন্ড অবসেসড আমি আব্বুকে একটু কেয়ার করলে উনি সহ্য করতে পারেন না।এখন আমার বিয়ের পর আমি আমার হাজব্যান্ডকে কে নিয়ে কেন ভালো আছি ওনাকে ছাড়া উনি ওইটাও সহ্য করতে পারেন না।আমাদের প্রেমের বিয়ে তাও ওনার নানা অত্যাচারের কারণে বাসা থেকে বের হয়ে আসতে বাধ্য হই।অনেকবার মাফ চাইসি মানানোর ট্রাই করসি।আমার হাজব্যান্ড সফটওয়্যার ইঞ্জিয়ার,সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ কম্পলিট করেছে এই বছর,যথেষ্ট মেধাবী আলহামদুলিল্লাহ তাও আমার মা তাকে মেনে নিতে চাননা।আমার চাকরি হওয়া ছাড়া মেনে নিবেন না।উনি আমাকে চাকরি নিয়ে এত প্রেশার দেন আমি ভালো প্রিপারেশন নিলেও পরীক্ষার হলে আমি নার্ভাস হয়ে যাই।ছোটবেলা থেকে আমি দেখসি ওনার ভালোবাসা আমার আব্বু আর আমার জন্য কন্ডিশনাল আমি যতদিন ভালো রেজাল্ট করসি ওনাকে প্রাউড ফিল করাইসি ততদিন আমাকে আদর করত।যখন থেকে পারিনাই তখন থেকে আমাকে আর আদর করেনা।সকালে ঘুম ভাংতো ওনার ঝগড়া আর বকাবকির শব্দে এবং তা সারাদিন চলত।এলাকার প্রত্যেকটা মানুষের সাথে জমি নিয়ে ঝগড়া করতেন। আমার আব্বু আম্মুর ঝগটার কথা পুরা এলাকা জানে।এসব নিয়ে আমি প্রচুর হীনমন্যতায় ভুগতাম।আমাদের জায়গা জমি বাড়ি সবই আছে তো আম্মু মনে করে আমার জামাই সম্পত্তির লোভে আমাকে বিয়ে করসে।উনি আমার হাজবেন্ড কে সহ্যই করতে পারেন না।আমার হাজবেন্ড আমাকে অনেক ভালো রাখসে আলহামদুলিল্লাহ আমি আমার মা বাবার কাছে যে ভালোবাসা কেয়ার পাইনাই আমার হাজব্যান্ড এর কাছে পাইসি।এখন আমার আম্মু আব্বুর জন্যও চিন্তা হয় কিন্তু কোন ভালোবাসা বা টান কাজ করেনা।আমার আত্নীয়স্বজন ও আমার মাকে বুঝায় না।তারা প্রত্যেকেই প্রচণ্ড পুরুষবিদ্বেষী তাদের কথা হচ্ছে জামাই থাকবে শুধুমাত্র প্রোভাইড করার জন্য।জামাইকে ভালোবাসা যাবেনা।সবসময় তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতে হবে। ভালোবাসলে টান দেখালে নাকি প্রশ্রয় পেয়ে যায়।ইভেন আমার বয়স বাড়তেছে আমার মা বলে দিসে চাকরির আগে যদি বাচ্চা হয় কখনো আমাদের বিয়ে মেনে নিবেন না।অন্যদিকে আমার আব্বু আমার কোন দ্বায়িত্ব নিতে চাননা।তিনি আমাদের বিয়ে মেনে নিসেন।মেনে নিলেও উনি নিজে দ্বায়িত্ব নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ে দিতে রাজিনা।প্রথমত উনি আম্মুকে ভয় পান।দ্বিতীয়ত উনি অনেক কৃপণ। বিয়ের জন্য যে টাকা খরচ হবে ওইটা তিনি করতে চাননা।আমাকে আমার আব্বুও চাকরির জন্য প্রেশার দেন। ওনাদের কথা হইসে আমি চাকরি করে নিজের বিয়ের খরচ নিজে দিব।আমার আম্মু প্রচন্ড হিসাবি।ব্যাংকে টাকা জমানো,স্বর্ণ কেনা ওনার নেশা।
এরপরে আমাদের ফ্যামিলির কোন প্রাইভেসি নাই আমার আব্বুকে কিছু বললে বা শেয়ার করলে সবার আগে আমার খালাদের বলে আমার আম্মুও,কিন্তু নিজেরা স্বামী স্ত্রী কথা বলেনা। এগুলা আমাকে প্যারা দেয় যে আমি আমার মা বাবার সাথে মন খুলে কিছু শেয়ার করতে পারিনা।আর অন্যরা তাদের এইসব আচরণ এর সুযোগ নেয়।

আমার আম্মু আমার নানুদের কথায় অনেক ম্যানিপুলেটেড হন।আমার নানুরা পজিশন দেখে মানুষকে বিচার করে।ওনারাও যে ওনাদের জন্য খরচ করে তাকে ভালো জানে যে করেনা তাকে ভালো জানেনা।মানুষের জামা কাপড়,গয়না এগুলা দেখে জাজ করে।আর সারাক্ষণ তুলনা করে।
আমি প্রায় ২ বছর এসবের জন্য কারো সাথে যোগাযোগ করিনাই আমি অনেক ভালো ছিলাম তখন মানসিক ভাবে।কিন্তু অপরাধবোধও কাজ করত যে বাবা মায়ের পাশে থাকতে পারতেসিনা।আমি কিন্তু থাকতে চাই ওনাদের বিপদে আপদে,আনন্দে কিন্তু আমার মার অনেক শর্ত।উনি চান আমি আমার হাজব্যান্ড কে ছেড়ে দেই।আবার উনি চান আমি খালি সবার জন্য টাকা খরচ করে প্রমাণ করতে থাকি আমাদের আছে টাকাপয়সা।সবকিছু মিলায়ে আমার মা বাবা দুইজনেই আমার জন্য ট্রমা হয়ে গেছে।আমি ওনাদের সহ্য করতে পারিনা।আমি আম্মু আব্বুর সাথে কথা বললেই খারাপ ব্যবহার করি।আবার আমি যে ওনাদের এই বয়সে ওনাদের পাশে থাকতে পারতেসিনা এইজন্যও আমার গিলটি ফিল হয়।আবার আমার আম্মু সবসময় আমার একটা দোষের জন্য গিলটি ফিল করায়ে আরো কয়েকটা জিনিস আদায় করতে চাইত।এখন আমার বিয়ের ব্যাপারে চায় আমি খালি দোষ স্বীকার করি আর উনি ওইটাকে ব্যবহার করে আমার পুরা ম্যারিড লাইফ আমার জামাইর বেতন এগুলার উপর কন্ট্রোল নিবে।

ঈদ আসলেই আমি মানসিক ও শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে যায় এগুলা ভাবতে ভাবতে কারণ ঈদ আসলে আমার ওনাদের জন্য বেশি খারাপ লাগে আবার আমি ওনাদের ফেইস ও করতে চায়না।আমি যদি বাড়িতে যাই বলবে আমি স্বর্ণ কিনিনাই কেন,ব্যাংক একাউণ্ট খুলিনাই কেন,আমার জামাইর নামে বদনাম করা তো আছেই।তারপর আমি কয়টাকার জামা পরসি।ওনার পুরা ১৪ গোষ্ঠীরে জামা কাপড় দেইনাই কেন।অলরেডি বলা শুরু করসে।এসব কারণে আমি আম্মুরে সহ্যই করতে পারিনা বিশেষ করে ওনার সাথে কথা বলতে চাইনা বা দেখা করতে চাইনা।প্রচুর ক্ষোভ কাজ করে।আর নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারিনা ওনার প্রতি।আবার দূরে থাকলেও ওনাদের জন্য চিন্তা হয়।এমন পরিসস্থিতিতে আমি কি করব বুঝতেসিনা।আর আমি ওনার সাথে যোগা্যোগ রাখলে এগুলা নিয়েই ভাবতে থাকি।আমার হাতে কাজ উঠেনা।নামাযে মনযোগ আসেনা।সুইসাইডাল চিন্তা আসে। আমার আর ভাইবোন ও নেই।
এই পরিস্থিতি থেকে কীভাবে বের হবো? আর বাবা মায়ের পাশে মেয়ে হিসেবে কীভাবে সাপোর্ট করবো? ওনাদের খুশি করতে বর্তমানে আমার করনীয় কি?
by (3 points)
Eikhane ekta jinish clear kori ami job korte chaina emon na.amr kotha hoise ami islam,songsar sob kichur proti amar daitto paloner por jei time tuku pabo oi time e jototuku porte parbo oita diye jodi job hoi to hobe nahole nai. 
আমার পরিস্থিতির সাপেক্ষে জব করা ইসলামের দৃষ্টিতে কতটুকু সঠিক হবে?

1 Answer

0 votes
by (805,980 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَإِن جَاهَدَاكَ عَلَىٰ أَن تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا ۖ وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا ۖ وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ ۚ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরীক স্থির করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে সহঅবস্থান করবে। যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে এবং তোমরা যা করতে, আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে জ্ঞাত করবো।(সূরা লুকমান-১৪/১৫)

وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا ۚ إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا
তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও এবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব-ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বল তাদেরকে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা।(সূরা বনি ইসরাঈল-২৩)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
মাতাপিতার সাথে সর্বদা উত্তম আচরণ করবেন। তাদের সাথে কখনই দুর্ব্যবহার বা রাগ করবেন না। 
মাতাপিতা আপনাকে শত বিপদগ্রস্ত করলেও আপনি তাদের সাথে সর্বদা উত্তম ও সর্বোত্তম আচরণ করবেন।পাশাপাশী তাদের হেদায়েতের জন্য দু'আ করবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...