আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
61 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (4 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম
১। আমার গত ১০ তারিখ হায়েয শুরু হয়। পবিত্রতা নিশ্চিত হয়ে ১৭ তারিখ ফরয গোসল করি এবং যুহরের নামাজ আদায় করি। আজ (১৯ তারিখ) হঠাৎ এশার ওয়াক্ত থেকে আবার লাল রঙের ডিসচার্জ যাচ্ছে। এটা কি হায়েয নাকি ইস্তিহাযা? যদি হায়েয হয়ে থাকে, তাহলে আমার মাঝের রোজাগুলোও কি কাযা করতে হবে? আমি ২ পারার মতো কুরআনও পড়েছি,  এটিও কি আবার পড়তে হবে?

২। শিরক হতে পারে এমন কিছু যদি না জেনে বলে ফেলি বা অনিচ্ছাকৃতভাবে মনে চলে আসে, তবে কি কালেমা পড়তে হবে?

৩। সকাল-সন্ধ্যার কিছু কিছু দোয়া, কিছু কোরআনিক দোয়া নামাজ শেষে দোয়ার সময় আরবিতে না পড়ে বাংলা অর্থ পড়ি। এতে কি যে নিয়তে পড়ি তা ব্যহত হবে?

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(১)
হায়েযের সর্বোচ্ছ সময়সীমা ১০দিন।এ ১০দিনের ভিতর লাল,হলুদ,সবুজ,লাল মিশ্রিত কালো বা নিখুত কালো যে কালারের-ই পানি বের হোক না কেন তা হায়েয হিসেবেই গণ্য হবে।যতক্ষণ না নেপকিন সাদা নজরে আসবে। (বেহেশতী জেওর-১/২০৬) তথা সাদা রং ব্যতীত সকলপ্রকার রং ই হায়েযের অন্তর্ভুক্ত।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-

ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়ায় বর্ণিত রয়েছে,
فَإِنْ لَمْ يُجَاوِزْ الْعَشَرَةَ فَالطُّهْرُ وَالدَّمُ كِلَاهُمَا حَيْضٌ سَوَاءٌ كَانَتْ مُبْتَدَأَةً أَوْ مُعْتَادَةً وَإِنْ جَاوَزَ الْعَشَرَةَ فَفِي الْمُبْتَدَأَةِ حَيْضُهَا عَشَرَةُ أَيَّامٍ وَفِي الْمُعْتَادَةِ مَعْرُوفَتُهَا فِي الْحَيْضِ حَيْضٌ وَالطُّهْرُ طُهْرٌ. هَكَذَا فِي السِّرَاجِ الْوَهَّاجِ. «الفتاوى الهندية» (1/ 37)
মাঝেমধ্যে হায়েয হওয়া আবার মাঝেমধ্যে বন্ধ হওয়া, দশ দিনের ভিতর সবকিছুই হায়েয হিসেবে গণ্য হবে।চায় এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন ঐ মহিলা প্রথমবার হোক বা এ ব্যাপারে অভ্যস্ত থাকুক। যদি রক্তস্রাব দশদিন অতিক্রম করে যায়, তাহলে প্রথমবার এ পরিস্থিতির সম্মুখিন মহিলার জন্য দশদিন হায়েয। আর কোনো এক সংখ্যায় আদত ওয়ালী মহিলার জন্য তার পূর্বের আদতই হায়েয় এবং বাদবাকী সময় তুহুর।(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৩৭, কিতাবুল-ফাতাওয়া-২/১০৮,কিতাবুন-নাওয়াযিল-৩/১৭২)এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-https://www.ifatwa.info/7474


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনি সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন। যদি ১০ দিনের ভিতর বা ১০ দিনে রক্তস্রাব বন্ধ হয়, তাহলে এই রক্তস্রাবকে হায়েয হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু যদি ১০ দিন পেরিয়ে যায়, তাহলে পূর্বের মাসের আদত যতদিনের ততদিন হায়েয এবং অতিরিক্ত ইস্তেহাযা হিসেবে গণ্য হবে। 

(২) শিরক হতে পারে এমন কিছু যদি না জেনে বলে ফেলা হয় বা অনিচ্ছাকৃতভাবে মনে চলে আসে, তবে এজন্য ঈমানে কোনো সমস্যা হবে না। আবার কালেমা পড়তে হবে না।

(৩) সকাল-সন্ধ্যার দোয়া, এবং কোরআনিক দোয়া গুলোকে আরবী ভাষায় ই পড়া উচিত। বাংলাতে পড়লেও হবে। তবে উত্তম হল, অর্থ বুঝে আরবী পড়া। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...