আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
81 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (4 points)
একবোনের প্রশ্ন,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়া বারকাতুহ। আমাদের বাসা খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায়।‌ আমার আব্বু একজন মোটর ভ্যান চালক। আমরা নিম্নবিত্ত বলা যায়। আমাদের এখানে অনেক বেশি পানির সমস্যা। বাসা থেকে দূরে অন্য একজনের পুকুরে গিয়ে গোসল করে আসতে হয়। আমাদের বাসায় গভীর নলকূপ আছে কিন্তু এটাতে ৪-৫ মাস পানি উঠে না। বর্ষা মৌসুমে পানি উঠে। আর এখানে নলকূপের পানি অনেক আয়রন যুক্ত ও লোনা। আমার ছোট থেকে প্রচুর এলার্জির সমস্যা। স্কিন অনেক সেনসেটিভ। রক্তে এলার্জির পরিমাণ বেশি।

এখানে এই পানিতে গোসল করলে সমস্যা অনেক বেশি বাড়ে। তবুও এতো দিন ধরে কষ্ট করে এখানে ছিলাম। কিন্তু এলার্জির সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর এখন তো নলকূপেও পানি উঠে না। এজন্য অন্য একজনের পুকুরে থেকে গোসল করা সহ থালা বাসন ধোঁয়া থেকে শুরু করে প্রায় সব ধোঁয়ার কাজের জন্য পানি নিয়ে আসতে হয়। ওখানে গোসলের পরে কাপড় চেঞ্জ করার মতো ভালো কোনো জায়গা নেই। খোলামেলা জায়গায় গোসল+ কাপড় চেঞ্জ করতে হয়। সেখানে আশেপাশে প্রায় সময়ই মানুষ থাকে। যেকোনো সময় যেকোনো নন মাহরাম চলে আসার ভয় থাকে। এখানে পর্দা মেইনটেইন করে চলা অত্যন্ত কঠিন। গ্ৰামের পরিবেশ তো আরোও বেশি খারাপ। এখানে অনেকেই নামাজ আদায় করেন রোজা রাখেন কিন্তু পর্দার ক্ষেত্রে উদাসীন। নন মাহরাম মেইনটেইন করে চলা তাদের কাছে বাড়াবাড়ি। এমতাবস্থায় এখানে পর্দা মেইনটেইন করে চলা আমার জন্য অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে। এছাড়াও আমার স্কিনে এলার্জির সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আব্বুর সামর্থ্য নেই এমন একটা পর্দা পূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে দেওয়ার। এজন্য আম্মু ও খালামনি বলছে যে খালামনিদের বাসায় গিয়ে থাকার জন্য। ওখানে পর্দার পরিবেশ অনেকটাই ভালো আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু সেখানে তাদের আয় হালাল হলেও সামান্য কিছু হারাম যুক্ত আছে।
এমতাবস্থায় আমার কি করা উচিত..?
বাসায় থাকা নাকি খালামনির বাসায় যাওয়া..? অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছি....

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/71830/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছে, 

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলছেন

إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِّنَ اللّهِ وَاللّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ

যাকাত হল কেবল (১)ফকির, (২)মিসকীন, (৩)যাকাত উসূলকারী ও (৪)যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদের হক (৫)এবং তা দাস-মুক্তির জন্যে ও (৬)ঋণগ্রস্তদের জন্য, (৭)আল্লাহর পথে জেহাদকারীদের জন্যে এবং(৮) মুসাফিরদের জন্যে, এই হল আল্লাহর নির্ধারিত বিধান।আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।(সূরা আত-তাওবাহ-৬০)

কে যাকাত খেতে পারবে?

وَلَا يُشْتَرَطُ النَّمَاءُ إذْ هُوَ شَرْطُ وُجُوبِ الزَّكَاةِ لَا الْحِرْمَانِ كَذَا فِي الْكَافِي. وَيَجُوزُ دَفْعُهَا إلَى مَنْ يَمْلِكُ أَقَلَّ مِنْ النِّصَابِ، وَإِنْ كَانَ صَحِيحًا مُكْتَسَبًا كَذَا فِي الزَّاهِدِيِّ.

অর্থাৎ-নেসাব পরিমাণ মাল(নামী তথা বাড়ন্ত হোক বা না হোক,শরীয়তে নামী মাল চার প্রকার যথা-স্বর্ণ,রূপা বা টাকা,ব্যবসার মাল,গবাদি পশু)
এর মালিক না হলে যাকাত খাওয়া যাবে যদি প্রয়োজন থাকে।তাই গায়রে নামী বা অবাড়ন্ত মালের নেসাব পরিমাণ কেউ মালিক হলে যদিও তার উপর যাকাত আসবে না তথাপিও সে যাকাতের মাল খেতে পারবে না।আর কোনো প্রকার মালই যদি কারো কাছে নেসাব পরিমাণ না থাকে তাহলে সে সুস্থ উপার্জন স্বক্ষম হওয়া সত্তেও তার জন্য যাকাতের মাল খাওয়া জায়েয আছে।
(ফাতাওয়া হিন্দিয়া-১/১৮৯) 

যে ব্যাক্তি নেসাব পরিমান সম্পদের মালিক নন,সেই ব্যাক্তি শরীয়তের পরিভাষায় ধনী নয়,সে দরিদ্র, সে ফকির।
সুতরাং সেই ব্যাক্তিকে যাকাত দেয়া যাবে।

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত বোন যেহেতু নেসাব পরিমান সম্পদের মালিক নন,সুতরাং তিনি দরিদ্র, সেক্ষেত্রে সে তার খালার বাসায় গিয়ে থাকলে তাদের ইনকামের সামান্য হারাম যুক্ত হলেও তাহা গ্রহণ করা সেই বোনের জন্য হারাম হবে না।

এজন্য প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে সে বোনের জন্য পরামর্শ থাকবে, তিনি যেন তার খালার বাসায় গিয়েই থাকেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...