আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
209 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (2 points)

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে কিস্তিতে কোনো পণ্য কেনা হালাল/হারাম? 


আমি বিষয়টি বর্ণনা করছি- ধরি একটি পণ্যের মূল্য ৫০০০০টাকা। এখন এই পণ্যটি যদি আমি ক্রেডিট কার্ড ইউজ করে ১২মাসের EMI পদ্ধতিতে ক্রয় করতে চাই তাহলে, এই পণ্যের জন্য পরিশোধিত মূল্য নির্ধারণ হবে ৭.৫২%(ব্যাংক ভেদে পারসেন্টেজ ভিন্ন হতে পারে) হারে ৫৩৭৬০টাকা। অর্থাৎ এই ৫৩৭৬০টাকা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পণ্য কেনার সময় সম্পূর্ণ পরিশোধ করতে হবে। তারপর প্রতি মাসে আমাকে ৪৪৮০টাকা করে ব্যাংকে দিতে হবে। এভাবে ১২ মাস ধরে দিয়ে ব্যাংকে ৫৩৭৬০টাকা পরিশোধ করতে হবে। 

এভাবে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে EMI পদ্ধতিতে পণ্য ক্রয় করা যায়। এখন আমার প্রশ্ন এই পদ্ধতিতে পণ্য ক্রয় করলে হালাল নাকি হারাম হবে? এ বিষয়ে ইসলাম কি বলে? বিস্তারিত জানতে চাই। 

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/64773/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা জায়েজ নেই।
তবে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ব্যাংক ব্যাতিত অন্যত্র কোনো দোকান থেকে থেকে কোনো পন্য ক্রয় করলে সেক্ষেত্রে সেই দোকানদার গিফট স্বরুপ Reward Point দিলে তাহা দিয়ে টাকা নেওয়া বা Gift Voucher নেওয়া জায়েজ এর কথা বলা হয়েছে।
তবে এক্ষেত্রেও ক্রেডিট কার্ড এর ব্যবহার নাজায়েজই থাকবে।

বিস্তারিতঃ-

https://ifatwa.info/14543/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ-
ডেবিট কার্ড এবং ক্রেডিট কার্ড।

ক্রেডিট কার্ড হল এমন একটি প্লাস্টিক কার্ড, যে কার্ডের বিপরীতে ব্যাংক অথবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তার গ্রাহকদেরকে নির্দিষ্ট পরিমাণে ঋণ মঞ্জুর করে থাকে এবং গ্রাহক সেই মঞ্জুরকৃত ঋণের টাকা তার চাহিদা মত যে কোন সময় পণ্য এবং সেবা ক্রয় করতে পারে অথবা ক্যাশ টাকা উত্তোলন করতে পারে। এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই টাকা আবার ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ফেরত দিতে বাধ্য থাকে।

ডেবিট কার্ড এবং ক্রেডিট কার্ডের পার্থক্য হল-

ডেবিট কার্ডের ক্ষেত্রে পণ্য ও সেবা ক্রয় করার জন্য গ্রাহককে সাথে সাথেই টাকা প্রদান করতে হয়। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে খরচকৃত টাকা গ্রাহককে সাথে সাথে প্রদান করতে হয় না।

ডেবিট কার্ডকে ক্যাশ কার্ড বলা চলে। অপরপক্ষ, ক্রেডিট কার্ডকে এক কথায় লোন কার্ড বলা চলে।

ডেবিট কার্ডের সাথে লিংক করা একাউন্টে যে পরিমাণ ব্যালেন্স থাকে, গ্রাহক শুধু সেই টাকা ব্যবহার করতে পারেন। অন্যদিকে, ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যে পরিমাণ টাকা গ্রাহকের জন্য ঋণ মঞ্জুর করে থাকে, গ্রাহক শুধু সেই টাকা ব্যবহার করতে পারেন।

ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে একাউন্টে শুধু নিজের জমা করা টাকা ব্যবহার করা যায়। অপরপক্ষে, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যে ক্রেডিট লিমিট দিয়ে থাকে, সেই টাকা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ব্যবহার করা যায়।

ডেবিট কার্ডের ক্ষেত্রে গ্রাহকের একাউন্টে টাকা জমা থাকলে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গ্রাহককে সুদ বা মুনাফা প্রদান করা হয় । অন্যদিকে, ক্রেডিট কার্ডের আউটস্ট্যান্ডিং ব্যালেন্স থাকলে তার বিপরীতে গ্রাহক কর্তৃক ক্রেডিট কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে সুদ প্রদান করতে হয়।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ

عبد الله بن مسعود عن أبيه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لعن الله آكل الربا وموكله وشاهديه وكاتبه

হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ এর পিতা থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-“যে সুদ খায়, যে সুদ খাওয়ায়, তার সাক্ষী যে হয়, আর দলিল যে লিখে তাদের সকলেরই উপর আল্লাহ তায়ালা অভিশাপ করেছেন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং-৩৮০৯, মুসনাদে আবি ইয়ালা, হাদিস নং-৪৯৮১)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
প্রশ্নে উল্লেখিত পদ্ধতিতে পদ্ধতিতে পণ্য ক্রয় বিক্রয় করা যাবেনা। এতে সুদের মিশ্রণ রয়েছে।

তবে যদি সুদমুক্ত কিস্তিতে কেনাকাটা করেন, তাহলে এটা নাজায়েয হবে না।

এ সংক্রান্ত বিস্তারিত জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
আমাকে যে ৩৭৬০টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হচ্ছে, এটা সুদের আওতায় পড়ছে কিনা, এটাই মূলত আমি জানতে চাচ্ছি। 

জাজাকাল্লাহ খাইরান। 
by
আমি উপরোক্ত যে পদ্ধতিতে EMI বর্ণনা করেছি, সেটি সুদমুক্ত কিস্তির আওতাভুক্ত হচ্ছে কিনা? 
দয়া করে জানাবেন, 
জাজাকাল্লাহ খাইরান 
by
আমি উপরোক্ত যে পদ্ধতিতে EMI বর্ণনা করেছি, সেটি সুদমুক্ত কিস্তির আওতাভুক্ত হচ্ছে কিনা? এই পদ্ধতিতে আমি EMI নিয়ে পণ্যটি কিনতে পারবো কিনা? 
দয়া করে জানাবেন, 
জাজাকাল্লাহ খাইরান 
by (770,460 points)
জায়েজ হবেনা। 

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...