আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
67 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (4 points)
আসসালামু আলাইকুম সম্মানিত শায়েখ, আমার প্রশ্ন আমি আমার স্ত্রিকে একেক সময় "ময়না,জান,কলিজা,পাখি,লাল পাখি " এইসব নামে ডাকি। আবার আমার স্ত্রিও আমাকে "জান,জানু,কলিজা " এইসব নামে ডাকে।  আমার প্রশ্ন আমি আমার স্ত্রিকে "ময়না,জান,কলিজা,পাখি,লাল পাখি" এইসব নামে ডাকতে পারব কিনা?  আমার স্ত্রিও আমাকে "জান, জানু " এইসব নামে ডাকতে পারবে কিনা?  এগুলা নামে ডাকা শরিয়তে কোন বাধা আছে কিনা বা এইসব নামে ডাকা কোন শিরক হবে কিনা আদর করে এইসব নামে ডাকলে?

1 Answer

0 votes
by (763,590 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

হাদীস শরীফে এসেছে,

عَنْ أَبِي تَمِيمَةَ الْهُجَيْمِيِّ، أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِامْرَأَتِهِ: يَا أُخَيَّةُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أُخْتُكَ هِيَ؟ فَكَرِهَ ذَلِكَ وَنَهَى عَنْهُ

এক লোক তার স্ত্রীকে বোন বলে ডাকলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনতে পেয়ে তা অপছন্দ করেন এবং তাকে এভাবে ডাকতে নিষেধ করেছেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২২০৪)

সুতরাং এমন সম্বোধন থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে এ কারণে বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো ক্ষতি হবে না।–আদ্দুররুল মুখতার ৬/৪১৮; ফাতহুল কাদীর ৪/৯১; আলবাহরুর রায়েক ৪/৯৮

এ সম্পর্কে ফাতাওয়া শামীতে বর্ণিত আছে।

( ﻭﻳﻜﺮﻩ ﺃﻥ ﻳﺪﻋﻮ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﺃﺑﺎﻩ ﻭﺃﻥ ﺗﺪﻋﻮ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ﺯﻭﺟﻬﺎ ﺑﺎﺳﻤﻪ ) ﺍ ﻫـ ﺑﻠﻔﻈﻪ .

ছেলে কর্তৃক তার পিতাকে এবং স্ত্রী কর্তৃক তার স্বামীকে নাম ধরে ডাকা মাকরুহ।

ইবনে আবেদীন শামী রাহ উক্ত বক্তব্যর সুস্পষ্ট ব্যখ্যা প্রদান করে বলেনঃ-

ﻗﻮﻟﻪ ﻭﻳﻜﺮﻩ ﺃﻥ ﻳﺪﻋﻮ ﺇﻟﺦ ) ﺑﻞ ﻻ ﺑﺪ ﻣﻦ ﻟﻔﻆ ﻳﻔﻴﺪ ﺍﻟﺘﻌﻈﻴﻢ ﻛﻴﺎ ﺳﻴﺪﻱ ﻭﻧﺤﻮﻩ ﻟﻤﺰﻳﺪ ﺣﻘﻬﻤﺎ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻮﻟﺪ ﻭﺍﻟﺰﻭﺟﺔ ، الخ

বরং এমন শব্দের মাধ্যমে ডাকা একান্ত প্রয়োজন যা সম্মান বুঝাবে,যেমনঃ- হে আমার সর্দার, অমুকের পিতা ইত্যাদি, অথবা সম্মানসূচক পেশার সাথে সংযুক্ত করে ডাকবে, যেমন,ইমাম সাহেব,ডাক্তার সাহেব ইত্যাদি)।কেননা পিতা এবং স্বামী, তাদের উভয়ের হক্ব একটু বেশীই।

ﺍﻟﻜﺘﺐ » ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺪﺭ ﺍﻟﻤﺨﺘﺎﺭ » ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺤﻈﺮ ﻭﺍﻹﺑﺎﺣﺔ » ﻓﺼﻞ ﻓﻲ ﺍﻟﺒﻴﻊ » ﻓﺮﻉ ﻳﻜﺮﻩ ﺇﻋﻄﺎﺀ ﺳﺎﺋﻞ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﺇﻻ ﺇﺫﺍ ﻟﻢ ﻳﺘﺨﻂ ﺭﻗﺎﺏ ﺍﻟﻨﺎﺱ،٦/٤١٨.

স্বামী-স্ত্রী এক অপরকে সম্মান সূচক নাম ব্যবহার করে ডাকবে। বিশেষ করে স্ত্রী তার স্বামীকে সর্বক্ষেত্রে  সম্মান প্রদর্শন করবে।পরিবারের মধ্যে যেহেতু স্বামীর মর্যাদা স্ত্রীর চেয়ে একটু উপরে তাই স্ত্রী কখনো তার স্বামীর নাম ধরে ডাকবে না। কেননা এতে বেয়দবী মূলক আচরণের বহির্প্রকাশ ঘটে।

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই,
স্বামী স্ত্রী একে অপরকে ভালোবাসাপূর্ণ বিভিন্ন শব্দ দ্বার ডাকা জায়েয আছে।যেমন: জান,কলিজা, ময়না ইত্যাদি। 

সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি যে আপনার স্ত্রীকে মুহাব্বত করে উপরে উল্লেখিত নাম গুলো দ্বারা ডাকছেন এবং আপনার স্ত্রীও মুহাব্বত করে আপনাকে উপরোক্ত নামগুলো দ্বারা ডাকতেছেন, এতে উভয়ের কেহ কষ্ট না পেলে শরীয়তের দৃষ্টিকোণ হতে এভাবে ডাকায় কোন সমস্যা নেই।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...