আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
110 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (4 points)
একজন ২ লাখ টাকার বিনিময়ে জমি বন্ধক নিয়েছেন।বন্ধকগ্রহিতা আবার সেই জমি তার ভাইকে চাষাবাদ করতে দিয়েছেন।কারণ তিনি অসুস্থ।দু ভাইয়ের এটি একটি আয়ের উৎস।বিশেষ করে যিনি চাষাবাদ করেন উনার।এখন যিনি চাষাবাদ করেন তার পরিবারের লোকজন বুঝতে পারছে এটিতো নাজায়েজ।এখন তারা কি ওই দুই লক্ষ টাকাকে জমি ভাড়া হিসেবে ১০০ বছর বা ২০০ বছরের জন্য করতে পারবে?অবশ্যই সেটা জমির মালিকেরর সাথে কথা বলে করবে।।মালিকো যেহুতু এখন টাকা ফেরত দিতে পারবেনা।তাই কথা বলে জমিকে ভাড়ায় নিয়ে আসবে।যখন জমির মালিক  জমি নিতে চাইবে উক্ত টাকা থেকে উনার পূর্বের ভাড়া সহ পরবর্তী ভাড়া কেটে নিয়ে বাকি টাকা দিবেন।
১)এরকম শর্ত করা কি জায়েজ হবে?
২)যিনি টাকা দিয়েছেন এবং যিনি চাষাাবাদ করেন উনাদের যেহুতু দ্বীনের বুঝ নাই এতো বেশি তাই টাকার মালিক সহজে চাবেননা যে তার টাকা থেকে ভাড়া কাটুক।।যিনি চাষাবাদ করেন তিনি যদি তার ভাইকে বলেন ঠিকাছে তোমার টাকা থেকে ভাড়া কাটবে।যত কাটবে তত টাকা আমি তোমাকে হাদিয়া দিবো।এরকম বলা কি জায়েজ হবে?
৩)যদি এটাকে ভাড়ায় এভাবে আনা যায় ২ লক্ষ টাকা ১০০ বা ২০০ বছরের জন্য ভাড়ার চুক্তি করা যাবে?অবশ্যই জমির মালিক যেকোনো সময়ে জমি নিতে পারবেন।এটি তার এখতিয়ারে থাকবে।

(এদিকে জমি বর্গা পাওয়া যায়না বলা যায়।সবাই ওভাবে বন্ধক রেখে জমিতে ফসল ফলায়।১ লাখ রেখে পারলে আরো ১ লাখ করে বছরে বছরে নেয়।আজকে শুনলাম ১ বিঘা জমি ৫ লাখ বন্ধক।।)

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাব
بسم الله الرحمن الرحيم  

উল্লেখিত পদ্ধতিকে কট বা বন্ধক রাখা বলে।
বন্ধক রাখা হয় ঋণ আদায়ের নিশ্চয়তাস্বরূপ। এতে ঋণদাতা নিশ্চিত থাকেন যে ঋণ আদায় না করলেও বন্ধককৃত বস্তু থেকে আদায় করে নেওয়া যাবে। 

পবিত্র কোরআনেও এর নির্দেশ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর যদি তোমরা সফরে থাকো এবং কোনো লেখক না পাও, তাহলে হস্তান্তরিত বন্ধক রাখবে। আর যদি তোমরা একে অপরকে বিশ্বস্ত মনে করো, তবে যাকে বিশ্বস্ত মনে করা হয়, সে যেন স্বীয় আমানত আদায় করে এবং নিজ রব আল্লাহকে ভয় করে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৮৩)
,
বন্ধককৃত বস্তু বন্ধকগ্রহীতার কাছে আমানতস্বরূপ। 

★বন্ধকি জমি থেকে বন্ধকগ্রহীতার কোনো ফায়দা হাসিল করা নাজায়েজ ও হারাম। এমনকি বন্ধকদাতা এর অনুমতি দিলেও পারবে না। কারণ বন্ধকি জমি থেকে বন্ধকগ্রহীতা কোনো ধরনের ফায়দা উপভোগ করা সুদের অন্তর্ভুক্ত, যা হারাম। (বাদায়েউস সানায়ে : ৬/১৪৬)

ইবনে সিরিন (রহ.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক লোক সাহাবি ইবনে মাসউদ (রা.)-এর কাছে জিজ্ঞেস করল, এক ব্যক্তি আমার কাছে একটি ঘোড়া বন্ধক রেখেছে, তা আমি আরোহণের কাজে ব্যবহার করেছি। ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, তুমি আরোহণের মাধ্যমে এর থেকে যে উপকার লাভ করেছ তা সুদ হিসেবে গণ্য হবে। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস : ১৫০৭১)
,
বিখ্যাত তাবেয়ি ইমাম কাজি শুরাইহ (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, সুদ পান করা কিভাবে হয়ে থাকে? তিনি বলেন, বন্ধকগ্রহীতা বন্ধকি গাভির দুধ পান করা সুদ পানের অন্তর্ভুক্ত। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস : ১৫০৬৯)
,
★প্রশ্নে উল্লেখিত পদ্ধতি নাজায়েজ। 
এটি জায়েজ পদ্ধতি নয়।
এভাবে সেই জমি থেকে নিজে চাষাবাদ করা বা অন্য কাউকে দিয়ে চাষাবাদ করানো কোনোটাই জায়েজ নেই,সেই জমি থেকে কোনো ভাবেই উপকৃত হওয়া যাবেনা।
,     
বৈধ পদ্ধতি সম্পর্কে জানুনঃ 

এ সংক্রান্ত বিস্তারিত মাসয়ালা জানুনঃ 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
প্রশ্নের বিবরন মতে পরবর্তীতে এসে এরকম শর্ত করার দরুন আপনার কাজটি জায়েজ হবেনা। এক্ষেত্রে উক্ত জমি হতে কোনোরুপ উপকৃত হওয়া যাবেনা।

(০২)
এতেও উক্ত কারবার বৈধ হবেনা।

(০৩)
উভয় পক্ষ বসে আগের চুক্তি বাতিল করে নতুন ভাবে চুক্তি করতে হবে।

এবং বাৎসরিক ভাড়াও এতটা নির্ধারণ করতে হবে যেটা সচরাচর ওই এলাকার ওই মানের অন্যান্য জমির ক্ষেত্রে করা হয়।

সামান্য কিছু তারতম্য করা যাবে, তবে অনেক বড় আকারে তারতম্য করার কোন সুযোগ নেই।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...