আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
28 views
in যাকাত ও সদকাহ (Zakat and Charity) by (18 points)
closed by

আসসালামু আলাইকুম


ওশর সংক্রান্ত আমার চারটি প্রশ্ন। আশা করছি আপনাদের কাছ থেকে উত্তম সমাধান পাবো, ইনশাআল্লাহ্।

 

১) ধানের ওশর কোন ওজনের ওপর হিসাব হবে?
 

ধান কাটার পর যখন ধান কাঁচা অবস্থায় থাকে, তখন তার যে ওজন হয়-ওশর কি সেই কাঁচা ধানের ওজনের ওপর আদায় করতে হবে? নাকি ধান সিদ্ধ, শুকানো ও খাওয়ার উপযোগী/প্রসেসিংয়ের পর্যায়ে যাওয়ার পর যে চূড়ান্ত ওজন দাঁড়ায়, ওশর কি সেই ওজনের ওপর আদায় করতে হবে?

 

২) চিকন ধান ও মোটা ধান-ওশর কীভাবে আদায় হবে?

অনেক কৃষক শুধু চিকন ধান চাষ করেন, অনেকে শুধু মোটা ধান চাষ করেন, আবার অনেকে চিকন ও মোটা-দুই ধরনের ধানই চাষ করেন। এক্ষেত্রে ওশর কি উভয় ধরনের ধানের ওপর আলাদাভাবে আদায় করতে হবে? নাকি যেকোনো এক ধরনের ধানের ওপর ওশর আদায় করলেই যথেষ্ট হবে?

 

৩) বন্ধকী জমির ধানের ওশর কীভাবে হিসাব হবে?

আমাদের এলাকায় একটি প্রচলিত পদ্ধতি আছে-কেউ জমি বন্ধক রাখে, মূল টাকা গচ্ছিত থাকে, তবে প্রতি সিজনে জমির মালিককে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ধান দিতে হয়। এক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো: বন্ধকের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত ধান পরিশোধ করার পর যে ধান অবশিষ্ট থাকে, ওশর কি শুধু সেই অবশিষ্ট ধানের ওপর আদায় করতে হবে? নাকি জমিতে মোট যে পরিমাণ ধান উৎপন্ন হয়েছে, ওশর কি সেই মোট উৎপাদনের ওপর আদায় করতে হবে?

 

৪) আদি দেওয়া জমি থেকে প্রাপ্ত ফসলের ওপর কি জমির মালিকের ওশর আদায় করতে হবে?

আমার কিছু জমি আবাদ করার জন্য “আদি” হিসেবে দেওয়া আছে। যিনি জমি আবাদ করেন, তিনি ইরি/বোরো মৌসুমে প্রতি বিঘায় নির্দিষ্টভাবে ৬ মণ ফসল দেন। আর আমন মৌসুমে মোট উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক দেন।

এখন আমার প্রশ্ন হলো: জমির মালিক হিসেবে আমি যে পরিমাণ ফসল পাই, সেই প্রাপ্ত ফসলের ওপর কি আমাকে ওশর আদায় করতে হবে? নাকি ওশরের দায়িত্ব আবাদকারীর ওপর থাকবে?

মহান রব আপনাদেরকে উত্তম প্রতিদান দিন।

closed

1 Answer

+1 vote
by (770,160 points)
selected by
 
Best answer
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

হাদীস শরীফে এসেছেঃ  

عن سالم بن عبد الله عن أبيه رضي الله عنه : عن النبي صلى الله عليه و سلم قال ( فيما سقت السماء والعيون أو كان عثريا العشر وما سقي بالنضح نصف العشر ) (صحيح البخارى : كتاب الزكوة : باب العشر فيما يسقي من ماء السماء وبالماء الجاري : 1/201 برقم : 1453)

অর্থাৎ,আব্দুল্লাহ বিন ওমর রা. থেকে বর্ণিত, নবীজী স. বলেন, আসমানী বা নদীনালা অথবা অন্যান্য প্রাকৃতিক পানি সিঞ্চনে যা উৎপাদিত হয় তাতে ওশর আসবে। আর যা কৃত্রিম উপায়ের পানি দ্বারা সিঞ্চিত হবে তাতে অর্ধেক ওশর লাযেম হবে।

وعن جابر أنه سمع رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول : [ فيما سقت الأنهار والغيم العشر وفيما سقي بالسانية نصف العشر ] أخرجه مسلم و أبو داود (المغنى 2/547

অর্থাৎ, হযরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত, তিনি শুনেছেন, নবী স. বলেছেন, যা নদীনালা ও বৃষ্টির পানি দ্বারা সিঞ্চনে উৎপাদিত, তাতে আসবে ওশর। আর যা কৃত্রিম উপায়ের পানি দ্বারা সিঞ্চিত, তাতে আসবে অর্ধেক ওশর।

আরো জানুনঃ 

আমাদের দেশ উশরিও নয়,খারাজিও নয়।
এই জন্য এদেশের শষ্যাদির উপর ওশর অথবা ওশরের অর্ধেক কোনোটাই ওয়াজিব নয়।
কেহ যদি সন্তুষ্টি চিত্তে অংশ নির্দিষ্ট করা ব্যতিত কিছু দেয়,তাহলে কোনো ক্ষতি নেই।
অবশ্য কিছু বা পুরো শষ্য বিক্রয়ের পর নেসাব পরিমান সম্পদের মালিক হলে যাকাত দিতে হবে।

বিস্তারিত জানুনঃ-

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে বিষয়টি আপনার ইখতিয়ারধীন।

আপনি যদি ওশর আদায় নাও করন,তবুও কোনো গুনাহ হবেনা।

তবে নেসাব পরিমান সম্পদের মালিক হলে সেক্ষেত্রে উক্ত ধান যদি আপনি বিক্রয় করেন,সেক্ষেত্রে ধান বিক্রয়ের মুল্যেরও যাকাত আদায় করবেন।

(০২)
যেকোনো এক ধরনের ধানের ওপর সমস্ত ধানের হিসাব করে ওশর আদায় করলেই যথেষ্ট হবে।

(০৩)
বন্ধকের উক্ত ছুরতটি অবৈধ।
এক্ষেত্রে সেই জমি চাষ করাই যেহেতু জায়েজ নেই,তাই তাই তার ওশর আদায়ের প্রশ্নই উঠেনা। 

এ সংক্রান্ত আরো জানুনঃ- 

(০৪)
বিষয়টি আপনার ইখতিয়ারধীন।

আপনি যদি ওশর আদায় নাও করন,তবুও কোনো গুনাহ হবেনা।

তবে নেসাব পরিমান সম্পদের মালিক হলে সেক্ষেত্রে উক্ত ধান যদি আপনি বিক্রয় করেন,সেক্ষেত্রে ধান বিক্রয়ের মুল্যেরও যাকাত আদায় করবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...