আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ।
আমি পরামর্শ চাচ্ছি আমার বিবাহিত জীবন নিয়ে।
আমি বেদ্বীন ফ্যামিলি তে ৫ বছর আগে হিদায়াত পাওয়া একজন মানুষ। ৪ বছর ধরে ফরজ বিধান মেনে চলার চেষ্টা করছি স্রোতের অনুকূলে গিয়ে। আমার গ্রাজুয়েশনের পর থেকে আমার পরিবার ছেলে দেখা শুরু করে কিন্ত তাদের রিকোয়ারমেন্ট আমার রিকোয়ারমেন্ট থেকে আলাদা ছিল,তারা দ্বীনদারিতা কে প্রাধান্য না দিয়ে অন্যান্য বৈশিষ্ট্য গুলো প্রাধান্য এবং ওমন ছেলেই আনতো যা আমার জন্য মোকাবেলা করা খুব কষ্ট সাধ্য ছিল। আহলিয়া, অর্ধেকদ্বীন ডট কমে আমি দ্বীনদার সঙ্গী খোজা চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু ওখান থেকে তেমন প্রস্তাব আসেনি,১/২ টা যা আসতো আমার বাবা মানা করে দিতো। ২/৩ বছর এমন চলার পর যখন বারবার ছেলেদের সামনে পর্দা ভেঙে আমার যেতে হচ্ছিল আমি ভেঙ্গে পড়ছিলাম তাও আমি তাওয়াককুল রেখেছি আল্লাহ দ্বীনদার কাউকে মিলিয়ে দিবেন। শেষে একটা আমার স্বামীর প্রস্তাব আসে আমার বান্ধুবির মাধ্যমে এবং ও জানায় এই ছেলেকে কিছুটা দ্বীনের পথে আছে তবে আমি যতটুকু চাই ততটুকু না। অন্য সব অপশন থেকে এটা বেটার মনে হওয়ায় আমরা যোগাযোগ করি এবং সে বলেছে সে গত ২ বছর যাবত ধরে হারাম থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে আর কখনো হারাম সম্পর্কে ও জড়িত ছিলনা,সুন্নতি দাড়ি ছিল,কুরআন সহীহ ভাবে পড়া শিখছিলো কিন্তু নতুন এলাকায় বাসা নেওয়ায় আর কনটিনিউ করতে পারেনি তবে সামনে থেকে শিখবে। আমার পর্দা মেইনটেইন ভালোমতো করতে দিবে, আমার দ্বীনদারিতা দেখেই আমাকে পছন্দ করেছে। আমার ও মন নরম হওয়ায় বিয়েতে রাজি হই এবং আমাদের বিয়ে হয়।
বিয়ের এখন প্রায় দেড় বছর হয়ে গিয়েছে। আমার দ্বীন প্র্যাক্টিসে কোনো সমস্য কেউ করেনা,শ্বশুরবাড়িতে কেউ দ্বীনদার না থাকলেও সবাই আমাকে সাহায্য করে দ্বীন মেইনটেইন করতে আলহামদুলিল্লাহ স্পেশালি আমার স্বামী। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমার স্বামী দ্বীনের ব্যাপারে,নিজের প্র্যাক্টিসের ব্যাপারে অনেক অপরাগ।আর আমার নিজের ও এই অপরাগতা দেখা দিয়েছে। নিজেকে ধরে রাখতে খুব কষ্ট হচ্ছে। সে ইসলামিক লেকচার শুনে মাঝেমাঝে, ইসলামকে পছন্দ করে,ইসলামের বিধিবিধান এর পক্ষে কিন্তু নিজে তেমন একটা মানেনা। ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেনা,কুরআন শিখার জন্য অনলাইনে ভর্তি হয়েছে কিন্তু ক্লাস করেনা,পড়া দেয়না,ফরজ ইলম হাসিলের কোনো চেষ্টা করেনা,রোজার সময় তারাবিহর নামাজ আদায় করেনা,বাসা ৫ তালায় হওয়ায় সে মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করেনা। অল্প কিছু ঋণ আছ, কোনো সেভিংস নেই এসব বলে বেবি নিতে চায়না। তাকওয়া, তাওয়াককুল, ইলম,প্র্যাক্টিস এই সবই কম।
হোম অফিস করে,যথেষ্ট সময় পায় তারপর ও সে নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করেনা। অথচ বিয়ের সময় বলেছে সে একজন ভালো মুসলিম হওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে,তার কোনো কিছুই আমি দেখছিনা। আমিও অনেক সময় অলসতা করি,নামাজ মিস করে ফেলি কিছুই করতে ইচ্ছা করেনা,কিন্তু নিজেকে আবার ঠিক করার চেষ্টায় লেগে পরি। আমি বিয়ের আগে জব করেছি,আলিম কোর্স করেছি,অনলাইনে ইসলামিক একাডেমিতে খেদমত করেছি এখনো করছি,ইলম অর্জন করার চেষ্টা করি। অনেক ভালো আর্থিক অবস্থার ছেলেদের রিজেক্ট করার,সবার এতো এতো কটু কথা সহ্য করে,এতো কষ্ট করে,এতো দুআ করে যখন তার দ্বীনের হালত এমন দেখি তখন আমার মনটা ভেঙ্গে যায়। তার বাকি সবই ভালো,আমার সাথে ভালো বন্ডিং,ভালোবাসে,যা চাই তাই দেওয়ার চেষ্টা করে,আমার অনেক রাগ,আমি অনেক চিল্লাই কিন্তু সে ধৈর্য্য ধরে আমার সাথে।অন্য কোনো কিছু নিয়ে আমার অভিযোগ নেই।
কিন্তু তার দ্বীনি হালতের জন্য আমার তার প্রতি সম্মানবোধ কাজ করেনা,মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে আমি চলে যাই। তাকে বুঝানোর চেষ্টা করি,অনেক সময় রেগে চিল্লাচিল্লি করি অল্প সময়ের জন্য বুঝলেও লং টার্মে কোনো বেনিফিট হয়না। তার জন্য আমি অনেক দুআও করি।
এখন আমার করণীয় কি হতে পারে?তার প্রতি সম্মানবোধ করা আমার জন্য পরীক্ষা আমি জানি,আর এই পরীক্ষা টা খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তার দ্বীনি হালত এমনই থাকলে আমার ভবিষ্যতে সন্তানদের উপরও তো প্রভাব পড়বে।
আমাকে উওম নসীহা দিবেন ইনশাআল্লাহ।
দুঃখিত অনেক বড় পোস্ট হয়ে গিয়েছে।