আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
113 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (1 point)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ।
আমি পরামর্শ চাচ্ছি আমার বিবাহিত জীবন নিয়ে।

আমি বেদ্বীন ফ্যামিলি তে ৫ বছর আগে হিদায়াত পাওয়া একজন মানুষ।  ৪ বছর ধরে ফরজ বিধান মেনে চলার চেষ্টা করছি স্রোতের অনুকূলে গিয়ে। আমার গ্রাজুয়েশনের পর থেকে আমার পরিবার ছেলে দেখা শুরু করে কিন্ত তাদের রিকোয়ারমেন্ট আমার রিকোয়ারমেন্ট থেকে আলাদা ছিল,তারা দ্বীনদারিতা কে প্রাধান্য না দিয়ে অন্যান্য বৈশিষ্ট্য গুলো প্রাধান্য এবং ওমন ছেলেই আনতো যা আমার জন্য মোকাবেলা করা খুব কষ্ট সাধ্য ছিল। আহলিয়া, অর্ধেকদ্বীন ডট কমে আমি দ্বীনদার সঙ্গী খোজা চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু ওখান থেকে তেমন প্রস্তাব আসেনি,১/২ টা যা আসতো আমার বাবা মানা করে দিতো। ২/৩ বছর এমন চলার পর যখন বারবার ছেলেদের সামনে পর্দা ভেঙে আমার যেতে হচ্ছিল আমি ভেঙ্গে পড়ছিলাম তাও আমি তাওয়াককুল রেখেছি আল্লাহ দ্বীনদার কাউকে মিলিয়ে দিবেন। শেষে একটা আমার স্বামীর প্রস্তাব আসে আমার বান্ধুবির মাধ্যমে এবং ও জানায় এই ছেলেকে কিছুটা দ্বীনের পথে আছে তবে আমি যতটুকু চাই ততটুকু না। অন্য সব অপশন থেকে এটা বেটার মনে হওয়ায় আমরা যোগাযোগ করি এবং সে বলেছে সে গত ২ বছর যাবত ধরে হারাম থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে আর কখনো হারাম সম্পর্কে ও জড়িত ছিলনা,সুন্নতি দাড়ি ছিল,কুরআন সহীহ ভাবে পড়া শিখছিলো কিন্তু নতুন এলাকায় বাসা নেওয়ায় আর কনটিনিউ করতে পারেনি তবে সামনে থেকে শিখবে। আমার পর্দা মেইনটেইন ভালোমতো করতে দিবে, আমার দ্বীনদারিতা দেখেই আমাকে পছন্দ করেছে। আমার ও মন নরম হওয়ায় বিয়েতে রাজি হই এবং আমাদের বিয়ে হয়।
বিয়ের এখন প্রায় দেড় বছর হয়ে গিয়েছে। আমার দ্বীন প্র্যাক্টিসে কোনো সমস্য কেউ করেনা,শ্বশুরবাড়িতে কেউ দ্বীনদার না থাকলেও সবাই আমাকে সাহায্য করে দ্বীন মেইনটেইন করতে আলহামদুলিল্লাহ স্পেশালি আমার স্বামী।  কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমার স্বামী দ্বীনের ব্যাপারে,নিজের প্র্যাক্টিসের ব্যাপারে অনেক অপরাগ।আর আমার নিজের ও এই অপরাগতা দেখা দিয়েছে। নিজেকে ধরে রাখতে খুব কষ্ট হচ্ছে।  সে ইসলামিক লেকচার শুনে মাঝেমাঝে, ইসলামকে পছন্দ করে,ইসলামের বিধিবিধান এর পক্ষে কিন্তু নিজে তেমন একটা মানেনা। ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেনা,কুরআন শিখার জন্য অনলাইনে ভর্তি হয়েছে কিন্তু ক্লাস করেনা,পড়া দেয়না,ফরজ ইলম হাসিলের কোনো চেষ্টা করেনা,রোজার সময় তারাবিহর নামাজ আদায় করেনা,বাসা ৫ তালায় হওয়ায় সে মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করেনা। অল্প কিছু ঋণ আছ, কোনো সেভিংস নেই এসব বলে বেবি নিতে চায়না। তাকওয়া, তাওয়াককুল, ইলম,প্র্যাক্টিস এই সবই কম।
হোম অফিস করে,যথেষ্ট সময় পায় তারপর ও সে নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করেনা। অথচ বিয়ের সময় বলেছে সে একজন ভালো মুসলিম হওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে,তার কোনো কিছুই আমি দেখছিনা। আমিও অনেক সময় অলসতা করি,নামাজ মিস করে ফেলি কিছুই করতে ইচ্ছা করেনা,কিন্তু নিজেকে আবার ঠিক করার চেষ্টায় লেগে পরি। আমি বিয়ের আগে জব করেছি,আলিম কোর্স করেছি,অনলাইনে ইসলামিক একাডেমিতে খেদমত করেছি এখনো করছি,ইলম অর্জন করার চেষ্টা করি। অনেক ভালো আর্থিক অবস্থার ছেলেদের রিজেক্ট করার,সবার এতো এতো কটু কথা সহ্য করে,এতো কষ্ট করে,এতো দুআ করে যখন তার দ্বীনের হালত এমন দেখি তখন আমার মনটা ভেঙ্গে যায়। তার বাকি সবই ভালো,আমার সাথে ভালো বন্ডিং,ভালোবাসে,যা চাই তাই দেওয়ার চেষ্টা করে,আমার অনেক রাগ,আমি অনেক চিল্লাই কিন্তু সে ধৈর্য্য ধরে আমার সাথে।অন্য কোনো কিছু নিয়ে আমার অভিযোগ নেই।
কিন্তু তার দ্বীনি হালতের জন্য আমার তার প্রতি সম্মানবোধ কাজ করেনা,মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে আমি চলে যাই। তাকে বুঝানোর চেষ্টা করি,অনেক সময় রেগে চিল্লাচিল্লি করি অল্প সময়ের জন্য বুঝলেও লং টার্মে কোনো বেনিফিট হয়না। তার জন্য আমি অনেক দুআও করি।

এখন আমার করণীয় কি হতে পারে?তার প্রতি সম্মানবোধ করা আমার জন্য পরীক্ষা আমি জানি,আর এই পরীক্ষা টা খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তার দ্বীনি হালত এমনই থাকলে আমার ভবিষ্যতে সন্তানদের উপরও তো প্রভাব পড়বে।
আমাকে উওম নসীহা দিবেন ইনশাআল্লাহ।
দুঃখিত অনেক বড় পোস্ট হয়ে গিয়েছে।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

যে নারী স্বামীর একান্ত অনুগতা ও পবিত্র সে নারীর বড় মর্যাদা রয়েছে ইসলামে। প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন,

إِذَا صَلَّتِ الْمَرْأَةُ خَمْسَهَا، وَصَامَتْ شَهْرَهَا، وَحَصَّنَتْ فَرْجَهَا، وَأَطَاعَتْ بَعْلَهَا، دَخَلَتْ مِنْ أَيِّ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ شَاءَتْ.

‘‘রমণী তার পাঁচ ওয়াক্তের নামায পড়লে, রমযানের রোযা পালন করলে, ইজ্জতের হিফাযত করলে ও স্বামীর তাবেদারী করলে জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছামত প্রবেশ করতে পারবে।
(মিশকাতুল মাসাবিহ ৩২৫৪।)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيْ النِّسَاءِ خَيْرٌ؟ قَالَ: «الَّتِي تَسُرُّهُ إِذَا نَظَرَ وَتُطِيعُهُ إِذَا أَمَرَ وَلَا تُخَالِفُهُ فِي نَفْسِهَا وَلَا مَالِهَا بِمَا يَكْرَهُ» . رَوَاهُ النَّسَائِيُّ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَان

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, কোন্ রমণী সর্বোত্তম? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যে স্বামী স্ত্রীর প্রতি তাকালে তাকে সন্তুষ্ট করে দেয়, স্বামী কোনো নির্দেশ করলে তা (যথাযথভাবে) পালন করে এবং নিজের প্রয়োজনে ও ধন-সম্পদের ব্যাপারে স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধাচরণ করে না।
হাসান :
(নাসায়ী ৩২৩১, আহমাদ ৭৪২১, ইরওয়া ১৭৮৬, সহীহাহ্ ৮৩৩৮, সহীহ আল জামি‘ ৩২৯৮.মিশকাত ৩২৭২।)

★স্ত্রীর নিকট স্বামীর মর্যাদা বিরাট। এই মর্যাদার কথা ইসলাম নিজে ঘোষণা করেছে। প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, ‘‘স্ত্রীর জন্য স্বামী তার জান্নাত অথবা জাহান্নাম।’’

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 
একবার এক নারী সাহাবী রাসূলের কাছে এলেন নিজের কোনো প্রয়োজনে। যাওয়ার সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি স্বামী আছে? তিনি বললেন, জী, আছে। নবীজী বললেন, তার সাথে তোমার আচরণ কেমন? সে বলল, আমি যথাসাধ্য তার সাথে ভালো আচরণ করার চেষ্টা করি। তখন নবীজী বললেন, فانظري أين أنت منه، فإنما هو جنتك ونارك
 হাঁ, তার সাথে তোমার আচরণের বিষয়ে সজাগ থাকো, কারণ সে তোমার জান্নাত বা তোমার জাহান্নাম। (মুআত্তা মালেক, হাদীস ৯৫২; মুসনাদে আহমাদ, ৪/৩৪১ হাদীস ১৯০০৩; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ২৭৬৯; সুনানে কুবরা, বায়হাকী, হাদীস ১৪৭০৬)

لَوْ كُنْتُ آمِرًا أَحَدًا أَنْ يَسْجُدَ لِأَحَدٍ لَأَمَرْتُ الْمَرْأَةَ أَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا.

‘‘যদি আমি কাউকে কারো জন্য সিজদা করতে আদেশ করতাম, তাহলে নারীকে আদেশ করতাম, সে যেন তার স্বামীকে সিজদা করে।’’

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার প্রতি পরামর্শ থাকবে যেহেতু আপনার স্বামী আপনাকে দ্বীন প্র্যাকটিস করতে সমর্থন দিচ্ছে এবং সেখানে থাকতে আপনার পূর্ণভাবে দ্বীন মানতে সমস্যা হচ্ছে না, তাই কোনক্রমেই আপনি তালাক বা সংসার ছেড়ে যাওয়ার চিন্তাও মাথায় আনবেন না।

এমতাবস্থায় সর্বদা মহান আল্লাহ তাআলার কাছে স্বামীর জন্য হেদায়াতের দোয়ার পাশাপাশি চেষ্টা করবেন তাকে ৩ চিল্লায় পাঠানোর।
প্রতিবছর এক চিল্লা এবং প্রতি মাসে তিন দিন আল্লাহর রাস্তায় সময় লাগানোর জন্য বলবেন।

আশা করি আল্লাহ তায়ালা সবকিছু ঠিক করে দিবেন, আপনার ভবিষ্যৎ সন্তানদের উপর কোন মন্দ প্রভাব পড়বে না, ইনশাআল্লাহ।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...