আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
130 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (31 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম

আমার ইদানীং একটা সমস্যা হচ্ছে। আমি কথায় কথায় বলতেছি,  "আল্লাহ্- এর কসম" আমি এইটা করবো না/ ওইটা করবো না। তারপর আবার তা করতেছি। এমনকি আমি জানি, কসম ভাঙ্গার পরিণাম সম্পর্কে। তাও আমি আবার কসম দিচ্ছি, ভাঙতেছি।

আজ হয়েছে কি, আমি একজনকে একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস বলার সময় বারবার ভুল হচ্ছিলো। পরে বলছি, "আল্লাহ্- এর কসম" এবারই শেষ। এবার ভুল হলে আর বলবো না। তারপর ভুল হয়েছে। আমি ইনিয়েবিনিয়ে আবার নতুন করে বলা শুরু করেছি; যেখানে আমি জানি যে কসম ভঙ্গের গুনাহ সম্পর্কে।

নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করাই হবে এই সমস্যার সমাধান। কিন্তু আমি জানতে চাচ্ছি,

১. আজ যে কাজটি আমি করেছি এটির শাস্তি কি হতে পারে?

২. এর আগেও এমন বহুবার হয়েছে। কাফফারা হিসেবে ছাত্র যেহেতু, রোযাই একমাত্র উপায়। কিন্তু মনে নাই কতবার হয়েছে। সেক্ষেত্রে কতগুলো রোযা রাখবো?

৩. কেউ যদি জেনেশুনে কসম ভঙ্গ করে, কাফফারা দিয়ে পার পেয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে, সেইটার ফলাফল সম্পর্কে জানাবেন দয়া করে।

৪. যে বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় "আল্লাহ্-এর কসম" ভঙ্গ করা হয়েছে, সে বিষয়ের উপর কি কোনো প্রভাব পড়ে? (অর্থাৎ আমি যদি আমার সুস্থতার বিষয় নিয়ে কারো সাথে আলোচনার সময় যদি "আল্লাহ্-এর কসম" দিয়ে বলি আর কোনো কিছু বলবো না এ বিষয়ে; পরোক্ষণেই যদি আবার বলা শুরু করি, সেক্ষেত্রে কি আমার সুস্থতার উপর কোনো প্রভাব আসতে পারে?"

৫. আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো নামে কসম দেওয়া যেহেতু নাযায়েজ, তা করে ফেললে কি করণীয় এখন?

৬. কসম ভাঙ্গার গুনাহ জেনেও, ঝোঁকের বশে/ সাতপাঁচ না ভেবে/ কোনোমতে দেওয়া কসমের ফাঁক-ফোকড় বের করে কসম ভাঙ্গলেও কি কাফফারা দিতে হবে?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

আল্লাহ তা'আলা বলেন,

لاَ يُؤَاخِذُكُمُ اللّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَـكِن يُؤَاخِذُكُم بِمَا عَقَّدتُّمُ الأَيْمَانَ فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ ذَلِكَ كَفَّارَةُ أَيْمَانِكُمْ إِذَا حَلَفْتُمْ وَاحْفَظُواْ أَيْمَانَكُمْ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

আল্লাহ তোমাদেরকে পাকড়াও করেন না তোমাদের অনর্থক শপথের জন্যে; কিন্তু পাকড়াও করেন ঐ শপথের জন্যে যা তোমরা মজবুত করে বাধ। অতএব, এর কাফফরা এই যে,(১) দশজন দরিদ্রকে খাদ্য প্রদান করবে; মধ্যম শ্রেনীর খাদ্য যা তোমরা স্বীয় পরিবারকে দিয়ে থাক।(২)অথবা, তাদেরকে বস্তু প্রদান করবে অথবা, একজন ক্রীতদাস কিংবা দাসী মুক্ত করে দিবে।(৩) যে ব্যক্তি সামর্থ্য রাখে না, সে তিন দিন রোযা রাখবে।.....এটা কাফফরা তোমাদের শপথের, যখন শপথ করবে। তোমরা স্বীয় শপথসমূহ রক্ষা কর এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য স্বীয় নির্দেশ বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।(সূরা মায়েদা-৮৯)

কসমের ধারাবাহিক তিনটি কাফফারার প্রথমটি হল,১০জন মিসকিনকে সকাল-বিকাল দু'বেলা খাদ্য খাওয়ানো বা বস্ত্র পরিধান করানো।খাওয়ানো পড়ানো সম্ভব না হলে,১০জনের প্রত্যেকজনকে একটি ফিতরা সমপরিমাণ টাকা দিলেই কাফফারা আদায় হয়ে যাবে।দ্বিতীয়ত একজন গোলাম আযাদ করা।তৃতীয়ত ধারাবাহিক তিনটি রোযা রাখা।
,
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
(১-৪)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে কসম ভেঙ্গে ফেলার কারনে আপনার কাফফারা আদায় করতে হবে।
আপনি যেহেতু একাধিকবার কসম করে পুনরায় ভেঙ্গে ফেলেছেন, 

এক্ষেত্রে ফুক্বাহায়ে কেরাম থেকে দু’টি মত পাওয়া যায়। যথা-
১-প্রতিটি কসম ভঙ্গের জন্য একটি করে কাফফারা আদায় করা।
২-আগের কসমের কাফফারা আদায় না করে থাকলে একটি কাফফারাই যথেষ্ট হবে।
,
আপনি যদি সক্ষম হয়ে থাকেন, তাহলে অনুমান করে যতটি কসম ভঙ্গ করেছেন ততটি কাফফারা আদায় করে দিন। এটাই উত্তম ও অধিক সতর্কতা এতেই নিহিত রয়েছে।
আর যদি অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে থাকেন, তাহলে একটি কাফফারা আদায় করা যেতে পারে।

আরো জানুনঃ 

(০৫)
সেক্ষেত্রে কসম ভঙ্গের কাফফারা দিতে হবে না।

(০৬)
আল্লাহর নামে ভবিষ্যতে কোন কিছু বলা বা না বলা, কোন কাজ করা বা না করার কসম করে থাকলে, সেক্ষেত্রে তাহা ভঙ্গ করলে উপরে উল্লেখিত ছুরতেও সেই কসমের কাফফারা দিতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
আসসালামু আলাইকুম জনাব
 অসংখ্য ধন্যবাদ উত্তর প্রদানের জন্য। আরেকটা কনফিউশন আছে, অনুগ্রহপূর্বক সহায়তা করবেন।

আমার লাস্ট ৩ টা আল্লাহ্ এর নাম নিয়ে কসমের কথা মনে আছে। তবে আমি এটাও জানি, এর পূর্বে বহুবার এমন ভূল আমি করেছি। এক্ষেত্রে আমি কি "ফুক্বাহায়ে কেরামের ২য় মত অনুযায়ী" একটি কাফফারা আদায় করতে পারবো?
by (770,460 points)
সামর্থ্যবান না হলে পারবেন।
by (31 points)
ছাত্র যেহেতু, তাই রোযার মাধ্যমে কাফফারা আদায় করতে চাচ্ছিলাম। বিগত তিনটা "আল্লাহ্-এর কসম" ভঙ্গের কথা মনে আছে। কিন্তু তার আগের অমেকগুলোর কথা মনেও নাই যে ঠিক কতবার অমন হয়েছে।।

সেক্ষেত্রে কি ধারাবাহিক ৩ টা রোযা রাখলে হবে?
by (31 points)
ছাত্র যেহেতু, তাই রোযার মাধ্যমে কাফফারা আদায় করতে চাচ্ছিলাম। বিগত তিনটা "আল্লাহ্-এর কসম" ভঙ্গের কথা মনে আছে। কিন্তু তার আগের অনেকগুলোর কথা মনেও নাই যে ঠিক কতবার অমন হয়েছে।।

সেক্ষেত্রে কি ধারাবাহিক ৩ টা রোযা রাখলে হবে?
by (770,460 points)
আপনার যেহেতু তিনটি কসম ভেঙ্গে ফেলার কথা মনে আছে, সুতরাং কমপক্ষে আপনি তিনটি রোজার কাফরা স্বরূপ লাগাতার তিনটি তিনটি করে মোট ৯ দিন রোজা রাখবেন।

এক্ষেত্রে তিনটি রোজা পর পর আপনি গ্যাপ দিতে পারবেন।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...