ভাই, আমি ব্যাখ্যা করে বলি? একেবারে সব সংশয় দূর হয়ে যাবে।
ইসলাম দুইভাবে ত্যাগ করা যায়। একটি হলো প্রকাশ্যে, অন্যটি হলো গোপনে।
গোপনে যারা ইসলাম ত্যাগ করে, তাদের মুনাফিক বলা হয়। আল্লাহর রাসুল (স.) কখনও তাঁর জীবদ্দশায় কোন মুনাফিককে তার মুনাফিকির জন্য শাস্তি দেননি, আর এর নিয়মও নেই।
সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৪৫৪৫ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৪৯০৫ :
উমার (রাঃ) উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে অনুমতি দিন। আমি এখনই এ মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দিচ্ছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। ভবিষ্যতে যেন কেউ এ কথা বলতে না পারে যে, মুহাম্মাদ তাঁর সাথীদের হত্যা করেন।
আরও আছে এ সম্পর্কে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) ওহীর মাধ্যমে মুনাফিকদের সম্পর্কে জানতেন, এমনকি তিনি তাঁর সাহাবী হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রা.)-কে একটি গোপন তালিকাও দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তাদের দুনিয়াবি কোনো শাস্তি দেননি বা তাদের হত্যা করেননি।
সবগুলো হাদিস পড়লে বুঝা যায়, তাদের শাস্তি হবে মৃত্যুর পর, দুনিয়াতে তাদের কোন শাস্তি দেওয়ার নিয়ম নেই।
তাহলে মুরতাদ কারা? যারা প্রকাশ্যে ইসলাম ত্যাগ করে তারাই হলো মুরতাদ।
যখন কেউ কোন কাজ প্রকাশ্যে করে, তখন তার এক effect সমাজের উপর থাকে। আরও অনেক লোক তার মতাদর্শ অনুযায়ী চলতে চায়। ইসলাম যখন রাষ্ট্রীয় ধর্ম হয়, তখন ইসলাম ত্যাগ করা মানে হলো এক কথায় দেশদ্রোহী হওয়া! এখন সমাজের উপর যাতে এর প্রভাব না পড়ে, তাই আল্লাহ এই নিয়ম করে দিয়েছেন।
সুতরাং,
১. ইসলাম ত্যাগ প্রকাশ্যে হতে হবে।
২. ইসলামিক কমিউনিটি/মুসলিম রাষ্ট্রে হতে হবে।
৩. কাজী তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবেন।
৪. মৃত্যুর আগে তার সংশয় দূর করার চেষ্টা করা হবে।
এবার আপনার প্রশ্নের উত্তরগুলো দিবো।