আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
71 views
in ঈমান ও বিশ্বাস (Faith and Belief) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম। আমি যতটুকু জেনেছি কেউ ইচ্ছাকৃত ইসলাম ত্যাগ করলে তারপর যদি তাকে তাওবার সুযোগ দেয়ার নির্দিষ্ট সময়েও সে ইসলামে ফিরে না আসে তাহলে তার মৃত্যুদণ্ড দিবে শাসক।এখন আমার প্রশ্ন হল
1.যারা ইসলাম ত্যাগ করে তারা অনেক চিন্তাভাবনা করে সময় নিয়ে তারপর করে।সুতরাং তাদেরকে নির্দিষ্ট সময় তাওবার জন্য দিলে তার মধ্যে  তারা সংশোধন হয়ে ফিরে না আসার সম্ভাবনা বেশি।কিন্তু এরপর তাদের মৃত্যুদণ্ড দিয়ে দিলে তার তো আর কখনোই ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না।কিন্তু এমন ও ঘটনা শুনেছি যিনি ইসলাম ত্যাগের 15-20 বছর পর আল্লাহর রহমতে ইসলাম এ আবার ফিরেছেন অনেক ঈমানের সহিত।এই বিধান তার উপর কার্যকর হলে তো তাকে মৃত্যুবরণ করতে হতো মুরতাদ অবস্থায়।কারণ শাসক কখনোই 15-20 বছর কাউকে সময় দিত না।আর আমরা এটাও জানি না আল্লাহ কখন কাকে হিদায়াত দিবেন।


2.আর যদি কেউ মৃত্যুর ভয়ে বলে আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম কিন্তু মন থেকে সে গ্রহণ করেনি।তাহলে এমন স্বীকৃতি দিয়ে কি হবে?কারণ তার অন্তরের খবর আল্লাহ খুব ভালো করে জানেন।


3.আমরা চাই সকলেই ইসলাম গ্রহণ করুক।কিন্তু কেউ বের হতে পারবে না অর্থাৎ বেরিয়ে গেলে মৃত্যুদণ্ড।এবিষয়টা আমার একটু বুঝতে সমস্যা হচ্ছে।আমরা ইসলাম পরকাল বিশ্বাস করি কিন্তু সকলে তো করে না।যারা করতে চায় না তাদেরকে কি আমরা জোর করে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে ইসলামে রাখতে পারি? এইযে বর্তমানে অন্য ধর্ম থেকে অনেক মানুষ মুসলিম হচ্ছে তাদের ও ধর্মে মৃত্যুর বিধান থাকলে তারা তো মুসলিম হতে পারত না।তাহলে কেউ মুসলিম হতে না পারলে বিষয় টা যদি আমাদের খারাপ লাগে তাহলে আমরা কি অন্য কেউ ব্যক্তিগত ভাবে কি পালন করবে সেটা কি আমরা বাধা দিতে পারি? আর ধর্ম পালন না করলে তার শাস্তি তো আল্লাহ দিবেন।আমরা বলতে পারি আল্লাহর জমিনে আল্লাহ বিরোধীর জায়গা নেই।কিন্তু এই বিশ্বাস তো আমাদের।অন্য রাতো এই বিশ্বাস করে না।


4.অনেক জায়গায় দেখেছি মৃত্যুর বিধান তখন ই কার্যকর হবে যখন তারা রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করবে।বা ফিতনা ফ্যাসাদ অন্যায় করবে।শুধু ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জন্য নয়।কিন্তু এটা আধুনিক মত।যা অনেকেই মানেন না।এই মত টা নিয়ে আমার কোনো কনফিউশন হচ্ছে না।কিন্তু এই মত টা বেশিরভাগ স্কলার বা মানুষ কে বলতে শুনি না।তাহলে কি এই ব্যাখ্যা টা ভুল?


পোস্ট টা বড় হয়ে গেলো।এই প্রশ্ন গুলো আমার মাথায় বার আসছে যা থেকে বের হতে পারছি না। তাই উত্তরগুলো জানা অনেক প্রয়োজন।
by (14 points)
ভাই, আমি ব্যাখ্যা করে বলি? একেবারে সব সংশয় দূর হয়ে যাবে। 

ইসলাম দুইভাবে ত্যাগ করা যায়। একটি হলো প্রকাশ্যে, অন্যটি হলো গোপনে। 
গোপনে যারা ইসলাম ত্যাগ করে, তাদের মুনাফিক বলা হয়। আল্লাহর রাসুল (স.) কখনও তাঁর জীবদ্দশায় কোন মুনাফিককে তার মুনাফিকির জন্য শাস্তি দেননি, আর এর নিয়মও নেই। 

সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৪৫৪৫ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৪৯০৫ :
উমার (রাঃ) উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে অনুমতি দিন। আমি এখনই এ মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দিচ্ছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। ভবিষ্যতে যেন কেউ এ কথা বলতে না পারে যে, মুহাম্মাদ তাঁর সাথীদের হত্যা করেন।

আরও আছে এ সম্পর্কে। 

রাসূলুল্লাহ (সা.) ওহীর মাধ্যমে মুনাফিকদের সম্পর্কে জানতেন, এমনকি তিনি তাঁর সাহাবী হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রা.)-কে একটি গোপন তালিকাও দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তাদের দুনিয়াবি কোনো শাস্তি দেননি বা তাদের হত্যা করেননি।

সবগুলো হাদিস পড়লে বুঝা যায়, তাদের শাস্তি হবে মৃত্যুর পর, দুনিয়াতে তাদের কোন শাস্তি দেওয়ার নিয়ম নেই। 

তাহলে মুরতাদ কারা? যারা প্রকাশ্যে ইসলাম ত্যাগ করে তারাই হলো মুরতাদ। 

যখন কেউ কোন কাজ প্রকাশ্যে করে, তখন তার এক effect সমাজের উপর থাকে। আরও অনেক লোক তার মতাদর্শ অনুযায়ী চলতে চায়। ইসলাম যখন রাষ্ট্রীয় ধর্ম হয়, তখন ইসলাম ত্যাগ করা মানে হলো এক কথায় দেশদ্রোহী হওয়া! এখন সমাজের উপর যাতে এর প্রভাব না পড়ে, তাই আল্লাহ এই নিয়ম করে দিয়েছেন। 

সুতরাং, 
১. ইসলাম ত্যাগ প্রকাশ্যে হতে হবে।
২. ইসলামিক কমিউনিটি/মুসলিম রাষ্ট্রে হতে হবে। 
৩. কাজী তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবেন। 
৪. মৃত্যুর আগে তার সংশয় দূর করার চেষ্টা করা হবে। 

এবার আপনার প্রশ্নের উত্তরগুলো দিবো। 

by (14 points)
১. তাদের শুধু নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয় না, বরং সংশয় দূর করবার জন্য ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়। response-to-anti-islam.com, frommuslims.com, islamicauthors.com এগুলোর মতো করে জবাব দেওয়া হয়। সুতরাং, যে ব্যক্তি জবাব পাওয়ার পরও মুসলিম হবে না, সে কি ১৫-২০ বছর পর কনভিন্স হবে যে ইসলাম সত্য? বরং যারা কনভিন্স হয়, তারা মূলত এই উত্তরগুলো খুঁজে পাওয়ার পরই মুসলিম হয়। সেটা ৩ দিনে হবে নাকি ১৫-২০ বছরে সেটা ম্যাটার করে না। যে ৩ দিনেও সকল সংশয় দূর হবার পর ইসলাম গ্রহণ করল না, সে ১০০ বছরেও করবে না। 

২. লাভ হবে না। ঠিক যেরকম মুনাফিকরা! ওদের সাক্ষ্য দিয়েও কোন লাভ নেই। (আখিরাতে) 
আর দুনিয়াতে যা হবে, কেউ ইসলাম ত্যাগ করার সাহস পাবে না i.e. দেশদ্রোহী হতে সাহস পাবে না। এটাই লাভ।

৩. এখানে কোন সমস্যাই নেই! আমরা কি হিন্দুদের মুসলিম করছি?? বরং যারা মুসলিম ছিল, তারা যাতে মুসলিমই থাকে সেই ব্যবস্থা করছি। 

একই বিধান অন্যধর্মে থাকতেই পারে! আমাদের খারাপ লাগতেই পারে! কিন্তু তারা কি ইসলামের আন্ডারে? ইসলামের বিধান কি সেই হিন্দুদের জন্য প্রযোজ্য যারা অন্যদের মুসলিম হতে বাঁধা দেয়? মোটেই না। তাহলে আমাদের স্ট্যান্ডার্ড ওদের সাথে মিলবে কিভাবে! ওরা যা খুশি করুক। 

ইসলামে এর সমাধান আছে ঐ নওমুসলিমদের জন্য। আর তা হলো "হিজরত করা"। তারা হিজরত করে মুসলিম এরিয়ায় আসলেই কিন্তু হয়ে গেল! 

৪. ব্যক্তিগত বিশ্বাসের সাথে রাষ্ট্রবিরোধী কাজের একদম শক্তিশালী সম্পর্ক আছে। দুটোই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং, এদের আলাদা করা যায় না। আপনার বিশ্বাস প্রচার করলেও তা রাষ্ট্রবিরোধী কাজই হয়। 

আরও প্রশ্ন থাকলে করতে পারেন। 

1 Answer

0 votes
by (807,900 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(১) ইসলাম কোনো কাফিরকে মৃত্যু দন্ডের আদেশ দেননাই। শুধুমাত্র মুরতাদ এবং শাতিমে রাসূলকেই দিয়েছে। মুতরাদ হওযার পর মৃত্যুদন্ডের আদেম বিকখখ

ঝ(২) আর যদি কেউ মৃত্যুর ভয়ে বলে আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম কিন্তু মন থেকে সে গ্রহণ করেনি।তাহলে এমন স্বীকৃতি দিয়ে আখেরাতে মুক্তি পাওয়া সম্বব হবে না।


(৩) এটা কুরআন হাদিসের বিধান। 

(৪)এটা কুরআন হাদসের বিধায়।এখান মানবিক চিন্তাভাবনার কোনো সুযোগ নাই।
........................................................................................................................................................................................................


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...