আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
22 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (17 points)
reshown by
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ উস্তায
১) ১২ /১১ বছর বয়সের মামাতো ভাইকে কি পড়ানো যাবে? তার মোবাইল দেখার অভ্যাস আছে। আচার  আচরণ হাসি-কথাবার্তা ছোট মানুষের মতো কিন্তু কিছু কিছু সময়  বড় মানুষের মত কথা বলে। তার বাবা অর্থাৎ আমার মামা আমাদের পরিবারের বিভিন্ন কাজে সহায়তা করেন , বিয়ে শাদি ইত্যাদিতে নিজের মনে করে অনেক কাজ করে দেন। মামা ই বলেছেন আমাকে পড়ানোর জন্য এখন মুখের উপর না করা কি ঠিক হবে?
২) আমার বোন নার্স । সে বর্তমানে  একটা ক্লিনিকে চাকরি যেখানে বোরকা পড়ে চাকরি করতে পারেন। কিন্তু বেতন অনেক  কম। তাই অন্য মেডিকেলে সিভি দিছেন । কিন্তু সিভি থেকে কোন কল আসেনা দেখে আমার মা বলতেছেন আমার বোনের রুকাইয়াহ করানোর জন্য,জ্বীন যাদু কোন সমস্যার কারনে হয়তো হচ্ছে না। আমাদের অনেক শত্রু আছে আত্মীয়ের মধ্যেই। মা বলেছেন আমার পরিচিত এক বোনের মাধ্যমে রুকাইয়াহ করাতে। এখন বর্তমানে যেখানে আমার বোন চাকরি করেন , সেখানে বোরকা পড়ে যাওয়ার অনুমতি আছে, কিন্তু পরবর্তীতে যদি রুকাইয়াহ করানোর পর ,এমন মেডিকেলে চাকরি হয়, সেখানে যদি বোরকা পড়ে যাওয়ার  অনুমতি না থাকে । তাহলে আমার মাধ্যমেই যে রুকাইয়াহ করানো হলো আমি কি গুনাহগার হবো?
৩)  আবার যদি আমি রুকাইয়াহর জন্য চেষ্টা না করি , তাহলে কবিরাজের কাছে ও আম্মা চলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে । সেটাতো আবার কুফরি । এক্ষেত্রে আমার করনীয় কি?
৪)যদি কেউ সাধারনত চোখ ডেকে পর্দা করে বাহিরে যায়। আর স্বামী যদি বলে চোখ খোলা রেখে বাহিরে যাওয়ার জন্য, তাহলে এমতাবস্থায় কি করা উচিত হবে ,?

৫) আমার আপন খালাতো ভাইয়ের সাথে মোবাইলে আখত  করে রাখা হয়েছে ১বৎসর ২মাস হয়ে গেছে ,হবু স্বামী বিদেশে থাকে , সে দেশে আসতে চায়, তার পরিবার থেকে তাকে দেশে আসতে না করা হয়। এজন্য সে আসেনা। সে অনেক সামাজিক নিয়ম ফলো করে এমন মানুষ । "বিয়ের জন্য নিজে থেকে দেশে চলে আসলে  " মানুষ কি মনে করবে? কে কি বলবে এমন? এমন চিন্তা ভাবনা হয়তো সে করে। তবে আমি সিউর না। আমি তার সাথে কথা বলিনা আমার মা কথা বলেন মাঝেমধ্যে । তা শুনে আন্দাজ করেছি। সে আমার হোয়াটসঅ্যাপ কন্ট্রাক্ট লিস্টে আছে , কিন্তু কথা বলিনা । আমার পরিবার থেকে বিয়ে ঠিক করে রাখার পর তাকে দেওয়া হয়েছিলো। বর্তমানে তো বিয়ে ঠিক হয়ে গেলেই পাত্র পাত্রী কথা বলা শুরু করে এ হিসেবে সবাই ভাবছে আমি ও কথা বলবো। কিন্তু আমি কথা বলিনি আলহামদুলিল্লাহ ।  আমি অনেক সময় ভাবি যে হালাল সম্পর্কের গুরুত্ব নিয়ে কিছু লিখা/শায়েখদের ওয়াজ স্টোরিতে দেই , যাতে সে দেখে এবং মানুষের কথাকে ভয় না করে নিজে সতর্ক হবে বিয়ের ব্যাপারে। আমাদের তরফ থেকে ফার্নিচার পর্যন্ত তাদের বাড়ি পাঠানো হয়ে গেছে কিন্তু তারা ছেলেকে দেশে আনাতে চাচ্ছেনা, সংসারে অনেক দায়িত্ব পালন করে সে ,দেশে আসলে টাকা পাবেনা পরিবারের সদস্যরা এজন্য তারা বিয়ে ব্যাপারে বেখবর।  আবার ভাবি সে যদি স্টোরি দেখে মেসেজে কীছু জিজ্ঞাসা করে বা বলে তাহলে আমার কি করা উচিত হবে? দু একটা মেসেজে দ্বীনী বিষয়ে কথা বললে ইনবক্সে গুনাহ হবে কি?

৬) আমার আগে আরেক জায়গায় বিবাহ হয়েছিল সেখানে অল্প কয়েকদিনের মধ্যে ডিভোর্স হয়ে যায় । বাহ্যিকভাবে কয়েকটি কারন ও ছিল যাদুর সংক্রান্ত সমস্যা ছিল বেশি,আমার আত্মীয়দের মধ্যে শত্রুতা আছে,পরবর্তীতে ধরা পড়েছিল। সেইম যাদুর সমস্যা আমার হবু স্বামীর বাড়িতে ও । আমার হবু স্বামীর বাড়ি এবং নানারবাড়ি কাছাকাছি।  যে আত্মীয়দের সাথে আমাদের শত্রুতা দীর্ঘদিনের তারা ও আসে যাওয়া করে হবু শশুরবাড়িতে। এ নিয়ে আমার মা খুব চিন্তিত, শশুরবাড়িতে যাওয়ার পর আবার না কোন সমস্যা হয় , আর যারা  যাদু করে তাদেরকে তো ধরা যায় না, তাদের থেকে বেঁচে থাকা যায় না । আমার মা বলতেছেন IELTS করার জন্য, যাতে পরবর্তীতে আমি ইউরোপের কোন দেশে চলে যেতে পারি  । প্রথম বিবাহের পর ও আমার স্বামী এবং আমার পরিবার বলেছিল IELTS করার জন্য কিন্তু আমি তাদের কথা মানেনি। আসলে আমাদের আত্মীয়দের মধ্যে শত্রু ছিল, তা  আমরা আগে বুঝিনি তাদের কথা আমার মা শুনতেন আগে।  পরবর্তীতে ছোটখাটো কয়েকটি বিষয়ে অলৌকিকভাবে সংসারটা ভেঙে যায় । এখন ও আমার মা বলতেছেন আমাকে IELTS করার জন্য,এমন অবস্থায় আমার কি করা উচিত?
ইউরোপের কোনো দেশে গিয়ে শুধু মাত্র কয়েকবছর থাকার নিয়ত থাকবে, সারাজীবনের জন্য নয়।
৭)আমি আপনাদের আলিম প্রিপারিটি কোর্সের ৪র্থ ব্যাচের স্টুডেন্ট । আমি চাচ্ছি  বিবাহ সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন এবং রুকাইয়াহ বিষয়ক জ্ঞান অর্জনের জন্যে ,কয়েক মাসের জন্য আলিম কোর্সের পড়াটা বন্ধ রাখতে এবং জুলাইয়ে আবার ৪র্থ সেমিস্টারে রিএড হতে। পরিবারের হক্ব, কয়েকটা স্টুডেন্ট পড়াই তাদের সময় দিতে হয়, এবং আকিদা সম্পর্কে জানার আমার কমতি আছে ১ম সেমিস্টার থেকে এ বিষয়ে আবার পড়া শুরু করেছি ,নিজে +পরিবার এ আকিদার বিষয়ে জানা খুব জরুরি মনে করছি।   ত্বলিবাহ হিসেবে থাকার জন্য প্রতিদিন কুরআন তেলাওয়াত,তাফসীর ১\২ আয়াত, কুরআন তাদাব্বুর পড়া / শোনার নিয়ত করেছি ,এভাবে ইলম শেখা বন্ধ করা কি ঠিক হবে?

1 Answer

0 votes
ago by (809,370 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(১)
পুরুষ শিক্ষক তিনি ছাত্রকে প্রাইভেট পড়াবেন।ছাত্রীদেরকে নারী শিক্ষকই প্রাইভেট পড়াবেন।যদি কোথাও পুরুষ শিক্ষক, ছেলে শিক্ষার্থীকে না পান,এবং মেয়ে শিক্ষার্থীরা, নারী শিক্ষিকা-কে না পায়।
এমন পরিস্থিতে শিক্ষার স্বার্থে কয়েকটি শর্তে বিপরিত লিঙ্গের কাউকে পড়ানোর ব্যাপারটা অনুমোদনযোগ্য হতে পারে।
(১)ফিতনার আশংকা থাকতে পারবে না।যখনই শয়তান মনের মমধ্যে কিছু আনয়ন করবে,সাথে সাথেই তখন পড়ানোকে বাদ দিতে হবে।
(২)যতক্ষণ পড়াবেন ততক্ষণ মেয়ে শিক্ষার্থীর একজন মাহরাম পুরুষ সেখানে উপস্থিত থাকবেন।বা এক সাথে কয়েকজন মেয়ে শিক্ষার্থীকে পড়াবেন।
(৩)মেয়ে শিক্ষার্থীরা পরিপূর্ণ হেজাব পড়ে ক্লাস নিবেন।
(৪)মেয়ে শিক্ষার্থীর সাথে নরম ভাষায় কথা বলা যাবে না।
(৫)এছাড়া ফিতনামুক্ত পরিবেশ গড়ার যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে হইবে।বিস্তারিত জানুন-https://www.ifatwa.info/4193

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনি আপনার মামাতো ভাইকে পড়াতে পারবেন। তবে ফিতনার আশংকা থাকলে তখন পারবেন না।

(২)
রিযিক কেউ আটকিয়ে রাখতে পারবে না। বেপর্দা ভাবে চাকুরী করা আপনার বোনের জন্য জায়েয হবে না। সুতরাং আপনার বোনের উচিত, বর্তমানে যেখানে আছেন, যেহেতু পর্দা করা সম্ভব আছে, তাই সে এখানেই থাকবে। হ্যা, পর্দা করা সম্ভব এমন কোনো উচ্চ বেতনের চাকুরী পেলে অবশ্যই সেটা করতে পারবে।

(৩) আপনি আপনার মাকে বুঝাবেন। তারপরও মা কোনো কবিরাজে চলে গেলে, কবিরাজের পরামর্শ যদি শরীয়ত সম্মত না হয়, তাহলে সেটা ফলো করবেন না।

(৪) স্বামীর কথা মান্য করা যাবে না।বরং চোখ ঢেকেই বাহিরে যেতে হবে।

(৫) বিনা জরুরতে কোনো প্রকার কথা বলা যাবে না। দ্বীনি আলাপও করা যাবে না।

(৬) দাওয়াত ও তাবলীগের নিয়ত ব্যতিত অমুসলিম দেশে যাওয়া জায়েয হবে না। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/3447

(৭) আলিম কোর্সের পড়াশোনা বন্ধ না করে অন্যান্য জ্ঞান অর্জন করার চেষ্টা করবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...