আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

+1 vote
21 views
in পবিত্রতা (Purity) by (5 points)
edited ago by
হুজুর আমার বয়স বেশি না। আমার ইদানীং অনেক বেশি শুচিবায়ু হচ্ছে। আমার শুধু ফরয গোসলে এই শুচিবায়ু টা হচ্ছে। এখন আমি কিভাবে ফরয গোসল করি পুরো নিয়ম টা ব্যাখ্যা করে বলছি দয়া করে পুরো টা পড়ে উত্তর দিয়েন-

আমি ১ বার প্রস্রাব করি আগে,তারপর ব্রাশ ও করি আবার মেসওয়াক ও করি কারন মনে হয় দাতের ফাকে খাবার লেগে থাকে।তারপর বাথরুম এর টেপ, বালতি, মগ ধুই কারন মনে হয় গোসলের আগে সব পাক করি। তারপর বাথরুম এর বাহিরে দাঁড়িয়ে বাথরুমে প্রবেশের দোয়া পড়ি, তারপর নিয়ত করি-আমি পবিত্রতা অর্জনের জন্য গোসল করার নিয়ত করলাম।পরে বিসমিল্লাহ বলে বাথরুমে ঢুকি,হাতে সাবান নিয়ে ডলে ধুই, তারপর হাত অজুর মত তিন বার ধুই।তারপর আগে ২ পাশের উরু ৪-৭ বার মগেপানি দিয়ে ধুই।আর এক মগে পানি ধরে ১.৫ লি।কারন মনে হয় ৩ বার একটু পানি দিলে তো পাক হয় না।আমি চেষ্টা করি ৩ বার পানি দিয়ে পাক করতে কিন্তু মনে মানে না, কারোন নাপাকি তো মাঝে মাঝে অদৃশ্য থাকে। তারপর লজ্জাস্থান,অন্ডকোষ, মলদ্বার কোনোরকম ধুই।তারপর বালতি তে পানি নিয়ে বাথরুমে পানি ঢালি কারন নাপাকি তো ফ্লোরে লেগেছে।তারপর সাবান দিয়ে  হাত ডলে ধুই ২ বার কারন হাতে  নাপাকি লাগে,১ বার ধুইলে মনে হয় নাপাকি থাকে, কারন অদৃশ্য নাপাকি ।ওযু করি তারপর। তারপর মাথায় তিনবার পানি দেই, প্রত্যেকবার চুলে আঙুল দ্বারা খিলাল করি। তারপর ডানে তিন বার পানি, বামে তিন বার পানি দেই, এখানেও প্রত্যেকবার শরীর ডোলে ধুই কিন্তু শুধু উপরের অঙ্গগুলোতে হাত বুলিয়ে দেই নিচের অঙ্গগুলোতে আর হাত দেই না । তারপর শাওয়ার ছেড়ে মাথা,  পিঠ,হাত, বগল, কান নাভি তে পানি দেই। তবে এই সময় কান, নাভি তে এতো ভালো করে পানি দেই না।পরে শরীরের উপরের অংশে সাবান দিয়ে ডলি। তারপর উপরের অংশ আবার ভালো করে ধুই পানি দিয়ে। এ সময় কান ও নাভিতে  ভালো করে পানি দিই আবার। তারপর লজ্জাস্থানে(লিঙ্গ ও মলদ্বার ও এর আশেপাশে)  সাবান দিয়ে অনেক পানি অনেকবার পানি দিয়ে ধুই,কয়েক বালতি পানি লাগে এই কাজেই, মনে হয় অন্ডকোষ ভিজে নি কারন অনেক ভাজ পিরে যায় অন্ডকোষ এ।তারপর উরু,  তে  সাবান দিয়ে দিই। এরপর টেপ ছেরে পা টা তে হাত না লাগিয়ে পানি দেই টেপের কাছে নিয়ে ধরে টেপ ছেরে রাখি কারন নাপাক ধোয়ার সময় নাপাকি তো গড়িয়ে পরেছিল,পরে পায়ে সাবান দেই।পরে আবার পুরো শরীর শাওয়ার ছেড়ে ধুই ।পরে বালতির পর বালতির পানি লাগে উরু, উরুর পিছনের জায়গা ধুতে কারন মনে হয় লম ভিজেনি।পরে পা ধুই।পায়ের লোম ও বেশি তাই পানি দিলেও মনে হয় ভিজে নাই তাই কয়েক বালতি পানি লাগে।পা আর উরু ধুইতে অনেক বালতী পানি দেই। পরে  বের হওয়ার আগে কয়েকবার কুলি করি,নাকে পানি দেই, কানে পানি দেই,নাভিতে পানি দেই, চোখের ভ্রুতে পানি দেই পরে শরীরে কয়েক মগ পানি দেই পরে ৩ বার, কারোন এত সময় লাগে যে দেহ প্রায় শুকিয়ে যায়।পরে অজুর মত করে পা ধুই নিচের যায়গাটা।পরে আমি ৩ বার পায়ে শেষ বার পানি দিয়ে বের হই।আমার এই গোসল করতেই ১ ঘন্টা লাগে বা এর ও বেশি লাগে কি কি করবো এখন এখানে কি কি ওয়াসওয়াসা রয়েছে। কি কি আমাকে ছাড়তে হবে। আমার উপরের কাহিনীটি পড়ে বলুন কি কি ছাড়তে হবে। আমার অবস্থা অনুসারে আমাকে ফরজ গোসল করার নিয়ম টি বলুন হাদিস থেকে রেফারেন্স লাগবে না। শুধু আমার দেওয়া অবস্থা অনুসারে নিয়মটি বলুন আমার ভাষায়। আপনারা যেভাবে করেন মানে মুফতি সাহেব আপ্নারা জা করেন তাই বলেন।এটা আমার সারা জীবনের জন্য প্রয়োজন। সেভাবেই শুধু বলেন আমার অবস্থা অনুসারে।আমাকে বলুন আমার এই পদ্ধতিতে কি কি ছআরতে হবে কি কি অকারনে করি আর আমার অবস্থা অনুসারে নিয়ম কি.আর কি কি করলে এই শুচিবায়ু থাকবে না??আমি তো মানে অনেক পানি অপ করি, নবিজি যেখানে অনেক কম পানি ব্যবহার করতেন তাই আমার প্রশ্নগুলো পুরো পরে উত্তর দিয়েন।
হুজুর প্লিজ আমি বাচতে চাই, কান্না করি এখন এসবের জন্য

আমার রুকাইয়া করার কোনো অবস্থা এখন নেই এমন সময় নাই কেওকে বলতেও পারি না প্লিয বলেন।

1 Answer

0 votes
ago by (809,370 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
গোসলের ফরয ১১টি।
(১)মুখ ধৌত করা।
(২)নাক ধৌত করা।
(৩)সমস্ত শরীর একবার ধৌত করা।
গোসলের ফরয সাধারনত এ তিনটিই।কেননা সমস্ত শরীরের মধ্যে পরবর্তী সবগুলাই ঢুকে গেছে।কিন্ত বিশেষ গুরুত্বের ধরুণ কোনো কোনো কিতাবে পৃথক পৃথক করে গননা করা হয়।
(৪)খতনাবিহীন ব্যক্তির পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগের চামড়া যদি খুলতে কষ্ট হয়,তবে তার ভেতরাংশ ধৌত করা।
(৫)নাভি ধৌত করা।
(৬)শরীরের এরূপ ছিদ্রে পানি পৌঁছানো, যা বুঁজে যায়নি। 
(৭)পুরুষের চুলের বেণীর ভেতরে পানি পৌঁছানো, এতে চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছা বা না পৌঁছার কোন শর্ত নেই।
তবে মহিলার চুলের গোড়ায় যদি পানি পৌঁছে, তাহলে মহিলার চুলের বেণীর ভেতরে পানি পৌঁছানো ফরয নয়।
(৮)দাড়ির ভেতরস্থ চামড়া ধৌত করা।
(৯)গোঁফের ভেতরস্থ চামড়া ধৌত করা।
(১০)ভ্রুর ভেতরস্থ চামড়া ধৌত করা।
(১১)যোনি মুখবরনের বহিরাংশ ধৌত করা।
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-https://www.ifatwa.info/5183

সুপ্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন!
ফরয গোসলের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক কোনো ফরয নিয়ম নেই, বরং যেকোনো ভাবে সমস্ত শরীর ধৌত করে নিলেই পবিত্রতা অর্জন হয়ে যাবে। আপনি যেইসব ধারাবাহিক নিয়মের কথা উল্লেখ করেছেন, এভাবেও করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, ফরয গোসলে শরীরের সমস্ত অঙ্গে পানি পৌছা শর্ত।তা যেভাবেই হোক না কেন। শরীরের সমস্ত অংশজুড়ে পানি পৌছতে হবে। মাথা থেকে শুরু করে পা পর্যন্ত পানি দিয়ে দিয়ে আসা মুস্তাহাব। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...