আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
57 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (21 points)
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ উস্তাদ

আমার মা বাবা জমি বন্দক নিয়ে সেই জমিতে ধান চাষ করে এবং সেই ধান কিছু টা বিক্রি করে আর কিছুটা চাল করে ভাত খাওয়ার জন্য। তাছাড়া পোষ্ট অফিসে টাকা রাখে সেখানে প্রতি বছরে ১ লাখ টাকায় ১০ হাজার বাড়তি টাকা দেয়। আবার প্রাইম ব্যাংকে ১ লাখ টাকা রেখেছে সেখানে ৬ বছর পর ১ লাখ টাকা বাড়তি দিবে।  বাড়িতে পর্দার পরিবেশ নেই। গায়রে মাহরাম পুরুষ রা যখন তখন বাড়িতে ঢুকে পড়ে। বাড়িতে গেট লক করে রাখাও নিষেধ। মা বাবার দ্বীনের বুঝ ও নেই।

আমি বিবাহিত। বিয়ের আগে হেদায়েত পেয়ে সব বুজতে পারি তখন ভেবেছিলাম দীনদার কাউকে , দ্বীন ই পরিবারে, দীনি পরিবেশে বিয়ে করে নিজেকে দ্বীনের উপর রাখতে সহজ হবে। কিন্তু শশুর বাড়িতেও পর্দার পরিবেশ নেই।আমার শাশুড়ি আর এক জা থাকেন। শাশুড়ি সবসময় গীবত, চোখলখুরি নিয়ে পরে থাকেন,তার নিজস্ব জমি আছে সেটার অহংকার করেন, বাড়ীর জমি তার নামে এর জন্য একবার আমার স্বামী সহ আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এককথায় আমার শাশুড়ি চায় আমি ওনার কথা মত চলি। শশুর বাড়ী,বাবার বাড়ির পরিবেশ আমার উপর খারাপ প্রভাব ফেলছে। এখন পাপ কাজ গুলোর প্রতি আমি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছি,পাপ কাজ গুলো বেশি ভালো লাগছে। পরিবেশ আমার উপর খারাপ প্রভাব ফেলছে। আমার স্বামীর ও দ্বীনের বুঝ নেই তেমন যেকারনে সবকিছু সামলে ওঠা আমার জন্য অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে।

১/ বন্দকি জমির ধান থেকে যে চাল আসে সেটা তো ভাত হিসেবে খাই। এটা হারাম খাওয়া হচ্ছে?
২/ বন্দকি জমির ধান বিক্রি করে যে টাকা আসছে সেটা হারাম?

এটা কি সুদ বলে বিবেচিত হবে?

৩/পোষ্ট অফিস,প্রাইম ব্যাংকের বাড়তি টাকা কি সুদ?

৪/ আমার বাবার বাড়িতে থাকলে আমি কি হারাম খাচ্ছি?

আমার মা একায় থাকে যেকারনে বাবার বাড়িতে বেশি থাকতে হয়।

৫/শশুর বাড়ি,বাবার বাড়িতে থাকলে আমি হেদায়েত হারায় ফেলছি। এরকম পরিবেশে থাকলে গীবত এ জড়াতে হচ্ছে,হারাম, বিদআত, শিরক, কুসংস্কার এ জড়াতে হবে,পর্দার খেলাফ হচ্ছে।এক্ষেত্রে কি করতে পারি?

৬/  ২/৩ জন আমার সামনে গীবত করলে আমি যদি কথা না বলে চুপ থাকি তাহলে আমার পাপ হবে? কেননা সেখানে গীবত করতে নিষেধ করলে কটু কথা শুনতে হয়,অপমানিত হতে হয়।

৭/ আমার শাশুরির কথা মানতে গেলে আমাকে পর্দা ছাড়তে হবে। ওনার কথা মত বাবার কাছ থেকে যৌতুক নিতে হবে। উনি সবসময় আমার বিষয়,আমার মা বাবার বিষয় মিথ্যে বদনাম করে বেড়ায়। ওনার সাথে সম্পর্ক ভালো রাখাই যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে কি করতে পারি?

৮/প্রাইম ব্যাংকের টাকা আমার বাবা আমার স্বামীকে দিতে চাচ্ছেন। এই টাকাতে যদি সুদ থাকে তাহলে আমার এবং আমার স্বামীর জন্য এই টাকা নেওয়া কি জায়েজ হবে?

৯/উস্তাদ আমি অন্য পরিবেশে থাকলে হয়তো অনেক পাপ থেকে বাঁচতে পারব,হেদায়েত ধরে রাখতে পারবো। স্বামীকে আলাদা থাকার জন্য জোর করতে পারি? এতো ফেতনায় মাঝে আমি দ্বীন হারায় ফেলছি।


পরিবারের মানুষদের দাওয়াত দিয়েই যাচ্ছি। কিন্তু তাদের দাওয়াত দিতে গিয়ে আমার অবনতি হচ্ছে।

1 Answer

0 votes
by (769,290 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم  

উল্লেখিত পদ্ধতিকে কট বা বন্ধক রাখা বলে।
বন্ধক রাখা হয় ঋণ আদায়ের নিশ্চয়তাস্বরূপ। এতে ঋণদাতা নিশ্চিত থাকেন যে ঋণ আদায় না করলেও বন্ধককৃত বস্তু থেকে আদায় করে নেওয়া যাবে। 

পবিত্র কোরআনেও এর নির্দেশ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর যদি তোমরা সফরে থাকো এবং কোনো লেখক না পাও, তাহলে হস্তান্তরিত বন্ধক রাখবে। আর যদি তোমরা একে অপরকে বিশ্বস্ত মনে করো, তবে যাকে বিশ্বস্ত মনে করা হয়, সে যেন স্বীয় আমানত আদায় করে এবং নিজ রব আল্লাহকে ভয় করে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৮৩)
,
বন্ধককৃত বস্তু বন্ধকগ্রহীতার কাছে আমানতস্বরূপ। 

★বন্ধকি জমি থেকে বন্ধকগ্রহীতার কোনো ফায়দা হাসিল করা নাজায়েজ ও হারাম। এমনকি বন্ধকদাতা এর অনুমতি দিলেও পারবে না। কারণ বন্ধকি জমি থেকে বন্ধকগ্রহীতা কোনো ধরনের ফায়দা উপভোগ করা সুদের অন্তর্ভুক্ত, যা হারাম। (বাদায়েউস সানায়ে : ৬/১৪৬)

ইবনে সিরিন (রহ.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক লোক সাহাবি ইবনে মাসউদ (রা.)-এর কাছে জিজ্ঞেস করল, এক ব্যক্তি আমার কাছে একটি ঘোড়া বন্ধক রেখেছে, তা আমি আরোহণের কাজে ব্যবহার করেছি। ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, তুমি আরোহণের মাধ্যমে এর থেকে যে উপকার লাভ করেছ তা সুদ হিসেবে গণ্য হবে। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস : ১৫০৭১)
,
বিখ্যাত তাবেয়ি ইমাম কাজি শুরাইহ (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, সুদ পান করা কিভাবে হয়ে থাকে? তিনি বলেন, বন্ধকগ্রহীতা বন্ধকি গাভির দুধ পান করা সুদ পানের অন্তর্ভুক্ত। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস : ১৫০৬৯)
,
★প্রশ্নে উল্লেখিত পদ্ধতি নাজায়েজ। 
এটি জায়েজ পদ্ধতি নয়।
এভাবে সেই জমি থেকে নিজে চাষাবাদ করা বা অন্য কাউকে দিয়ে চাষাবাদ করানো কোনোটাই জায়েজ নেই,সেই জমি থেকে কোনো ভাবেই উপকৃত হওয়া যাবেনা।
,     
বৈধ পদ্ধতি সম্পর্কে জানুনঃ 

এ সংক্রান্ত বিস্তারিত মাসয়ালা জানুনঃ 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
১/ প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে বন্ধকি জমির ধান থেকে যে চাল আসে সেটা খাওয়ার দরুন হারাম খাওয়া হচ্ছে।

২/ বন্ধকি জমির ধান বিক্রি করে যে টাকা আসছে সেটা হারাম।

এটা সুদ বলে বিবেচিত হবে।

৩/পোষ্ট অফিস,প্রাইম ব্যাংকের বাড়তি টাকা সুদ।

৪/ হ্যাঁ, আপনি হারাম ভক্ষন করছেন।

৫/ আপনার বাবার বাসায় থাকতে হলে সেক্ষেত্রে স্বামীকে বলবেন তিনি যেন রার হালাল টাকা হতে আপনার ভরণপোষণের ব্যবস্থা করেন।  আপনার খাবার বাবদ কিছু টাকা যেনো আপনার পরিবারকে দেয়, তাহলে সমস্যা আর হবে না।

৬/ এক্ষেত্রে আপনি সেই স্থান ত্যাগ করবেন।

৭/ স্বামীকে বুঝিয়ে পর্দা সম্মত আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকার পরামর্শ থাকবে। 

৮/ জায়েজ হবেনা।

৯/ অবশ্যই আপনি স্বামীকে আলাদা থাকার জন্য জোর করতে পারেন।
এই অধিকার আপনার আছে।

ইসলামের দিক-নিদের্শনা হচ্ছে বিবাহের পরে স্বামীর প্রথম কতর্ব্য হলো স্ত্রীর জন্য এমন একটি বাসস্থানের ব্যবস্থা করা যেখানে স্ত্রী মানুষের দৃষ্টি থেকে নিরাপদ থাকবে। কেননা পর্দা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান। আর এই বিধান পালন করার জন্য স্বামীর কতর্ব্য স্ত্রীকে সাহায্য করা। সেই সাথে অন্যান্য সকল কষ্ট থেকে স্ত্রীর আরামের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে স্ত্রীকে শ্বশুর ও শাশুড়ির সাথেই থাকতে হবে এমন বাধ্যও করা যাবে না। কেননা এমন কোন অধিকার স্বামীর নেই। তবে এই ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রী উভয়কে সামাজিক অবস্থার উপর বিবেচনা করেও কিছু কাজ করতে হবে।

যদি কোন স্বামী তার স্ত্রীকে স্বামীর পরিবারের সাথে অথবা অন্য আত্মীয়ের সাথে থাকার কথা বলে কিন্তু স্ত্রী কারো সাথে থাকার কথা রাজি না হয় তাহলে স্ত্রীকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা স্বামীর কতর্ব্য। কেননা স্ত্রীর সকল কিছু রক্ষা করা ও নিরাপদে বসবাস করার দায়িত্ব স্বামীর।

এ সংক্রান্ত জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (21 points)
উস্তাদ প্রাইম ব্যাংক এবং পোষ্ট অফিস এ যে রাখা টা রাখা আছে সেটার মধ্যে বন্দকি জমির ধান বিক্রির টাকা থাকতে পারে। আমি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারছি না কারন আমার মা বাবা অনেক আগে থেকে বন্দকি জমির ধান বিক্রি করে। এদিকে আমার স্বামী,শাশুড়ি চায় আমার বাবা ওদের টাকা দিক নানা বাহানায় টাকাও চায়। এখন আমার বাবা সুদ এর টাকা দিচ্ছে নাকি অন্য টাকা দিচ্ছে সেটা তো বুজতে পারছি না। এককথায় আমার শাশুড়ি,স্বামী টাকা বা অন্য কিছু চাচ্ছে আমার মা বাবা দিচ্ছে সেটা হালাল না হারাম গায়ে লাগাচ্ছে ই না। এভাবে কিভাবে হারাম থেকে বাঁচা যায়? আমার স্বামী ছোট একটা  হালাল জব করেন। উনি যদি আমার বাবার কাছে টাকা পয়সা না চাইতেন,না নিতেন,আমার বাবার টাকা পয়সার উপর লোভ না থাকতো তাহলে সমস্যা হতো না।
by (21 points)
উস্তাদ আমার বাবার চাকরির টাকা হালাল কিন্তু ব্যাংক থেকে দেওয়া সুদ, বন্দকি জমির ফসল বিক্রির টাকা সব মিশ্রিত হওয়ার আমি বুঝতে পারছি না কোন টাকা গুলো হারাম কোন গুলো হালাল। ইতিমধ্যে আমার স্বামী আমার বাবার থেকে হাদীয়া হিসেবে টাকা,জিনিস পত্র নিয়েছে সেগুলো কোন টাকা থেকে দেওয়া হয়েছে তাও জানি না। সামনে আমার বাবা যদি আমাকে হাদীয়া হিসেবে টাকা দিতে চায় সেটাও কোন টাকা দিবে জানি না। এখন আমি হারাম থেকে কিভাবে দূরে থাকতে পারি এসবের মাঝে?
by (769,290 points)
আপনার স্বামী যে টাকা যার থেকে নিক না কেন, আপনি সেই টাকা হতে প্রয়োজনীয় ভরণপোষণ গ্রহণ করতে পারবেন, এতে সমস্যা নেই।

আপনি আপনার বাবা হতে কোন হাদিয়া নিলে সেক্ষেত্রে আপনার বাবার অধিকাংশ ইনকাম হালাল হলে সেই টাকা আপনি ব্যবহার করতে পারবেন।

আপনার বাবার অধিকাংশ ইনকাম হারাম হলে সেক্ষেত্রে সেই টাকা আপনি গরীব মিসকিন কে সদকাহ করে দিবেন।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...