আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
56 views
in যাকাত ও সদকাহ (Zakat and Charity) by (7 points)
আসসালামু আলাইকুম।
আমি কিছুদিন আগে যাকাত সম্পর্কিত একটি  প্রশ্ন করেছিলাম, প্রশ্নটির সারমর্ম হল স্বর্ণের সাথে ব্যাংকের জামানতের টাকা থাকলে (যেটা তোলা যায় না) যাকাত আসবে কিনা। আমি উত্তর পেয়েছি যাকাত আসবে, এবং কমেন্ট বক্সে আরেকটি প্রশ্ন করেছি কিন্তু সে প্রশ্নটির উত্তরটি না পাওয়ায় আবার এখানে প্রশ্ন করছি।
আমার ইসলামি ব্যাংকে স্টুডেন্ট একাউন্টে সম্ভবত ১০০ টাকা জামানত সহ ১২৬ টাকার মতো আছে, এইটা তুলা যাচ্ছে না। এইদিকে আমার পৌনে সাত ভরি স্বর্ণ আছে, জিলক্বদের ২১ তারিখ আমার নিসাব বর্ষ পূর্ণ হবে। এই ১০০ টাকার জন্য আমার যাকাত আসে প্রায় ৩৭ হাজার টাকা। আমি হাউজ ওয়াইফ, আমার যাকাত আমাকেই আদায় করতে হবে, যা আমার জন্য কষ্টসাধ্য। এখন ব্যাংকের এই জামানতের টাকার মালিকানা পরিবর্তন করলে যাকাত আসবে কিনা? আমি যদি ওই ১২৬ টাকার মালিক আমার হাজব্যান্ডকে করে দেই, এইটা কি জায়েজ হবে? কারণ আমার কাছে জমা আর কোনো টাকা নেই শুধু এই ১২৬ টাকার জন্য যাকাত আসবে।

1 Answer

0 votes
by (770,160 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী স্বর্ণের ক্ষেত্রে যাকাতের নিসাব হল বিশ মিসকাল। -সুনানে আবু দাউদ ১/২২১; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক  হাদীস ৭০৭৭, ৭০৮২
আধুনিক হিসাবে সাড়ে সাত ভরি।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى قَالَا حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُوسَى أَنْبَأَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْمَعِيلَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ وَاقِدٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ وَعَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْخُذُ مِنْ كُلِّ عِشْرِينَ دِينَارًا فَصَاعِدًا نِصْفَ دِينَارٍ وَمِنْ الْأَرْبَعِينَ دِينَارًا دِينَارًا

ইবনু ‘উমার ও ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)  থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি বিশ দিনার বা তার চেয়ে কিছু বেশি হলে অর্ধ দিনার এবং চল্লিশ দিনারে এক দিনার (যাকাত) গ্রহণ করতেন।

ইবনে মাজাহ ১৭৯১ ইরওয়াহ ৮১৩।
দারাকুতনী ১৮৭৯, ১৮৯২।

সাড়ে ৫২ ভরি রুপা হলে তার উপর যাকাত ফরজ। 
হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 
عن أبي سعيد الْخُدْرِي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «ليس فيما دون خمس أَوَاقٍ صدقة، ولا فيما دون خمس ذَوْدٍ صدقة، ولا فيما دُونَ خمسة أَوْسُقٍ صدقة».  
[صحيح] - [متفق عليه]

আবূ সা‘ঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “পাঁচ উকিয়ার কম রৌপ্যমুদ্রায় যাকাত নেই এবং পাঁচটি উটের কমের ওপর যাকাত নেই। পাঁচ ওয়াসাক এর কম শষ্যের ওপর যাকাত নেই।”
(বুখারী,মুসলিম)

শরীয়তের বিধান হলো যদি কাহারো কাছে সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা কিংবা বাণিজ্য-দ্রব্য- এগুলোর কোনোটি পৃথকভাবে পূর্ণ  নিসাব পরিমাণ না থাকে, কিন্তু এসবের একাধিক সামগ্রী এ পরিমাণ রয়েছে, যা একত্র করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয় তাহলে এক্ষেত্রে সকল সম্পদ হিসাব করে যাকাত দিতে হবে।
(মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৬৬,৭০৮১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৩৯৩)

আরো জানুনঃ  

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
https://www.ifatwa.info/142436/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
আপনার ব্যাংকের জামানতের সেই ১২৬ টাকা যেহেতু একাউন্ট ক্লোজ করলে আপনি পেয়ে যাবেন,তাই ঐ টাকা এবং স্বর্ণ মিলে যেহেতু ৫২.৫ ভড়ি রূপার সমপরিমাণ হয়ে যায়, তাই আপনার উপর যাকাত ফরয হবে। হ্যা, এখন আদায় করা ফরয না হলেও আদায় করে দেয়া উচিত। যখন ব্যাংক একাউন্ট ক্লোজ করবেন, তখন আদায় করলেও হবে। 

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-https://www.ifatwa.info/1483

এক্ষেত্রে সেই টাকা যদি আপনার একাউন্ট হতে ট্রান্সফার করে আপনার স্বামীর একাউন্টে পাঠাতে পারেন এবং পুরোপুরিভাবে এটার মালিকানা স্বামীকে বানিয়ে দিতে পারেন, সেক্ষেত্রে যাকাত আসবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (7 points)
শায়েখ, জামানতের টাকা তো ট্রান্সফার ও করা যায় না, ওই টাকাটা আমার একাউন্টেই থাকলো, কিন্তু আমি ওনাকে মালিকানা দিয়ে দিলাম এবং উনি সেটার মালিক সেই নিয়ত করলাম, কখনো টাকাটা তুললে বা একাউন্ট ক্লোজ করলে যখন তোলা যাবে তখন টাকাটা উঠিয়ে ওনাকে দিয়ে দিলাম। এমন করা যাবে? জামানতের ১০০ টাকা তো ব্যাংক হোল্ড করে রাখে। 
by (770,160 points)
এভাবে হবেনা।

একাউন্ট ক্লোজ করলে কোনো টাকা আপনি পেলে সেক্ষেত্রে আপনার উপর যাকাত ফরজ হবে। 

একাউন্ট ক্লোজ করলে আপনি যদি কোনো টাকা না পান,বরং সবই ব্যাংক কেটে নেয়, সেক্ষেত্রে আপনার উপর যাকাত ফরজ হবেনা। 

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...