আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
55 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (1 point)
আসসালামুয়ালাইকুম। অমুসলিম দেশে যদি দ্বীন পালন করা যায়, মুসলিম কমিউনিটির সাথে থাকলে ইসলাম পালন সহজ , এ ক্ষেত্রে থাকা জায়েজ জানি। এখন আমি যদি এখানে থাকি এই কারণে যে, এখানে বিভিন্ন নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সুবিধা ভালো দেশের থেকে,  তাহলে কি তা সঠিক? আর যদি দেশে ফেরার সুযোগ আছে হয়ত ফিরলে আর্থিকভাবে একটু কষ্ট ও এইসব সুবিধা পাবনা। এই চিন্তা করে দেশে না ফিরলে কি গূনাহগাঢ় হবো? বা আল্লাহর সন্তুষ্টির কথা ভেবে কি দেশে ফিরে যাওয়া ভালো হবে?

1 Answer

0 votes
by (769,290 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

কুফফার রাষ্ট্রে লেখাপড়া বা অন্য কোনো প্রয়োজনের জন্য যেতে হলে অবশ্যই দুটো প্রধান শর্ত মেনে চলতে হবে।

প্রথম শর্ত: বসবাসকারীকে স্বীয় দ্বীনের ব্যাপারে আশঙ্কামুক্ত হতে হবে। অর্থাৎ তার এমন ‘ইলম, ঈমান ও প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকতে হবে, যা তাকে দ্বীনের ওপর অটল থাকার মতো এবং বক্রতা ও বিপথগামিতা থেকে বেঁচে থাকার মতো আত্মবিশ্বাসের জোগান দেয়। আর কাফিরদের প্রতি তার অন্তরে শত্রুতা ও বিদ্বেষ থাকতে হবে। অনুরূপভাবে কাফিরদের সাথে মিত্রতা ও তাদের প্রতি ভালোবাসা থেকে তাকে দূরে থাকতে হবে। কেননা তাদের সাথে মিত্রতা স্থাপন করা এবং তাদেরকে ভালোবাসা ঈমানের পরিপন্থি।
সমস্ত প্রকার অন্যায় অশ্লীল কাজ থেকে দূরে থাকতে হবে।
মহান আল্লাহ বলেছেন,

 لَا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ 

“তুমি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী এমন কোনো জাতিকে পাবে না, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বিরোধীদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে; যদিও তারা তাদের পিতা, অথবা পুত্র, অথবা ভাই, কিংবা জ্ঞাতি-গোষ্ঠী হয়।” [সূরাহ মুজাদালাহ: ২২]

দ্বিতীয় শর্ত: নিজের দ্বীনকে প্রকাশ করার মতো সক্ষমতা থাকতে হবে। অর্থাৎ, বসবাসকারী ব্যক্তি কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই ইসলামের নিদর্শনাবলি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবেন। নামাজ, জুমু‘আহ ও জামা‘আত—যদি তার সাথে জামা‘আতে নামাজ ও জুমু‘আহ প্রতিষ্ঠা করার মতো কেউ থেকে থাকেন—প্রতিষ্ঠা করতে বাধাগ্রস্ত হবেন না। অনুরূপভাবে জাকাত, রোজা, হজ ও অন্যান্য শার‘ঈ নিদর্শন প্রতিষ্ঠা করতে বাধাগ্রস্ত হবেন না। যদি এসব কাজ করার সক্ষমতা না থাকে, তাহলে তখন হিজরত ওয়াজিব হয়ে যাওয়ার কারণে সেখানে বসবাস করা জায়েজ হবে না।

বিস্তারিত জানুনঃ  

মেয়েদের বিদেশে পড়াশুনা করার জন্য যাওয়া বেশ কিছু শর্ত সাপেক্ষ বৈধ।
ক, উপরে উল্লেখিত শর্তাবলী পূর্ণ ভাবে মেনে চলতে হবে।
খ, মাহরাম পুরুষ এর সাথে যেতে হবে। সেখানে গিয়েও মাহরামদের সাথে থাকতে হবে।
গ, সেখানকার এলাকা,রাস্তা সম্পূর্ণ নিরাপদ হতে হবে।
ঘ, পূর্ণ পর্দা মেইনটেইন করে চলতে হবে। 
ঙ, সহ শিক্ষা হলে সহ শিক্ষা মূলক প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করার শর্তাবলী পাওয়া যেতে হবে। 
চ, ফিতনার কোনো আশংকা থাকা যাবেনা।
ছ, গুনাহে জড়িয়ে পড়ার আশংকা থাকা যাবেনা।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,   
আপনি যেই দেশে আছেন,সেখানে নিজ দেশের তুলনায় বিভিন্ন নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সুবিধা ভালো,এই দিক লক্ষ্য করে আপনি যদি সেই দেশেই থেকে যেতে চান,সেক্ষেত্রে তাহা জায়েজ হবে।

তবে শর্ত হল উপরোক্ত শর্তাবলী পূর্ণভাবে মেনে চলতে হবে। অন্যথায় সেখানে থাকা জায়েজ হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...