জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم
(০১)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ وَجَدَ سَعَةً فَلَمْ يُضَحِّ فَلَا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে কুরবানী করে না, সে যেন অবশ্যই আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়। (মুসনাদ আহমাদ ৮২৭৩, ইবনে মাজাহ ৩১২৩, হাকেম ৭৫৬৫-৭৫৬৬)
শরীয়তের বিধান হলো,প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যে ১০ যিলহজ্ব ফজর থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা, অলঙ্কার, বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজন আসে না এমন জমি, প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কুরবানীর নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।
আর নিসাব হল স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি, রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি, টাকা-পয়সা ও অন্যান্য বস্ত্তর ক্ষেত্রে নিসাব হল এর মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া।
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নের বিবরন মতে আপনার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে।
এক্ষেত্রে কোরবানির দেওয়ার মতো নগদ ক্যাশ না থাকলে কাহারো থেকে ঋণ নিয়ে অথবা কোন কিছু বিক্রয় করে কুরবানী দিতে হবে।
(০২)
স্বর্ণের বছর পূর্ণ হওয়া তো মূল কথা নয়।
মূল কথা হল নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার পর বছর পূর্ণ হয়েছে কিনা! সেটি মূল বিষয়।
আপনি যেদিন নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছিলেন, তার পরবর্তী বছর সেই দিনে আপনাকে যাকাত দিতে হবে।
সেই দিন আপনার মালিকানায় থাকা যত ব্যবহৃত ব্যবহৃত স্বর্ণ আছে সমস্ত স্বর্ণের বর্তমান বিক্রয় মূল্য হিসাব করে আপনার মালিকানায় থাকা দৈনন্দিন প্রয়োজন অতিরিক্ত টাকার সাথে যোগ করে তার ৪০ ভাগের একভাগ যাকাত প্রদান করবেন।
উল্লেখ্য আরবি মাস অনুযায়ী হিসাব করবেন,ইংরেজি মাস নয়।