আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
15 views
ago in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (32 points)
আমার কয়েকমাস যাবত প্রচুর সাদা স্রাবের সমস্যা। ডক্টর দেখিয়ে ওষুধ খাচ্ছি। এখন সব সময় সাদা স্রাব না গেলেও যখনই আমি অজু করে সালাতে দাঁড়াই, সালাত চলমান অবস্থায় প্রতি ওয়াক্তেই আমার প্রচুর সাদা স্রাব নির্গত হয়। এতে আমি পুনরায় অজু করে আবার সালাত আদায় করি। প্রতি ওয়াক্তেই আমার এই সমস্যা হচ্ছে। আমি বুঝতে পারি, সালাতে আমার ফিজিক্যাল মুভমেন্টের কারণেই  সালাতে দাঁড়ানোর পর আমার অতিরিক্ত সাদা স্রাব নির্গত হচ্ছে।
তাছাড়া মাঝেমধ্যে এমনও হয় আমি সারাদিন কাজ করলেও সাদাস্রাব নির্গত হয় না কিন্তু ওযু করার পর সালাতে দাঁড়ালেই সাদাস্রাব নির্গত হচ্ছে। আমি বারবার অজু করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি। আমি সালাতে দাঁড়ালে অজু রাখতেই পারছি না।
এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমাকে কি বারবারই অজু করে সালাত আদায় করতে হবে? নাকি আমি মাজুর হিসেবে গণ্য হবো?

1 Answer

0 votes
ago by (812,460 points)

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
শরীয়তে ইসলামি সহজতার উপর নির্ভরশীল। শরীয়ত চায় না মানুষ কষ্টে নিপতিত হোক।আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ
আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না(সূরা বাক্বারা-১৮৫)

রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,
(إِنَّ الدِّينَ يُسْرٌ)
নিশ্চয় দ্বীনে ইসলাম সহজ।(সহীহ বুখারী-৩৯)

আপনার প্রশ্ন থেকে আমরা যা বুঝেছি,আপনার এ বিষয়টা হয়তো মনস্তাত্ত্বিক। এটা শয়তানের পক্ষ্য থেকে ওয়াসওয়াসা।যাতে করে শয়তান আপনাকে কষ্টে নিপতিত করে।এবং শেষ পর্যন্ত ইবাদতকে আপনার নিকট অসহনীয় ও কষ্টকর করে তুলতে পারে।সুতরাং এমন পর্যায়ের কাউকে আবার ওজু করার নির্দেশ দেয়া হবে না।এবং খুজতে আদেশ করা হবে না যে,কিছু বের হল কি না? বরং তার উপর দায়িত্ব হল সে প্রথমে ইস্তেঞ্জা করবে,তারপর লজ্জাস্থানে পানি ছিটিয়ে দিবে।যাতেকরে তার সামনে ওয়াসওয়াসার দরজা সমূলে ধংশ হয়ে যায়।অতঃপর সে অজু করবে এবং নামায পড়বে।সে শয়তানের প্ররোচনার দিকে ভ্রুক্ষেপ করবে না যে,কিছু বের হয়েছে কি না।

কিন্তু যদি কারো ঈয়াকিন বা পূর্ণ বিশ্বাস হয় যে,কিছু বের হয়েছে,তাহলে এমতাবস্থায় সে আবার অজু করতে হবে।সেজন্য আপনি রোমাল বা টিস্যু ইত্যাদি লজ্জাস্থানে রেখে তারপর পবিত্র হওযার চেষ্টা করবেন।
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/4271

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনি সন্দেহকে কোনো পাত্তাই দিবেন না। পাত্তা না দিয়ে নামায পড়বেন। দেখবেন ধীরে ধীরে সন্দেহপ্রবনতা চলে গেছে। নামাযের পূর্বে প্যাড খুলে ফেলে দিয়ে অজু করে নামায পড়বেন। যদি নামায পড়া সম্ভব না হয়, তাহলে মা'যুর কি না? সেটা যাচাই-বাছাই করে দেখবেন। মা'যুরের বিধান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1746

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
মা'যুর কি না তা পরীক্ষা করার পর যদি দেখা যায় যে, আপনি মা'যুর। তাহলে প্রতি ওয়াক্তের জন্য একটি অজুই যথেষ্ট হিসেবে বিবেচিত হবে। নতুবা বারংবার অজু করে নামায আদায় করতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...