0 votes
58 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (10 points)
closed by
ক) একবার খাজা উসমান হারুনী রহ. তার শাগরেদ খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী রহ. কে বললেন, যে আমার পিছনে নামায পড়বে সে জান্নাতী, আর যে এই খবর অন্যকে পৌঁছে দিবে সে জাহান্নামী। (এই ঘটনা আইওএম এর শীট এ আছে, দাওয়াহ কোর্সের দরস নং 5 এ)। এরপর তা মঈনুদ্দিন চিশতী রহ. কে বললেন।  তো মঈনুদ্দিন চিশতী রহ. এই কথা সবাইকে বলে দিলেন। পরে তিনি এইটা উসমান হারুনী রহ. কে বললে হারুনী রহ. তাকে দোয়া করে দিলেন, যাতে তিনি অনেক বড় দায়ী হন।
এভাবে তিনি চিশতি রহ. কে পরিক্ষা করার জন্য মিথ্যা বললেন। এইটাই শীটে লিখা যে তিনি পরীক্ষা করার জন্য মিথ্যা বলতে পারেন হয়তো।
আমার প্রশ্ন হলো, এভাবে আর কোন কোন ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা জায়েয?

খ) কোরবানীর সময় হুজুররা কাগজে লেখা নামগুলো পড়ে তারপর কোরবানী করে। আমার প্রশ্ন হলো, আল্লাহ তো জানেন কে কে কোরবানি দিচ্ছে, তো নাম এভাবে পড়ার দরকার কি? আল্লাহ তো সবই জানেন।

গ) গাড়িতে সফরে মুখ ভরে বমি করলে রোযা ভাঙবে না কেন? এরকম আর কোন কোন সময় বমি করলেও রোযা ভাঙবে না? (পটিয়া মাদ্রাসার এক আলেম এটা বলেছে) ইখতিলাফ আছে কি?

ঘ) নামাযের মাঝে সামনে রাখা বই বা অন্যকিছু চোখ দিয়ে পড়লেও কি নামায ভাঙবে? তাহলে তো অনেকেরই নামায হয় না। যেমন সামনে মিম্বারে বা অন্য কোথাও বই তো রাখাই থাকে, আর সেসবের নামও চোখে পড়ে। (এইটাও একজন আলেম বলেছেন যে নামায ভাঙে) ইখতিলাফ আছে কি?

ঙ) দুই সাহাবীর কবরে আযাব হচ্ছিলো, নবিজি দোয়া করে দেওয়াতে আযাব থামলো। তিনি বললেন, একজন পেশাব থেকে পাক হতো না, আরেকজন চোগলখুরী করতো।
সাহাবাদের তো দুনিয়াতেই মাফ করে দেওয়া হয়েছিলো। তাহলে কবরে কিভাবে আযাব হচ্ছিলো?

চ) ইফতারের সময় মাগরিবের আযানের জবাব ও আযান পরবর্তী দোয়া কি পড়তে হবে? আমি শুনেছিলাম এইটা নাকি করা মাকরুহ কারণ তাড়াতাড়ি ইফতার করতে হয়। হুজুরদেরকেও দেখি কেউ আযানের জবাব দেয় না, খেতেই থাকে।

ছ) আমাদের মসজিদের খতিব সাহেব বলেছেন, ইমাম মাহদীর সাথে ৩১৩ জন সাথী হবে মাত্র!! আসলেই কি এমন কোনো রেফারেন্স আছে?

জ) একজন ইউটিউবার বয়স্ক আলেম(সালাফি)  বললেন, দরুদ এ তুনাজ্জিনা তে শিরকী কথা আছে। আসলেই কি?

ঝ) শায়খ আহমাদুল্লাহ সহ অনেকেই বলেন, হাদিসের বাইরে কোন দরুদের ফযিলত নাই। আসলেই কি? অনেক দরুদ তো ওলী, পীরদের থেকে পাওয়া দেখা যায়।

ঞ) সালাফিরা আশ'আরী ও মাতুরিদি কে কেন ভ্রান্ত বলে?
closed

1 Answer

+1 vote
by (410,360 points)
selected by
 
Best answer

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
(ক)
সম্ভবত এই প্রশ্ন আপনি ইতিপূর্বেও করেছিলেন।
কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা শরীয়তের দলীল হতে পারে না।মিথ্যা বলা জায়েয হওয়া সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন- https://www.ifatwa.info/644

উক্ত ঘটনার বিবরণ বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া যায়, তবে উক্ত ঘটনার নিচকই একটি ঘটনা।এটাকে দলীল প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না।

(খ)
জ্বী, কুরবানির সময় এভাবে নাম লেখার কোনো প্রয়োজনিয়তা নাই।

(গ)
মুখভরে বমি করলে রোযা ভাঙ্গে ইটাইতো আমরা জানি।সফরের হালতের ভিন্ন বিধান সম্পর্কে আমাদের জানা নেই।

(ঘ)
https://www.ifatwa.info/2208 নং ফাতাওয়ায় বলেছি যে,
ইবনে আবেদীন শামী রাহ লিখেন,
بقي في المكروهات أشياء أخر ذكرها في المنية ونور الإيضاح وغيرهما: منها الصلاةبحضرة ما يشغل البال ويخل بالخشوع كزينة ولهو ولعب، ولذلك كرهت بحضرة طعام تميل إليه نفسه
নামাযের মাকরুহ সমূহের মধ্যে আরো মাকরুহ হলো,এমন কিছুর উপস্থিতিতে নামায পড়া যা নামাযীর মনযোগ কে নষ্ট করে।এবং খুশু খোজুর মধ্যে বিঘ্নতা সৃষ্টি করে দেয়।যেমন নামাযের স্থানকে বেশ সুন্দর্য মন্ডিত করে তোলা বা সেখানে খেলাধুলার জিনিষ রাখা।এজন্যই খানা সামনে রেখে নামায পড়া মাকরুহ।কেননা তখন খানার দিকেই মন চলে যায়।(রদ্দুল মুহতার-১/৬৫৪)

নামাযি ব্যক্তির সামনে কিছু লিখা থাকলে,সেটা যদি নামাযি ব্যক্তি পড়ে নেয়, তাহলে এটা মাকরুহ হবে।তবে নামায ফাসিদ হবে না।


(ঙ)

এটা হাদীসে তাখয়ীলি। তাখয়ীলির মতলব হল, এটা বাস্তব কোনো ঘটনা ছিলনা, বরং জিবরাইল আঃ নবী সাঃ এর কাছে এসে বর্ণনা করেছেন।তাই তিনিও বর্ণনা করেছেন।


অথবা সাহাবাদেরকে যে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে, এটা ঐ কবরের ঘটনার পরে করা হয়েছে।


(চ)

ইফতারের সময় আযানের জবাব দেয়া মাকরুহ হিসেবে কোথাও বর্ণিত নেই।বরং সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী জবাব দিতেই হবে। ইফতার তারাতারি এর অর্থ এ নয় যে, আযানের সাথে সাথেই ইফতার করতে হবে।বরং ইফতার করতে যে ইশা বা ইশার পরবর্তী ওয়াক্ত কিংবা মধ্যরাত পর্যন্ত দেড়ী না করা।


(ছ) নির্ভর্যোগ্য কোনো সূত্রে বর্ণিত হয়নি।


(জ)

কেউ কেউ শিরকের কথা বলেন, তবে যে কারণে তারা শিরক বলেন, অর্থাৎ আরবি গ্রামারিক কারণে, সেটাকে কেউ কেউ অস্বীকার করে ভিন্ন তাবীল করে থাকেন।


(ঝ)

জ্বী, হাদীসের বাহিরে কোনো দরুদের নির্ধারিত ফযিলত নেই।তবে ভালো ও উত্তম কথা হিসেবে সেই সব দুরুদকে নিন্দনীয় ভাবা যাবে না।


(ঞ)

তারা কেন বলেন, তারাইতো ভালো জানেন।সকল দলই নিজেকে হক মনে করে থাকে। 



(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...