আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
369 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (6 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি।
একজন মুসলিম নারী, বিগত পাচ বছর আগে একজনের সাথে  অতি  স্বল্প সময়ের মধ্যে পরিবারের সম্মতিতে বিবাহ সম্পন্ন হয়। কিছু দিন পর তার নিকটাত্মীয় কাছ থেকে সে-ই মেয়েটি জানতে পারে যে ছেলেটির পূর্বে স্ত্রী ও সন্তান  ছিল।তাদের সাথে  ভাল ব্যবহার করত না।সেই নিকটাত্মীয় মেয়েটিকে তার শ্বশুর বাড়ি যেতে বারণ করে  এই বলে যে, ওরা ভালনা।এমতাবস্থায় মেয়েটির সামনে যখন ছেলের চরিত্রের একটা দিক পরিস্কার হয়,তখন সে তার পূব পরিচিত এক ছেলের সাথে যোগাযোগ করে তার বাসায় চলে যায়। সেখানে গিয়ে কাজী অফিস থেকে রেজিস্ট্রার টার এর মাধ্যমে তাকে তালাক নোটিশ পাঠায় পোস্ট অফিসের মাধ্যমে।পরে তার ঐ স্বামীকে অবগত করা হয় যে তাকে তালাক নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তারপর মেয়েটি ওই বাসায় ছেলেটির সাথে নতুন করে বিয়ে করে কাজী ও মসজিদের ইমামের সাহায্যে।আগে তারা হিদায়তের পথে ছিল না।কিন্তু এখন তারা তওবা করে আল্লাহর হুকুম পালনে সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা করে। এখন বিয়ের দুবছরপরতারা জানতে পারে অলি ছাড়া বিয়ে বাতিল।তখন তারা মেয়ের অলির সম্মতিতে আবার নতুন করে দুজন স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়ে করে। আজ পাচ বছর পর তারা আরও জানতে পারে যে, তালাকের অধিকার শুধু স্বামীর। তাই তারা এখন বিপদগ্রস্ত, হতাশাগ্রস্ত। তাদের ১ টি মেয়ে সন্তানও আছে।  পূর্বের স্বামীর যোগাযোগ করে জানা যায়, সেও নতুন বিয়ে করে সংসার করছে।পুরনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে চায় না।এখন তারা চিন্তিত যে মেয়েটির তালাকটা কি শুদ্ধ হয়েছে কিনা আর না হলে ত সব বিয়ে বাতিল।

তাই প্রশ্ন হচ্ছে তালাকটা কি শুদ্ধ হয়েছে কিনা আর না হলে করনীয় কি???

ঐ মেয়ের কাবিননামার ১৮ কলামে লেখা ছিল" তালাকের অধিকার মেয়েকে দেওয়া কিনা??  দিলে কি শর্তে??

 ""মুসলিম পারিবারিক আইন ক্ষমতা বলে "

1 Answer

0 votes
by (92,400 points)
edited by

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ

https://ifatwa.info/55291/ নং ফাতাওয়াতে আমরা বলেছি যে,

তালাক দেওয়ার অধিকার শুধু স্বামীর। হাদীস শরীফে এসেছে-

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ سَيِّدِي زَوَّجَنِي أَمَتَهُ وَهُوَ يُرِيدُ أَنْ يُفَرِّقَ بَيْنِي وَبَيْنَهَا قَالَ فَصَعِدَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمِنْبَرَ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَا بَالُ أَحَدِكُمْ يُزَوِّجُ عَبْدَهُ أَمَتَهُ ثُمَّ يُرِيدُ أَنْ يُفَرِّقَ بَيْنَهُمَا إِنَّمَا الطَّلَاقُ لِمَنْ أَخَذَ بِالسَّاقِ

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকটে এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমার মনিব তাঁর বাদীকে আমার সাথে বিবাহ দিয়েছে। এখন সে আমার আর আমার স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে চায়। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বারে আরোহণ করলেন, অতঃপর বললেন, হে লোকসকল! তোমাদের কারো এরূপ আচরণ কেন করো যে, সে তার গোলামের সাথে তার বাদীর বিবাহ দেয়, অতঃপর তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে চায়? নারীর ঊরু স্পর্শ করা যার জন্য বৈধ, তালাকের অধিকার তার। [সুনানে ইবনে মাজাহ ২০৮১]

 

হাদীস শরীফে এসেছে-

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ثَلاَثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ النِّكَاحُ وَالطَّلاَقُ وَالرَّجْعَةُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিনটি বিষয় এমন যেগুলির যথার্থ তো যথার্থই এমনকি সেগুলোর কৌতুকের ব্যবহারও যথার্থ: বিবাহ, তালাক, রাজআত। - ইবনু মাজাহ ২০৩৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১৮৫ ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব।

 

★শরীয়তের বিধান অনুযায়ী  মহিলা নিজের উপর কেবল তখনি তালাক পতিত করতে পারবে, যদি স্বামী তাকে তালাক দেবার অধিকার দিয়ে থাকে। এটি নিকাহ নামার ১৮ নং ধারাতে হ্যাঁ লেখার মাধ্যমেই হোক, বা পরবর্তীতে মৌখিক বা লিখিত ভাবেই হোক।

সুতরাং স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা প্রদান করে,আর স্ত্রী স্বামী কর্তৃক তালাকে তাভবিজের ক্ষমতাবলে লিখিত বা মৌখিকভাবে নিজের নফসের উপর তালাক দিয়ে দিলে সেটি পতিত হয়ে যাবে।

 

আরো জানুনঃ

https://ifatwa.info/12329/

 

★ সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী বোন!

 

১. তালাক দেওয়ার অধিকার শুধু স্বামীর। তবে যদি স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অধিকার দিয়ে দেয় তাহলে সে ক্ষেত্রে স্ত্রী সে তার নিজের নফসের উপর তালাক দিতে পারবে। এভাবে বললে (আমি আমার নিজের উপর তালাক দিলাম) তালাক হবে। অন্যথায় স্ত্রী যদি স্বামীকে বলে যে, ‘আমি তোমাকে তালাক দিলাম’। তাহলে এতে কোনো তালাক পতিত হয় না।

 

২. প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তালাক হয়েছে কি না জানতে হলে বিবাহের কাবিননামা, ডিভোর্সড পেপার দেখার প্রয়োজন। কারণ, আপনি কোন ক্ষমতা বলে তালাক দিয়েছেন? আদৌ আপনাকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিলো কি না? ক্ষমতা দেওয়া হয়ে থাকলে কয় তালাকের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিলো? ডিভোর্সড পেপারে কি শব্দে তালাক লেখা ছিলো? ইত্যাদি বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকায় বিস্তারিত উত্তর দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিয়ের কাবিননামা, তালাকনামা নিয়ে নিকটস্ত কোনো নির্ভরযোগ্য ইফতা বিভাগে সরাসরি যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...