আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির মূলত রুকইয়ার চিকিৎসা প্রয়োজন। রুকইয়া ট্রেনিংয়ের জন্য— এখানে ক্লিক করুন

0 votes
44 views
in সালাত(Prayer) by (18 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ।
আমার বড় বোন বিবাহিত। তার একটা ২০ মাস বয়সী বাচ্চা আছে। বাসায় এসেছে কিছুদিন থাকার জন্য। সে অনেক সময় ফজরে উঠতে পারে না। আম্মুর এটাতে কষ্ট হয়। আম্মু বারবার তাকে ডাকতে থাকে। এতে আমার বোন বিরক্ত হয় কখনো। বিরক্ত হলেও যদি ওঠে,তাহলে নামায পড়ে।
১. আমার মা কতবার তাকে ডাকতে পারবে? না ওঠা পর্যন্ত ডাকা কি ঠিক হবে যেহেতু বিরক্ত হয়?

২. বিরক্ত হয় জন্য আমি তাকে ডাকি না। এতে কি আমার গুনাহ হবে?
৩. ইসলামের অনেক বিষয় আমি আমার বোনকে বলার চেষ্টা করি। কিন্তু সে অনেক সময় বিরক্ত হয়। এজন্য আমি তাকে বলতে আগ্রহ পাই না। বলাও এখন বন্ধ করে দিছি প্রায়। সে জেনেও অনেক কিছু মানে না। এক্ষেত্রে আমি যদি আমার পাপ হচ্ছে?

৪. কোনো কিছু হারিয়ে গেলে ফিরে পাওয়ার কোনো আমল আছে কি?

৫. আমি আমার রুমে কোনো প্রাণীর ছবি রাখি না। বাড়িতেও না রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। কিন্তু আমার বোনের বাচ্চার ডায়পারে প্রাণীর ছবি আছে। এখন এটাতেও কি  রহমতের ফেরেশতা আসবে না?

1 Answer

0 votes
by (787,440 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
দাওয়াত ও তাবলীগ সকল যুগেই ছিল।উম্মতে মুহাম্মাদি এবং পূর্ববর্তী উম্মতের মধ্যেও দাওয়াত ও তাবলীগের দায়িত্ব ছিল।পূর্ববর্তী যুগে দাওয়াত ও তাবলীগ ফরয ছিল,এর একটি প্রমাণ- নিম্নোক্ত আয়াতের ব্যখ্যায় মুফতী শফী রাহ তাফসীরে মা'রিফুল কুরআনে উল্লেখ করেন,
وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ الَّذِينَ اعْتَدَواْ مِنكُمْ فِي السَّبْتِ فَقُلْنَا لَهُمْ كُونُواْ قِرَدَةً خَاسِئِينَ
তোমরা তাদেরকে ভালরূপে জেনেছ, যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘণ করেছিল। আমি বলেছিলামঃ তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।
فَجَعَلْنَاهَا نَكَالاً لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهَا وَمَا خَلْفَهَا وَمَوْعِظَةً لِّلْمُتَّقِينَ
অতঃপর আমি এ ঘটনাকে তাদের সমসাময়িক ও পরবর্তীদের জন্য দৃষ্টান্ত এবং আল্লাহভীরুদের জন্য উপদেশ গ্রহণের উপাদান করে দিয়েছি।(সূরা বাকারা-৬৫)

বনি ইসরাঈলের মধ্যে শনিবারের মাছ শিকার নিয়ে কয়েকটা গ্রুপ ছিল,একটা গ্রুপ ছিল,যারা মাছ শিকার করেছে,একটা গ্রুপ ছিল,মাছ শিকার করেনি তবে তারা বাধা দানও করেনি।আরেকটা গ্রুপ ছিল,যারা দুয়েকবার বাধা দান করে শেষ পর্যন্ত আর বাধা দান করেনি।আরেকটা গ্রুপ ছিল,যারা শেষ পর্যন্ত বাধা দান করেছে।প্রথমোক্ত তিন গ্রুপকেই আল্লাহ বানর এবং শুকুর বানিয়েছিলেন।আর চতুর্থ গ্রুপকে আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছিলেন।যেহেতু তারা সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ প্রদানের উপর অটল ছিলো।

উক্ত ঘটনা থেকে বুঝা যায় যে,পূর্ববর্তী যুগেও সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ প্রদান ফরয ছিলো। তবে পূর্ববর্তী যুগে যেহেতু ধারাবাহিক নবী আসতেন,তাই সেই ফরয স্থায়ী ছিল না।বরং নবী আগমনের পূর্বে অস্থায়ী ছিল।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/4711

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) না ওঠা পর্যন্ত ডাকা যাবে। 
(২)বিরক্ত হয় জন্য আপনি তাকে ডাকেন না। এতেকরে আপনার কোনো গোনাহ হবে না।
(৩) এক্ষেত্রেও আপনার পাপ হবে না।
(৪) কোনো কিছু হারিয়ে গেলে ফিরে পাওয়ার জন্য ইন্নালিল্লাহ বেশী করে করবেন।
(৫) বাচ্চার ডায়পারে প্রাণীর ছবি  রহমতের ফেরেশতার জন্য প্রতিবন্ধক হবে নাম। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...