আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
54 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (10 points)
আসসালামু আলাইকুম ওস্তাদ, আমি পাক-নাপাক নিয়ে কনফিউশনে আছি, মেহেরবানী করে প্রতিটা প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিবেন।
জাযাকাল্লাহু খয়রন।
(১)৭-৮টা নাপাক কাপড় যদি আমি আগে ডিটারজেন্ট পাউডার দিয়ে ভালো করে কেচে নিই,তারপর একটা বালতি নিয়ে সেখানে যদি ট্যাবের পানি হালকা করে ছেড়ে রাখি আর ট্যাবের পানি ক্রমাগত বালতিতে পড়তে থাকে(ট্যাব অফ না করি),এমন অবস্থায় একটি করে কাপড় বালতিতে দিয়ে ধুয়ে নিংড়ে ফেলি,এরপর আবার ২য় কাপড় বালতিতে দিয়ে ধুই,এভাবে সিরিয়ালি ৮-১০টা কাপড় আগে-পরে সেই পানিতে একবার করে ধুয়ে তুলে নিঙড়িয়ে ফেলি তাহলে কি কাপড় পাক হয়ে যাবে নাকি তিন বারই পানি পরিবর্তন করে ধোঁয়া লাগবে?
আর কাপড় নিংড়ানোর পানিগুলা সেই বালতিতে পরলে সমস্যা আছে?

(২)ফিকহি প্রশ্নের উত্তরে উস্তাজা বলেছিলেন একসাথে ৫-৬ টা নাপাক কাপড় থাকলে ঐগুলা সব একসাথে বালতির পানিতে রেখে ধুয়ে আবার একসাথে তুলে ফেলা।এভাবে ৩বার পানি পরিবর্তন করে ধোঁয়া। কিন্তু এটা তো সম্ভব না।একসাথে কীভাবে এতোগুলা কাপড় বালতি থেকে একবারে নিংড়িয়ে তুলব?একটা কাপড় আগে,একটা কাপড় পরে এভাবে তুললে বা বালতিতে রাখার ক্ষেত্রে একটা একটা করে কাপড় রাখলে কি কোনো সমস্যা?

(৩)সবসময় ফ্লোরা টিকটিকির মল থাকে,বেশিরভাগ নরম ভিজা মল থাকে,সেক্ষেত্রে আগে টিস্যু দিয়ে মল ভালো করে পরিষ্কার করে,এরপর কয়েক ফোটা পানি দিয়ে একটা কাপড় দিয়ে একবার মুছলেই যথেষ্ট না?যেই কাপড় দিয়ে মুছব সেটা কি নাপাক হয়ে যাবে?

(৪)বাবু ফ্লোরে প্রস্রাব করে দিলে,এরপর প্রস্রাব মুছে,সেখানে প্রস্রাবের চেয়ে বেশি পরিমাণ পানি ঢেলে দিয়ে একবার কাপড় দিয়ে মুছে ফেলাই যথেষ্ট না?নাকি ৩ বারই এমন করতে হবে?

(৫)ছোট ১-২ ইঞ্চি পরিমান চিংড়ির যদি মাথা+পা না ফেলে পুরো চিংড়ি ধুয়ে রান্না করে ফেলে,সেটা খাওয়া জায়েজ?অনেক সময় চিংড়ির পা+মাথা ভেজে বড়া বানানো হয়,এক্ষেত্রে কোনো সমস্যা আছে?

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

হাদিস শরিফে এসেছে,আসমা রাযি. থেকে বর্ণিত,

 أَنَّ النَّبِيَّ  ﷺ قَالَ -فِي دَمِ الْحَيْضِ يُصِيبُ الثَّوْبَ-: «تَحُتُّهُ، ثُمَّ تَقْرُصُهُ بِالْمَاءِ، ثُمَّ تَنْضَحُهُ، ثُمَّ تُصَلِّي فِيهِ

হায়িযের রক্ত কাপড়ে লেগে যাওয়া প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘পানি দিয়ে ঘষা দিবে তারপর পানি দ্বারা ভালোভাবে ধৌত করবে। অতঃপর সলাত আদায় করবে।’ (বুখারী ২২৭,৩০৭)

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، حَدَّثَتْنَا أُمُّ يُونُسَ بِنْتُ شَدَّادٍ، قَالَتْ حَدَّثَتْنِي حَمَاتِي أُمُّ جَحْدَرٍ الْعَامِرِيَّةُ، أَنَّهَا سَأَلَتْ عَائِشَةَ عَنْ دَمِ الْحَيْضِ يُصِيبُ الثَّوْبَ فَقَالَتْ : كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلي الله عليه وسلم وَعَلَيْنَا شِعَارُنَا وَقَدْ أَلْقَيْنَا فَوْقَهُ كِسَاءً فَلَمَّا أَصْبَحَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ الْكِسَاءَ فَلَبِسَهُ ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الْغَدَاةَ ثُمَّ جَلَسَ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ هَذِهِ لُمْعَةٌ مِنْ دَمٍ . فَقَبَضَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى مَا يَلِيهَا فَبَعَثَ بِهَا إِلَىَّ مَصْرُورَةً فِي يَدِ الْغُلَامِ فَقَالَ " اغْسِلِي هَذِهِ وَأَجِفِّيهَا ثُمَّ أَرْسِلِي بِهَا إِلَىَّ " . فَدَعَوْتُ بِقَصْعَتِي فَغَسَلْتُهَا ثُمَّ أَجْفَفْتُهَا فَأَحَرْتُهَا إِلَيْهِ فَجَاءَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِنِصْفِ النَّهَارِ وَهِيَ عَلَيْهِ

উম্মু জাহদার আল-‘আমিরিয়্যাহ সূত্রে বর্ণিত। তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হায়িযের রক্ত কাপড়ে লেগে গেলে কি করতে হবে? ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, এক রাতে আমি (হায়িয অবস্থায়) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে রাত যাপন করলাম। আমাদের গায়ে নিজ নিজ কাপড় ছিল। সেটির উপর আমরা একটি চাদরও জড়িয়ে নিলাম। ভোর হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ চাদরখানি পরিধান করে ফজরের সলাত আদায়ে চলে গেলেন। তিনি সলাত আদায় করার পর বসলেন। তখন এক লোক বলল, হে আল্লাহর রসূল! এতে রক্তের দাগ দেখা যাচ্ছে! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাগ ও তার আশেপাশের অংশ হাতের মুঠোয় ধরে ঐ অবস্থায়ই এক গোলামের দ্বারা চাদরটি আমার কাছে পাঠিয়ে দিলেন এবং বললেনঃ এটা ধুয়ে ভাল করে চিপে নিয়ে আবার আমার নিকট পাঠিয়ে দাও। আমি এক পাত্র পানি নিয়ে তা ধুয়ে ভাল করে পানি নিংড়িয়ে (শুকিয়ে) তাঁর নিকট পাঠিয়ে দিলাম। দুপুরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ চাদরটি গায়ে দিয়ে (ঘরে) ফিরলেন।
(আবু দাউদ ৩৮৮)

শরীয়তের বিধান হলো কাপড়ে/ চাদরে নাপাকি লাগলে তিনবার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং প্রত্যেকবার ভালো করে চাপ দিয়ে নিংড়াতে হবে। ভালো করে নিংড়িয়ে ধোয়ার পরও যদি দুর্গন্ধ থেকে যায় কিংবা দাগ থাকে তাতে কোনো দোষ নেই। এতেই চাদর কিংবা কাপড় পবিত্র হয়ে যাবে।  (হাশিয়ায়ে তাহতাবী আলাল মারাকী, পৃষ্ঠা নং ১৬১, বেহেশতি জিওর ২/৭৭ )

কাপড়ে অদৃশ্যমান নাজাসত লাগলে, কাপড়কে তিনবার ধৌত করে তিনবারই নিংড়াতে হতে।এবং শেষ বার একটু শক্তভাবে নিংড়ানো হবে যাতে করে পরবর্তীতে আর কোনো পানি বাহির না হয়।(ফাতাওয়ায়ে হাক্কানিয়া;২/৫৭৪,জা'মেউল ফাতাওয়া;৫/১৬৭) 

আরো জানতে ভিজিট করুন- https://www.ifatwa.info/118

وغير المرئية بغسلهاثلاثا والعصر كل مرة
অদৃশ্যমান নাপাক বস্তু তিন বার ধৌত করতে হবে।এবং প্রত্যেকবার নিংড়াতে হবে।
(নুরুল ইযাহ ৫৬)

উল্লেখ্য, তিনবারের কথা বলা হয়, যাতে সন্দেহ না থাকে। অন্যথায় যদি প্রবাহমান পানি যেমন, নদী, পুকুরে বা টেপের পানিতে এত বেশি করে ধোয়া হয়, যাতে নাপাকি দূর হওয়ার ব্যাপারে প্রবল ধারণা হয়ে যায় তাহলে তা পাক হয়ে যায়। এক্ষেত্রে তিনবার নিংড়িয়ে ধোয়া জরুরি নয়। (রদ্দুল মুহতার ১/৩৩৩ আলবাহরুর রায়েক ১/২৩৭ শরহুল মুনইয়া ১৮৩) 
,
আরো জানুনঃ 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
প্রশ্নের বিবরণ মতে এক্ষেত্রে কাপড়গুলি পাক হবে না তবে যদি টেপে কাপড় ধোয়ার সময় ওই কাপড়ের যদি বালতিতে থাকা পানির সাথে স্পর্শ না হয় এবং ট্যাপের পানি এমন বেশি আকারে ছেড়ে ভালোভাবে কচলিয়ে কচলিয়ে ধোয়া হয় যে নাপাকি দূর হওয়ার ব্যাপারে আপনার প্রবল ধারণা হয়ে যায়, তাহলে কাপড় গুলি পাক হয়ে যাবে।

(০২)
একটা কাপড় আগে,একটা কাপড় পরে এভাবে তুললে বা বালতিতে রাখার ক্ষেত্রে একটা একটা করে কাপড় রাখলে সমস্যা নেই।

তবে সমস্ত কাপড় ৩ বার প্রত্যেকবার নতুন পানিতে অবশ্যই ধোয়া লাগবে।

(০৩)
এক্ষেত্রে ফ্লোরের উক্ত স্থান তিনবার ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দিতে হবে, প্রত্যেক বার সেই কাপড় পাক পানি দিয়ে ধৌত করতে হবে।

(০৪)
এক্ষেত্রে যদি এত বেশি পানি সেখানে প্রবাহিত করে দেওয়া হয়, যাতে নাপাকি চলে যাওয়া সম্পর্কে আপনি নিশ্চিত হয়ে যান, তাহলে সেই ফ্লোর পাক হবে।

(০৫)
জায়েজ আছে,সমস্যা নেই।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...