আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
84 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (7 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, আমি ছোট একটা ময়দার মিল চালিয়ে আলহামদুলিল্লাহ জীবিকা নির্বাহ করি। সেখানে মুলত গম থেকে মেশিনের মাধ্যমে ময়দা এবং ভুষি তৈরি করা হয়। সেই ময়দা বিস্কুট বানাতে বেকারি তে, এবং ভুষি পশু খাদ্য হিসেবে বিক্রি করি আলহামদুলিল্লাহ।

সমস্যা হচ্ছে, এই ধরনের মিল এ (পুরো ব্যবসায়িক এলাকা জুড়ে ই, কোথাও বেশি বা কম) প্রচুর পরিমাণে তেলাপোকা, ইঁদুর এবং অন্যান্য কিট পতঙ্গের উৎপাত। কয়েকশ' তেলাপোকা মারলে আরো হাজার খানেক, এবং ৫-১০ টা ইঁদুর মারলে আরো শত শত রয়ে ই যায়। যা প্রায় ই ময়দা এবং ভুষির সংস্পর্শে আসে। এমন নয় যে ময়দার বস্তার ভিতর অবাধ যাতায়াত, তবে কখনো তেলাপোকা মেশিনের ভেতরে আসে যায়, বস্তায় উঠে; কখনো বস্তার নিচে সামান্য ছিড়ে ইঁদুর মুখ দেয় (খায় কিনা জানি না, তবে অল্প করে ছেড়া পাই)।
আমি ১০০% পিউর কোনো মিক্সিং ছাড়া ময়দা, ভুষি তৈরি করি। কিন্তু উক্ত সমস্যা পরিপূর্ণ কোন সমাধান করতে পারছি না, কারণ সম্পুর্ন নির্মুল করা অনেক টাই অসম্ভব হয়ে পরেছে।

এই অবস্থায় আমার আয় রোজগার কি হালাল হবে? আমি কি করতে পারি?

1 Answer

+1 vote
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/79138/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ 

اَلَّذِیۡنَ یَتَّبِعُوۡنَ الرَّسُوۡلَ النَّبِیَّ الۡاُمِّیَّ الَّذِیۡ یَجِدُوۡنَہٗ مَکۡتُوۡبًا عِنۡدَہُمۡ فِی التَّوۡرٰىۃِ وَ الۡاِنۡجِیۡلِ ۫ یَاۡمُرُہُمۡ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَ یَنۡہٰہُمۡ عَنِ الۡمُنۡکَرِ وَ یُحِلُّ لَہُمُ الطَّیِّبٰتِ وَ یُحَرِّمُ عَلَیۡہِمُ الۡخَبٰٓئِثَ وَ یَضَعُ عَنۡہُمۡ اِصۡرَہُمۡ وَ الۡاَغۡلٰلَ الَّتِیۡ کَانَتۡ عَلَیۡہِمۡ ؕ فَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا بِہٖ وَ عَزَّرُوۡہُ وَ نَصَرُوۡہُ وَ اتَّبَعُوا النُّوۡرَ الَّذِیۡۤ اُنۡزِلَ مَعَہٗۤ ۙ اُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَ ﴿۱۵۷﴾ 

“(এরা তো তারাই) যারা সেই রাসূল ও নিরক্ষর নবীর অনুসরণ করে যার কথা তারা তাদের তাওরাত ও ইনজীলে লিখিত পাচ্ছে। তিনি তাদেরকে ভালকাজ করার আদেশ দেন ও মন্দকাজ করতে নিষেধ করেন, তাদের জন্য ভাল জিনিসকে বৈধ ও খারাপ জিনিসকে অবৈধ ঘোষণা করেন।”[সূরা আরাফ, আয়াত: ১৫৭]

সুতরাং পোকামাকড় খারাপ জিনিসের অন্তর্ভুক্ত; যেমন- কীট, গুবরে পোকা, তেলাপোকা, ইঁদুর, গিরগিটি, তক্ষক, টিকটিকি, গেছু ইঁদুর, বিচ্ছু, সাপ ইত্যাদি খারাপ জিনিস হিসেবে গণ্য।
এটি ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম শাফেয়ির অভিমত...”। 
(আল-মুগনী (১৩/৩১৬-৩১৭) 

প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন, 
অধিকাংশ ফুকাহায়ে কেরামদের মতে যেহেতু তেলাপোকার মধ্যে প্রবাহমান পরিমান রক্ত নেই,বা কোনো রক্তই নেই,তাই তেলাপোকার বিষ্ঠা নাপাক নয়। কাজেই শরীরে বা কাপড়ে বা অন্য কোথাও যদি তা লাগে তাহলে কোনো ক্ষতি নেই। 

হাদিস শরিফে এসেছে,

عَنْ إِبْرَاهِيمَ أَنَّهُ لَمْ يَرْ بَأْسًا بِالْعَقْرَبِ وَالْخُنْفِسَاءِ وَكُلِّ نَفْسٍ لَيْسَتْ بِسَائِلَةٍ

‘ইবরাহীম নাখয়ী (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বিচ্ছু, গোবরে পোকাসহ যে সকল প্রাণিতে কোনো প্রবহমান রক্ত নেই সেগুলো পানি পড়লে কোনো সমস্যা মনে করতেন না।’ [মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদিস: ৬৫২]
কিতাবুল আসল ১/৫৫,ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৩৩৪; আলবাহরুর রায়েক ১/৮৮; শরহুল মুনয়া পৃ. ১৬৪)

তবে কিছু ফুকাহায়ে কেরামদের মতে তেলাপোকার বিষ্ঠা নাপাক। সুতরাং সতর্কতা অবলম্বন করা ভালো হবে।

★ফুকাহায়ে কেরাম ইদুরের বিষ্ঠাকে নাপাক বলেছেন। তবে খাবারে তা পড়লে তা খাবার থেকে উঠিয়ে নিলেই যথেষ্ট হয়ে যাবে। কারণ, সার্বক্ষণিক ইদুর ঘরে থাকার কারণে এ থেকে বেঁচে থাকা কষ্টকর। আল্লামা শানকীতি (রহ.) বলেন,

‘ইদুরের বিষ্ঠা খাবারে পড়লে তা উঠিয়ে নিতে হবে। কারণ তা নাপাক।’ [লাওয়ামিয়ুদ দুরার ৫/৮৭]

সুতরাং ভাতে ইদুরের বিষ্ঠা পেলে তা উঠিয়ে ফেললেই পাক হয়ে যাবে। পুরো ভাত ফেলে দেওয়ার দরকার নেই।

(ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া ১/৪৬)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে ময়দার মধ্যে যদি তেলাপোকা বা ইঁদুরের বিষ্ঠা পাওয়া যায়,তাহলে সেই বিষ্ঠা ফেলে দিয়ে ময়দা বিক্রয় করা যাবে।

তবে যদি সতর্কতা অবলম্বনের পরেও কিছু বিষ্ঠা থেকেই যায় এবং সেগুলোকে ময়দা হতে আলাদা করা কষ্টসাধ্য হয়, তাহলে এতে কোন সমস্যা হবে না।

তবে সেই ময়দা দিয়ে যারা যারা বেকারীতে খাদ্য বানাবে,তাদের জন্য উচিত হলো ময়দাতে যদি তেলাপোকা বা ইদুরের মল তারা দেখতে পায়,সেক্ষেত্রে সেই মল যথাসম্ভব ফেলে দিবে। 
সর্বাবস্থায় আপনার আয় রোজগার হালাল,আলহামদুলিল্লাহ। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...