আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ উস্তায,
আমার বান্ধবীর তরফ থেকে প্রশ্ন:
আমাদের বিয়ের প্রায় এক বছর হয়েছে। এর মাঝে আলহামদুলিল্লাহ আমি ৬ মাসের গর্ভাবস্থায় আছি। আমি একমাস আগে বাবার বাড়িতে চলে আসি ডেলিভারিসহ সকল সুবিধার জন্য। আমার শশুর বাড়ির সবাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খুশি হয়ে। আমার শশুর বাড়ি এবং বাবার বাড়ির ব্যবধান ৮-১০ ঘন্টার বাস জার্নি। এ পরিস্থিতিতে আমার স্বামীর সাথে দূরত্ব হয়ে গেছে, কেননা এতদূর থেকে উনার আসা-যাওয়া সম্ভব হবে না। যেহেতু ডেলিভারির আরও দেরি, অর্থাৎ মে মাসে সম্ভাব্য তারিখ সুতরাং প্রায় জুন-জুলাই পর্যন্ত বাবার বাড়ি থাকবো। এতে করে স্বামীর সাথে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে। তিনি ব্যস্ত থাকায় এবং লং জার্নি হওয়ায় শুধু শুক্রবারের জন্যও আসতে পারবে না। রোজা ঈদের ছুটিতে আসবে শুধু। আমার বাবার বাড়িতে আসা তার অনুমতিতেই হয়েছে।
এখন মূল কথা হচ্ছে, আমার স্বামী প্রায়ই পরনারীর সাথে কথা বলে। আমি বাবার বাড়ি চলে আসাতে আরও দেখতে পাচ্ছি, রেগুলার না, কিন্তু বলে। দু'দিন আগে দেখলাম তিনি একটি ডেটিং এ্যাপ ইন্সটল করেছেন, এসব এ্যাপ মূলত ফাহিশা কথা, ফ্লার্টিং, বাজে ছবি আদান-প্রদান বা এসব বাজে কাজে ব্যবহৃত হয়। এসব এ্যাপের অন্য কোনো ভালো উদ্দেশ্য নেই। এখন জানিনা তিনি কোনো গোনাহে জড়িয়ে পড়ছেন কিনা। আমি কাছে থাকলেও উনার ফোনে আমার এতো এক্সেস নাই, কিন্তু অন্তত আর্লি ঘুমান, আমার সাথে সময় কাটান। দিনের বেলা তো ব্যস্ততা থাকে, রাতেই পদস্খলনের সুযোগ। আমি দূরে থাকার ফলে হয়তো আরও সহজ হচ্ছে গোনাহে জড়ানো। (উল্লেখ্য, আমি এগুলো দেখে কষ্ট পাই, নাসীহাও করি, উনার সাথে আমার মুহাব্বাত দূর্বল হয়ে গেছে, বন্ডিংও কেমন যেন হয়ে গেছে, মাঝে মাঝে ঘৃণাও হচ্ছে। কখনো মন চাচ্ছে তাকে ছেড়ে চলে যাই)
এখন প্রশ্ন হলো-
১. এই অবস্থায় আমি কি বাবার বাড়িই থাকবো, নাকি ফিরে যাবো? প্রথম সন্তান বলে ডেলিভারির ব্যাপারেও একটা ভয় কাজ করে। সেখানে গেলে আমাকে যত্ন করার কেউ নেই, গেলে আমার নিজেকে স্যাক্রিফাইস করে যেতে হবে। আমি গেলেই যে সব ঠিক হবে তার গ্যারান্টি নাই, বড়জোর আমি উনাকে সময় দিতে পারবো। আবার আমি যেতে চাইলে তিনি না করেন, বলেন এই অবস্থায় এতো লম্বা জার্নির দরকার নাই। যেতে চাইলে শশুর শাশুড়িও না করেন আমার ও সন্তানের সুস্থতার জন্য, আমার নিজের মা-বাবাও না করেন। কিন্তু তাদেরকে তো বুঝাতে পারছি না আমার ভিতরে কি চলছে এসব দেখে।
আমার স্বামী যদি কোনোরূপ গোনাহে লিপ্ত হন, তাহলে কি এর দায় আমারও নিতে হবে? আমারও কি তার হক নষ্ট করার গোনাহ হবে? (মাসনা করতেও আমার নিষেধ নাই, তবে উনার নিজেরই আর্থিক সামর্থ্য নাই আপাতত, আর পরিবারকে ভয় পান মাসনা করার ব্যাপারে, সেজন্য মাসনাও সম্ভব হবে না)
২. উনার দ্বীনের বুঝ আছে, অনলাইনে এবং অফলাইনে তিনি মানুষের কাছে দ্বীনি ব্যক্তিত্ব, উনার আমলিয়াতও ভালো আলহামদুলিল্লাহ। শুধু নন-মাহরামের ফিতনার ব্যাপারে গাফিল। আমি এ পথ থেকে কিভাবে তাকে ফেরাতে পারি? নাসীহা করলে বুঝেন, পরে আবার আমাকে লুকিয়ে চ্যাটিংয়ে মেয়েদের সাথে কথাও বলেন। আমার হৃদয় ভেঙে গিয়েছে এসব দেখে, কেননা দ্বীনদার ব্যক্তি হিসেবে তার কাছে উত্তম চরিত্র এবং গায়রতবোধ আশা করেছিলাম।