আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
71 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (2 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ উস্তায,
আমার বান্ধবীর তরফ থেকে প্রশ্ন:

আমাদের বিয়ের প্রায় এক বছর হয়েছে। এর মাঝে আলহামদুলিল্লাহ আমি ৬ মাসের গর্ভাবস্থায় আছি। আমি একমাস আগে বাবার বাড়িতে চলে আসি ডেলিভারিসহ সকল সুবিধার জন্য। আমার শশুর বাড়ির সবাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খুশি হয়ে। আমার শশুর বাড়ি এবং বাবার বাড়ির ব্যবধান ৮-১০ ঘন্টার বাস জার্নি। এ পরিস্থিতিতে আমার স্বামীর সাথে দূরত্ব হয়ে গেছে, কেননা এতদূর থেকে উনার আসা-যাওয়া সম্ভব হবে না। যেহেতু ডেলিভারির আরও দেরি, অর্থাৎ মে মাসে সম্ভাব্য তারিখ সুতরাং প্রায় জুন-জুলাই পর্যন্ত বাবার বাড়ি থাকবো। এতে করে স্বামীর সাথে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে। তিনি ব্যস্ত থাকায় এবং লং জার্নি হওয়ায় শুধু শুক্রবারের জন্যও আসতে পারবে না। রোজা ঈদের ছুটিতে আসবে শুধু। আমার বাবার বাড়িতে আসা তার অনুমতিতেই হয়েছে।
এখন মূল কথা হচ্ছে, আমার স্বামী প্রায়ই পরনারীর সাথে কথা বলে। আমি বাবার বাড়ি চলে আসাতে আরও দেখতে পাচ্ছি, রেগুলার না, কিন্তু বলে। দু'দিন আগে দেখলাম তিনি একটি ডেটিং এ্যাপ ইন্সটল করেছেন, এসব এ্যাপ মূলত ফাহিশা কথা, ফ্লার্টিং, বাজে ছবি আদান-প্রদান বা এসব বাজে কাজে ব্যবহৃত হয়। এসব এ্যাপের অন্য কোনো ভালো উদ্দেশ্য নেই। এখন জানিনা তিনি কোনো গোনাহে জড়িয়ে পড়ছেন কিনা। আমি কাছে থাকলেও উনার ফোনে আমার এতো এক্সেস নাই, কিন্তু অন্তত আর্লি ঘুমান, আমার সাথে সময় কাটান। দিনের বেলা তো ব্যস্ততা থাকে, রাতেই পদস্খলনের সুযোগ। আমি দূরে থাকার ফলে হয়তো আরও সহজ হচ্ছে গোনাহে জড়ানো। (উল্লেখ্য, আমি এগুলো দেখে কষ্ট পাই, নাসীহাও করি, উনার সাথে আমার মুহাব্বাত দূর্বল হয়ে গেছে, বন্ডিংও কেমন যেন হয়ে গেছে, মাঝে মাঝে ঘৃণাও হচ্ছে। কখনো মন চাচ্ছে তাকে ছেড়ে চলে যাই)
এখন প্রশ্ন হলো-

১. এই অবস্থায় আমি কি বাবার বাড়িই থাকবো, নাকি ফিরে যাবো? প্রথম সন্তান বলে ডেলিভারির ব্যাপারেও একটা ভয় কাজ করে। সেখানে গেলে আমাকে যত্ন করার কেউ নেই, গেলে আমার নিজেকে স্যাক্রিফাইস করে যেতে হবে। আমি গেলেই যে সব ঠিক হবে তার গ্যারান্টি নাই, বড়জোর আমি উনাকে সময় দিতে পারবো। আবার আমি যেতে চাইলে তিনি না করেন, বলেন এই অবস্থায় এতো লম্বা জার্নির দরকার নাই। যেতে চাইলে শশুর শাশুড়িও না করেন আমার ও সন্তানের সুস্থতার জন্য, আমার নিজের মা-বাবাও না করেন। কিন্তু তাদেরকে তো বুঝাতে পারছি না আমার ভিতরে কি চলছে এসব দেখে।

আমার স্বামী যদি কোনোরূপ গোনাহে লিপ্ত হন, তাহলে কি এর দায় আমারও নিতে হবে? আমারও কি তার হক নষ্ট করার গোনাহ হবে? (মাসনা করতেও আমার নিষেধ নাই, তবে উনার নিজেরই আর্থিক সামর্থ্য নাই আপাতত, আর পরিবারকে ভয় পান মাসনা করার ব্যাপারে, সেজন্য মাসনাও সম্ভব হবে না)

২. উনার দ্বীনের বুঝ আছে, অনলাইনে এবং অফলাইনে তিনি মানুষের কাছে দ্বীনি ব্যক্তিত্ব, উনার আমলিয়াতও ভালো আলহামদুলিল্লাহ। শুধু নন-মাহরামের ফিতনার ব্যাপারে গাফিল। আমি এ পথ থেকে কিভাবে তাকে ফেরাতে পারি? নাসীহা করলে বুঝেন, পরে আবার আমাকে লুকিয়ে চ্যাটিংয়ে মেয়েদের সাথে কথাও বলেন। আমার হৃদয় ভেঙে গিয়েছে এসব দেখে, কেননা দ্বীনদার ব্যক্তি হিসেবে তার কাছে উত্তম চরিত্র এবং গায়রতবোধ আশা করেছিলাম।

1 Answer

0 votes
by (763,650 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

কুরআনের ঘোষনা হলঃ-

ﻭَﻋَﺎﺷِﺮُﻭﻫُﻦَّ ﺑِﺎﻟْﻤَﻌْﺮُﻭﻑ

নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপন কর। (সূরা নিসা-১৯)

হাদীস শরীফে এসেছে-

عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَمْرِو بْنِ الأَحْوَصِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي أَنَّهُ، شَهِدَ حَجَّةَ الْوَدَاعِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَذَكَّرَ وَوَعَظَ فَذَكَرَ فِي الْحَدِيثِ قِصَّةً فَقَالَ " أَلاَ وَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا… أَلاَ وَحَقُّهُنَّ عَلَيْكُمْ أَنْ تُحْسِنُوا إِلَيْهِنَّ فِي كِسْوَتِهِنَّ وَطَعَامِهِنَّ " .

সুলাইমান ইবনু আমর ইবনুল আহওয়াস (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্র থেকে বর্ণিতঃ

বিদায় হজ্জের সময় তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন। তিনি আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং ওয়াজ-নাসীহাত করলেন। এ হাদীসের মধ্যে বর্ণনাকারী একটি ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ স্ত্রীদের সাথে ভালো আচরণের উপদেশ নাও। ... জেনে রাখ! তোমাদের প্রতি তাদের অধিকার এই যে, তোমরা তাদের উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করবে। (সুনানে তিরমিযী ১১৬৩)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি কোথায় থাকবেন, সেটা আপনার ও আপনার স্বামীর সিদ্ধান্ত।

এক্ষেত্রে সকলে মিলে যেহেতু আপনার বাবার বাসায় থাকার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন, পাশাপাশি প্রথম ডেলিভারি হওয়ায় আপনারও অনেক ভয় রয়েছে, এমতাবস্থায় বাবার বাসায় থাকাকে ভালো মনে করলে বাবার বাসাতেই থাকতে পারে।

নতুবা গর্ভের যদি কোন ক্ষতি না হয় সেক্ষেত্রে আপনি এমনও করতে পারেন যে আপনার গর্ভের বয়স যখন সাত মাস বা সাড়ে সাত মাস হবে তখন আপনি বাবার বাসায় চলে আসলেন এর আগ পর্যন্ত আরো এক থেকে দেড় মাসের জন্য স্বামীর কাছে গিয়ে থাকলেন, আপনি চাইলে এমনটিও কেউ করতে পারেন।

সাধারণ বাসে যাতায়াত মুশকিল হলে সেক্ষেত্রে স্লিপিং বাসে যাতায়াত করতে পারেন।

উল্লেখ্য, আপনি যদি আপনার স্বামীর অনুমতিক্রমে আপনার বাবার বাসাতেই থাকেন,আর স্বামী যদি কোনোরূপ গোনাহে লিপ্ত হন, তাহলে এর দায় আপনারও নিতে হবেনা। আপনার তার হক নষ্ট করার গোনাহ হবেনা।

(০২)
তাকে তাবলীগে পাঠিয়ে দিতে পারেন। এক চিল্লা বা তিন চিল্লা সময় লাগালে ইনশাআল্লাহ তার আমলে উন্নতি হবে,উপরোক্ত সমস্যা মিটে যাবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...