আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
80 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (2 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ উস্তায,
আমি লং টাইমের জন্য বাবার বাড়িতে এসেছি। আমাদের বিয়ের এক বছর হয়েছে। আমি এখন তার সন্তানের মা হতে চলেছি আলহামদুলিল্লাহ। বাবার বাড়িতে ডেলিভারির ইচ্ছে ছিলো, তাই আসা। এখন আমার স্বামীর সাথে আমার দূরত্ব অনুভব হচ্ছে, যদিও আমি তাকে অনেক মিস করি।
আমরা যখন দুইজন একই বাসায় থাকি আমার তখন ভালো সময় কাটে। তিনি দ্বীন মেনে চলার চেষ্টা করেন, আমলের দিক থেকে ভালো আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু তিনি বিবাহিত জীবন, পরিবার, স্ত্রী-সন্তান এসব ব্যাপারে কেমন জ্ঞানী তা জানিনা, আর তাছাড়া এটা মানুষের অভিজ্ঞতারও বিষয়। বিবাহিত জীবন অভিজ্ঞরা ছাড়া কেউ বুঝে না।
আমার স্বামী সবদিক থেকে বুঝদার হলেও তিনি প্রায়ই অনলাইনে নারী ফিতনা থেকে নিজেকে হিফাজত করতে পারেন না। গায়রে মাহরাম নারী মেসেজ দিলে গায়রতহীন কথাবার্তাও হয়ে যায়। আমি রাগ করি, কষ্ট পাই, পরে আবার মন শক্ত করে বুঝানোরও চেষ্টা করি।
আমি দূরে থাকলে, অর্থাৎ বাবার বাড়িতে আসলে তিনি আমার সাথে যোগাযোগ করেন না, আমার খোঁজ খবর নেন না। কল তো দূরের কথা, মেসেজও দেন না। আমি নিজে থেকে নক করলে উত্তর দেন। আমি জানি, তিনি ব্যস্ত থাকেন সারাদিন। কিন্তু আমি তবুও উনার একটা মেসেজের অপেক্ষাও করি। বর্তমানে আমার বাবা বাইক এক্সিডেন্ট করেছেন। তিনি আসতে পারবেন না ব্যস্ততা এবং দূরত্বের জন্য তা মানলাম। কিন্তু কল করেও একটা খোঁজ নেননি, আমার নিজেকে লজ্জিত লাগছে এজন্য। এছাড়া আমাকেও আপডেট জিজ্ঞেস করেন না, স্বান্তনা দেন না। এজন্য এবার মনে মনে রাগ করে আমিও মেসেজ দিই না।


প্রথমদিকে আমাদের দুজনের সম্পর্ক সুন্দর ছিলো। কাছে বা দূরে, সকল অবস্থায়ই একে অপরকে সময় দেয়া হতো। এখন সেটা হচ্ছে না। অথচ মানসিকভাবে আমার এখন বেশি দরকার।
এখন আবার তিনি চাচ্ছেন মাসনা করতে। আমার কোনো বাঁধা নাই, আল্লাহ তো বাঁধা দেয়ার অধিকার দেননি। কিন্তু আমি চাইনা তিনি এখনই মাসনা করুন। কেননা, আমাদের নিজেদেরই এখনো সংসার শুরু হয়নি, সন্তান আসবে দুনিয়াতে। একটা সন্তানের দায়িত্ব কেমন হয় তাও আমরা দুজন এখনো জানিনা। তারউপর আমি নিজেও উনার উপর থেকে মানসিক ভরসা হারিয়ে ফেলেছি, আরেকটা স্ত্রী এসে কতটুকু ভরসা করতে পারবে উনাকে!! সত্যি বলতে, মন থেকে বললে, আমি বলবো উনি আমার কাছে উত্তম স্বামীর সংজ্ঞায় পড়েন না, আমিও পারিনি হয়তো উত্তম স্ত্রী হতে। কারণ আমিও সংসার জীবনে ভুল করেছি। তবে আমি উনার কাছে ক্ষমা চেয়েছি, আর আমি আমার ভুল ধরে দিলে শুধরানোর জন্য প্রস্তুত। আমি চাচ্ছি দুজন দুজনকে আরও সময় দিই, আরও বোঝাপড়া হোক, সন্তান পালনের অভিজ্ঞতা হোক। এরপর যদি মনে হয় দ্বিতীয় আরেকটা সংসার তিনি ইনসাফসহকারে গড়তে পারেন তাহলে মাসনা করুন, সমস্যা নাই। কিন্তু আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে, তিনি ইনসাফ পারবেন। তিনি আমার সাথেই পরিপূর্ণ উত্তম হতে পারেন নি। আমার সাথেই তার আচরণ কেমন যেন। আপন হওয়া দূরের কথা, পর পর লাগে এখন তাকে। আর তাছাড়া উনার ইনকাম সীমিত আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের ঋণ আছে, প্রয়োজন আছে। আমার যাকাত আর কুরবানি ওয়াজিব হয়েছে গয়নার জন্য, এগুলোও এখনো দিইনি। উনি ট্যাবু ভাংগতে মাসনা চাচ্ছেন। অথচ ট্যাবু ভাঙার মতো সমাজে আরও অনেক মিশন থাকতে পারে। এমন না যে, নির্দিষ্ট কোনো নারীর প্রতি উনার টান, এখান থেকে বের হতে পারছেন না তাই বিয়ে জরুরি, এমন কিছুও না।


আমি চাচ্ছি, আমাদের সম্পর্কটা সুন্দর করতে। উনি আগে বুঝুক প্রথম স্ত্রীর দায়িত্ব কি! আমিও চেষ্টা করবো স্বামীর জন্য উত্তম স্ত্রী হতে। কিন্তু না তিনি আমার সহায় হচ্ছেন আর না আমি সুযোগ পাচ্ছি। জীবনটা যেন অগো৯ছালো হয়ে গেছে।

যাই হোক, এই অবস্থায় কিছু প্রশ্ন-

১. আমি কি ডেলিভারির ঝুঁকি নিয়েও আমার স্বামীর কাছে চলে যাবো?
২. উনি কি মাসনা করার জন্য উপযুক্ত?
৩. আমার সাথে দূরত্ব সৃষ্টি করে দেয়া এবং আমার এই বিপদের অবস্থায় উনার মাসনার সিদ্ধান্ত নেয়ার ফলে আমার যে কষ্ট অনুভব হচ্ছে তা কি জুলুমের আওতায় পড়ে?
৪. মাসনা করা নাকি না করার পরামর্শ দিবেন উস্তায? (পরিবারের কাছে গোপন রেখে বিয়ে করার ইচ্ছা, কারণ পরিবার বাঁধা দিবে এবং মাসনা বিধান নিয়ে কুফরি কথা বলে ফেলার আশংকা আছে)
৫. আমার খোঁজ খবর রাখা, আমার সাথে উত্তম কথা বলা এগুলো কি স্ত্রীর হকের অন্তর্ভুক্ত? (আমি উনার অনুমতিতে বাবার বাড়ি এসেছিলাম, তবুও আমি যদি দূরে আসার মাধ্যমে উনার হক নষ্ট করে থাকি, তাহলে অবশ্যই উনার কাছে ফিরে যাবো ইনশাআল্লাহ)
৬. এটা আমি উনার কাছে পাঠাবো, দয়া করে উনার উদ্দেশ্যে কিছু নাসীহা দিন মিন ফাদ্বলিক
৭. আমার জন্য এই অবস্থায় কি নাসীহা থাকবে?
৮. তিনি যদি আমাকে গুরুত্ব না দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেই ফেলেন, তাহলে কি আমি এমন শর্ত দিতে পারবো যে, " ইনসাফ রক্ষা না হলে আমি তার জীবন থেকে চলে যাবো আমার সন্তানসহ"??

1 Answer

0 votes
by (805,980 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রথম স্ত্রীর অনুমতি জরুরী বা শর্ত নয়।তবে সমতা রক্ষা করতে না পারলে দ্বিতীয় বিবাহ করা জায়েয হবে না।
فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ مَثْنَىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً [٤:٣]
সেসব মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে, একটিই [সূরা নিসা-৩]

প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে বিয়ে করলে যদিও শরীয়তের দৃষ্টিতে বিয়ে হয়ে যায়, তথাপি সরকারি নিয়মকে ফলো করে প্রথম স্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে বিয়ে করা উচিৎ।এতেকরে বর্তমান সময়ের অনেক প্রকার ফিতনা ফাসাদ থেকে পরিবারকে রক্ষা করা যায়।লুকিয়ে বিয়ে করা কখনো কোনো মুসলিম যুবক যুবতির জন্য কাম্য হতে পারে না। বরং প্রকাশ্যে সবাইকে জানিয়েই বিয়ে করা উত্তম ও মুস্তাহাব। তাছাড়া এক্ষেত্রে প্রথমা স্ত্রী খুশীও হবে।আর স্ত্রীকে খুশী করা অত্যান্ত প্রশংসনীয় কাজ।

وَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا، فَإِنَّهُنَّ خُلِقْنَ مِنْ ضِلَعٍ، وَإِنَّ أَعْوَجَ شَيْءٍ فِي الضِّلَعِ أَعْلاَهُ، فَإِنْ ذَهَبْتَ تُقِيمُهُ كَسَرْتَهُ، وَإِنْ تَرَكْتَهُ لَمْ يَزَلْ أَعْوَجَ، فَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا
হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, আমার নিকট হতে নারীদের সাথে সদাচরণের উপদেশ গ্রহণ কর। তাদেরকে পাঁজরের হাড় দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং হাড়ের মধ্যে সর্বাধিক বাঁকা হাড় হল উপরেরটি। [সেই হাড় হতেই নারীদের সৃষ্টি করা হয়েছে]। অতএব তুমি যদি তা সোজা করতে চাও তবে ভেঙ্গে ফেলবে। আর ঐভাবে ফেলে রাখলে সর্বদা উহা বাঁকাই থাকবে; সুতরাং তোমরা নারীদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে। {বুখারী, হাদীস নং-৫১৮৬}
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: “أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خلقا، وخياركم خياركم لنسائهم”
হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, মুমিনদের মধ্যে পূর্ণতর মুমিন সেই ব্যক্তি, যার আচার আচারণ উত্তম। আর তোমাদের মাঝে উত্তম সেই ব্যক্তি যে তার স্ত্রীদের কাছে উত্তম। {সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৪১৭৬}
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” إِنَّ مِنْ أَكْمَلِ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا، أَحْسَنَهُمْ خُلُقًا، وَأَلْطَفَهُمْ بِأَهْلِهِ
হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, মুমিনদের মাঝে সেই ব্যক্তি অধিকতর পূর্ণ মুমিন, যে ব্যক্তি সদাচারী এবং নিজ পরিবারের জন্য কোমল এবং অনুগ্রহশীল। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২৪২০৪, তিরমিজী, হাদীস নং-২৬১২}
এসব হাদীসের আলোকে বুঝা যায় যে, দ্বিতীয় বিয়ের সময় প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেয়াটাই উচিত।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/37852

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
মোটকথা, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করা উচিত। এবং প্রথম স্ত্রী মানসিক ভাবে প্রস্তুত হওয়ার পরই দ্বিতীয় বিয়ে করা উচিত।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...